ঢাকাSunday , 19 April 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুমিল্লা জেলা পরিষদের কাজে অতীতের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না—প্রশাসক

Link Copied!

অতীতে কুমিল্লা জেলা পরিষদকে জনমুখী করার কোন সদিচ্ছা ছিল না দায়িত্বশীলদের। দলমতের ঊর্ধ্বে থেকেও এই প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রম সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও তা করা হয়নি, বরং গত দেড় দশকে একটি স্বৈরাচার সরকারের বিরোধীমতের মানুষরা জেলা পরিষদের সেবা প্রাপ্তির বদলে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কুমিল্লা জেলা পরিষদের কাজে অতীতের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
আগামীদিনে কুমিল্লার উন্নয়ন, জেলা পরিষদের কাজের স্বচ্ছতা ও এটিকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। আশির দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা, নব্বইয়ের রাজপথের লড়াকু সৈনিক ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের আপোশহীন কারানির্যাতিত নেতা মো. মোস্তাক মিয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিকের দায়িত্ব পালন করছেন। এরমধ্যে গত ১৬ মার্চ তিনি কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নবনিযুক্ত প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে বিশ্বাস ও আশা নিয়ে আমার কাঁধে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের গুরু দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন, ইনশাল্লাহ আমি এই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার আধুনিকায়ন, কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবো। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত কাজের পরিবেশ এবং আগের স্থবিরতা কাটিয়ে জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা পরিষদকে কার্যকর ও জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রধান লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করে নিয়মিত ও সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আমি নিজেও সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে আসছি এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারিদেরও নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নবনিযুক্ত প্রশাসকদের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেই আলোকে আমরা কাজ শুরু করেছি। মোস্তাক মিয়া বলেন, জেলা পরিষদের কাজ মূলত উন্নয়ন এবং জনসেবামূলক। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরাসরি কাজ করার বেশ সুযোগ রয়েছে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে অবহেলিত জনপদে রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণ করে জনগণের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টিরও সুযোগ রয়েছে। সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করে আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দিয়ে জনজীবনের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল করা এবং জনমানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, গত দেড় দশকে কুমিল্লা জেলা পরিষদের কাজে কী হতো, এটা কমবেশি আমরা সবাই অবগত ছিলাম। কিন্তু আমাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ার পর আমি স্পষ্টভাবে এই প্রতিষ্ঠানের ও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে দিয়েছি কাজে স্বচ্ছতা ফেরাতে হবে, অতীতের কোন অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য এখানে চলবে না। এই প্রতিষ্ঠানকে জনগণের সেবার বাতিঘরে পরিণত করার জন্য সবই করতে হবে, সাধারণ মানুষ সেবা নিতে বা কাজের জন্য এসে যাতে মনে করে, জেলা পরিষদে গেলে কাজ হবে।দলমত নির্বিশেষে সর্বসাধারণের জন্য জেলা পরিষদের দুয়ার উন্মুক্ত থাকবে। প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, দেড় দশক জেলা পরিষদকে জনমুখী করা সম্ভব হয়নি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের মাস খানেক হচ্ছে, সবকিছুরই খোঁজখবর নিচ্ছি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের কার্যপরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। কাজের ব্যাপ্তি অনুযায়ী লোকবল কম। এ অবস্থায় আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে ধাপে ধাপে কার্যক্রমকে গতিশীল ও উন্নয়নমুখী করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। একই সঙ্গে কাজের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে যেসব প্রকল্প চলমান আছে এগুলোর গুণগত মান ও গুরুত্ব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরমধ্যে যেসব কাজ জনগুরুত্বহীন বা কম গুরুত্বপূর্ণ কিংবা রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের কারণ হতে পারে, এমন কাজ বাতিলও করা হতে পারে। জেলা পরিষদের বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার করা জানিয়ে প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, আগেই বলেছি, ১৭ উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের বিস্তৃতি। এখানে জেলা পরিষদের বিপুল পরিমান খালি জায়গা রয়েছে, যা অতীতে নানা কৌশল অবলম্বন করে দখল করা হয়েছে। এসব জায়গার তালিকা করে তা উদ্ধার করা হবে। এছাড়াও জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রনাধীন যেসব বাস টার্মিনাল রয়েছে বিগতদিনে এগুলো ইজারায় কোন অনিয়ম, অস্বচ্ছতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়ক এলাকায় যাত্রী ছাউনিগুলো যাতে সুন্দরভাবে ব্যবহার করা যায় এবং যাত্রী ছাউনি দখল করে দোকানপাট চালানোর ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। স্বজ্জন ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত কুমিল্লা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মোস্তাক মিয়া কুমিল্লার ভবিষ্যত উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে বলেন, কুমিল্লা একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক ও অগ্রসর জেলা। দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার। তাই সরকারি অর্থ ও সম্পদের সঠিক ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দলমত নির্বিশেষে কুমিল্লার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কুমিল্লার পর্যটন খাতকে আরও উন্নয়ন করতে হবে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, যানজটমুক্ত ও পলিথিনমুক্ত নগর গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকতে হবে, পুকুর, দিঘী, জলাধারগুলো রক্ষা করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি কুমিল্লার উন্নয়নের পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।