নিজস্ব প্রতিবেদক: শুল্ক, ভ্যাট ও আয়করের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে তা সমন্বয় করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
বুধবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি করেন তারা। রাজস্ব বোর্ডের আয়োজনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় সেবা খাতের হাসপাতাল, ডায়ানস্টিক সেন্টার, হোটেল-রেস্তরাঁ, ট্যুরিজম, কাগজ ও মুদ্রন শিল্পসহ ৪৪ টি সংগঠন অংশ গ্রহন করেছেন।
সভায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ও বাজেট প্রণয়ন কমিটির সদস্য মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সবাই কর দিতে চান। তবে সেক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করের আওতায় আসবে। তখন বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করা রয়েছে। সব ব্যবসায়ীর পক্ষে এ ভ্যাট দেওয়া সম্ভব নয়। ট্যুরিজম, সিকিউরিটি সার্ভিস, মানি এক্সচেঞ্জ, ছোট হোটেল-রেস্তোরা, কুরিয়ার সার্ভিসসহ কম লাভজনক ব্যবসা ও শিল্প এ হারে ভ্যাট দিলে তারা জাতীয় উন্নয়নে অংশ করার আগেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এসব ছোট ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রে ভ্যাট সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে। কখনও কখনও ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।’
এফবিসিসিআইর পরিচালক আব্দুল হক বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন টিকিয়ে রাখার জন্য সবাইকে কর দিতে হবে। তবে ছোট ও মাঝারী ব্যবসায়িদের ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে দিলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। এতে অর্থনীতির অগ্রগতি ব্যাহত হবে। ছোট ও মাঝারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিন্হিত করে ভ্যাট কমিয়ে দিতে হবে। তাহলে বেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় আসবে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। যা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।’
প্রাক বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানি মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে ৭০০ সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবসা পতিষ্ঠান আছে। এরমধ্যে মাত্র ১০০ কোম্পানি সরকারকে ভ্যাট রেজিষ্টেশন করেছে। ফলে ভ্যাট প্রদান করছে না এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসায় টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সবাইকে ভ্যাটের আওতায় আনওত হবে।’
হোটেল মালিক সমিতির চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বলেন, ‘একটি ফাইভ স্টার হোটেল ও নন ফাইভ স্টার বা সাধারণ হোটেলের সমান ভ্যাট দিতে হয়। ছোট হোটেল ও রিসোর্টগুলোর গ্রাহক হয় সাধারণ মানুষ। এখানে লাভ করা কঠিন। করের স্লাবটি একই রকম হওয়ায় লোকসান দেয়ার আশঙ্কায় অনেকেই কর দেয় না। তাই প্রতিষ্ঠান হিসেব করের স্লাব পূণর্বিন্যাস করে এর হার কমালে সবাই করের আওতাভূক্ত হবে।’
ট্যুর অপারেটস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)এর সভাপতি প্রফেসর ড. আকবর উদ্দিন আহমাদ বলেন, ‘আমাদের দেশের পর্যটনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই এখাতে সরকার সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণ করতে পারে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ খাতের ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নে শুল্কমুক্ত গাড়ী আমদানির দাবী জানান তিনি।
এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ খাতে কর হারের কমানো ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি করেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘করদাতা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরন করা হবে। তাই প্রাক বাজেট আলোচনা রাজধানী ছাড়াও সাড়া দেশে করা হবে। যাতে কর দিতে ব্যবসায়িদের সুবিধা অসুবিধার কথা শুনতে পারবো। কর দিতে কোনো অসুবিধা হলে রাজস্ব বোর্ডের গঠিত টিম পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার সমাধান করবে।’
প্রাক বাজেট আলোচনায় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন অনুবিভাগের সদস্য, বাজেট প্রণয়ন কমিটির সদস্য, ট্যারিফ কমিশন ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

