মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া হোয়াইট হাউসে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে পারবেন না। এক মার্কিন বিচারক এই নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ইস্ট উইং ভেঙে সেখানে ৯০ হাজার বর্গফুটের একটি বড় বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং কাজও শুরু করেছিলেন। মঙ্গলবার জেলা বিচারক রিচার্ড লিওন ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন নামে একটি সংস্থার করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণকাজে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দেন।
আরও পড়ুন
ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র? কি বলছেন ট্রাম্প
সংস্থাটি অভিযোগ করেছিল, ঐতিহাসিক ভবন ভেঙে নতুন নির্মাণ শুরু করে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। বিচারক লিওন বলেন, ‘আইনে প্রেসিডেন্টকে এমন প্রকল্প একতরফাভাবে করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের মালিক নন, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর তত্ত্বাবধায়ক। তাই কংগ্রেসের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে হবে। তবে তিনি বলেছেন, হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বা সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ এই আদেশে বাধাগ্রস্ত হবে না।
এই রায়ের ফলে মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলরুম প্রকল্পটি স্থগিত থাকবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে আপিল করার সুযোগ দিতে বিচারক তার আদেশ ১৪ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই বিচার বিভাগ ওয়াশিংটন ডিসির আপিল আদালতে আবেদন করেছে।
ন্যাশনাল ট্রাস্টের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত আমেরিকান জনগণের জন্য একটি বড় বিজয়, কারণ এই প্রকল্প হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ন্যাশনাল ট্রাস্টকে ‘বামপন্থী উন্মাদদের একটি দল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, বলরুমটি বাজেটের মধ্যেই এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া এটি করদাতাদের অর্থ ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে এবং এটি বিশ্বের সেরা বলরুমগুলোর একটি হবে। ট্রাম্প এই বলরুমকে হোয়াইট হাউসের একটি বড় সংযোজন এবং তার প্রেসিডেন্সির একটি স্থায়ী প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সূত্র : আলজাজিরা

