আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাশ্চাত্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় বেশ খ্যাতিসম্পন্ন। এই বিশ্ববিদ্যলয়ের অধীনে রয়েছে প্রায় ৩১টি পৃথক পৃথক কলেজ। যে কলেজগুলো থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা শেষ করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যায়। আবার এই কলেজগুলোর নিয়ন্ত্রনে আছে অনেকগুলো স্কুল। আনুমানিক ১৫৯৬ সালের দিকে এই বিশ্ববিদ্যলয়টির সূচনা হয়। শুরুতে ডাউনিং কলেজ দিয়ে শুরু করলেও একে একে অনেকগুলো কলেজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।
দীর্ঘবছরের ঐতিহ্যে হঠাৎ করেই যেন ভাটা পরেছে। শুধু ভাটা বললে ভুল বলা হবে, কেমব্রিজের অধ্যাপক থেকে শুরু করে কৃতি শিক্ষার্থীদেরও বিপাকে ফেলে দিয়েছে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। ১১৯৫ সালের দিকে কেমব্রিজ নিকটস্থ মেডিয়েভ্যাল হাসপাতালের নিজস্ব কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু ইতিহাসের কোথাও এই ঘটনা উল্লেখ নেই যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটির তলাতেই আছে গণকবর।
নৃতাত্ত্বিকরা বর্তমানে পুরাতন ডিভাইনিটি স্কুলের(ভিক্টোরিয়ান যুগের স্থাপত্যকর্ম) মাটির তলায় খনন কার্য চালাচ্ছেন। এই মাটির তলাতেই প্রায় ১৩০০ মানুষের এক গণকবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ১৫১১ সালের দিকে এদের এখানে সামাধিস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এত মানুষকে একসঙ্গে কোন কারণেই বা গণকবর দেয়া হয়েছিল তা আজও রহস্যে মোড়া।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, মেডিয়েভ্যাল হাসপাতালের তলদেশ থেকে পাওয়া মৃতদেহের হাড় এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে। ব্রিটেনে আবিষ্কৃত গণকবরগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে প্রাচীন। ডিএনএ পরীক্ষার পরই মূলত সঠিক করে বলা সম্ভব হবে ওই লাশগুলো কাদের। পুরাতন ডিভাইনিটি স্কুলের মেঝে খুড়ে এই খননকার্য চালানো হচ্ছে। ছয়মাস ধরে খননকার্য চালানোর পর সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ৪০০টি লাশের কঙ্কাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আরও ৯০০টি কঙ্কাল অবশিষ্ট রয়েছে এখনও।
কেমব্রিজের নৃতাত্ত্বিক দলের সদস্য ক্রেইগ চেসফোর্ড বলেন, ‘আমারা জানতাম যে এই এলাকায় একটি কবরস্থান ছিল। কিন্তু এটা জানতাম না যে ঠিক ডিভাইনিটি স্কুলে গড়ে উঠেছিল ওই কবরের নিচে। প্রাপ্ত বেশিরভাগ কঙ্কালের মানুষের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ এর মধ্যে। লাশগুলো সব নেটে জড়িয়ে এক স্থানে জড়ো করে কবর দেয়া হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো কঙ্কালগুলোতে কোনো ক্ষত বা কোনো রোগের চিহ্ন আমরা এখনও সনাক্ত করতে পারিনি।’

