আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির ঐতিহাসিক পরমাণু-সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ১২ বছরের পরমাণু-সংক্রান্ত বিসংবাদের অবসান ঘটলো। বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে এ ঐতিহাসিক সমঝোতা-চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতায় ইরান ও জাতিসংঘের স্থায়ী পাঁচ সদস্য এবং জার্মানি একটি পছন্দসই পরমাণু-সমৃদ্ধকরণ-সীমারেখা টেনেছেন। এ সীমারেখা-নীতিতে ইরানও যেমন সন্তুষ্ট, একইভাবে সন্তুষ্ট ছয় পরাশক্তি। এ সমঝোতা-চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে এবার বছরাধিকালব্যাপী আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধের শেকল ইরানের ওপর থেকে সরিয়ে নেয়া হবে। এতে আনুামানিক তিন মাস সময় লাগবে।
এ সমঝোতার আওতায় ইরান পারমাণিবক সেন্ট্রিফিউজএর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনবে। সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্র গ্যাসীয় ইউরেনিয়ামকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির স্তরে প্রক্রিয়াকরণে সমর্থ। বর্তমানে ইরানের ২০,০০০ সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্র কার্যকর আছে বলে জানা যায়। এটিকে কমিয়ে ৫০০০এ নিয়ে আসা হবে। সমৃদ্ধকৃত স্টকপাইলগুলোকে নিষ্ক্রীয় করা হবে। একটি প্লুটোনিয়াম সমৃ্দ্ধকরণ চুল্লি নতুন করে নির্মাণ করা হবে, যে চুল্লিতে পারমাণবিক অস্ত্র-অনকূল বিক্রিয়া সংঘটিত হচ্ছিল বলে বলা হচ্ছিল। জাতিসংঘ নির্বাচিত তদন্ত সংঘের সদস্যদের সরেজমিন তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে।
ইরানের সঙ্গে পরমাণু-চুক্তি নিয়ে বিবাদকে অত্যন্ত ঘোরালো দিকে মোড় নিতে দেখেছিল বিশ্ববাসী। বারংবার নবায়নকৃত অসংখ্য চুক্তি কখনও ইরান কখনও ছয় পরাশক্তি; বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র মানতে পারেনি, যে কারণে সন্ধি বিনষ্ট হয়েছে। বলা হচ্ছে, মার্কিন ও ইরানী কূটনীতিকদের অসংখ্য বিনিদ্র রজনী কেটেছে আজকের এ দিনটিকে তৈরির জন্যে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ সমঝোতা-চুক্তিকে ‘উত্তম চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই সমঝোতাকে ‘দ্বিপাক্ষিক বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
জানা যায়, গত ১৮ মাস যাবত প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে অসংখ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দফায় সমঝোতায় পৌঁছানোর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ইরানের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান হাসান রুহানি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, এ চুক্তিকে ঘিরে সৃষ্ট ধোঁয়াশায় তা বাস্তবায়িত হয়ে উঠছিল না। অবশেষে লুজান দুই পক্ষের জন্যেই একটি সৌভাগ্যবাহী শহর হতে পেরেছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার এ ঐতিহাসিক সমঝোতা-চুক্তি নিয়ে সবাই যখন উত্তেজিত, তখন সংশয় প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামেন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যরা। অতীতেও এ দুঁয়ের সখ্য ও সহমত পরিলক্ষিত হয়েছে। ওবামা বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে এ সমঝোতা নিয়ে খোলাখুলি আলাপ করবেন বলে জানান।

