আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিশর এবং সিরিয়াসহ বিশ্বে গতবছর মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা আশঙ্কজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত বছর বিশ্বে ২৪৬৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড সাজা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় পাকিস্তানেরও কড়া সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি। গত ডিসেম্বরে পেশোয়ারের এক আর্মি স্কুলে ভয়াবহ তালেবান হামলায় দেড়শ জন নিহত হওয়া পর নিষেধাজ্ঞাটি তুলে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। এর আগে সাত বছর ধরে নিষেধাজ্ঞাটি বহাল ছিল। এটি তুলে নেযার পর গত এক মাসে দেশটিতে বহু কয়েদিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।
২০১৪ সালে ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে চীন ও নাইজেরিয়ায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে চীন ছাড়া অন্যান্য দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার কমেছে কমেছে বলে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে অ্যামনেস্টির গ্লোবাল ইস্যু বিভাগের পরিচালক অড্রে গাউগরান সংবাদ সংস্থা এএফপি’কে বলেছেন,‘২০১৪ সালে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’ তিনি আরো বলেছেন, এই সাজাকে কিছুতেই ন্যায়বিচার হিসেবে মেনে নেয়া যায় না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বিশ্বে ২৪৬৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড সাজা দেয়া হয়েছে যা ২০১৩ সালের তুলনায় ২৮ ভাগ বেশি। এছাড়া গত বছর বিশ্বে ৬০৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০১৩ সালের তুলনায় এই হার ২২ শতাংশ কমেছে। তবে এই প্রতিবেদনে চীনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনাবলী যুক্ত করা হয়নি। কেননা সমাজতান্ত্রিক দেশটিতে ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিশেষ গোপণীয়তা রক্ষা করা হয়ে থাকে। ধারণা করা হয়, বিশ্বে সবদেশ মিলিতভাবে যে সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় শুধু চীনেই তারচে বেশি সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
পরিচালক অড্রে গাউগরান আরো বলছেন,‘ এরকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, সহিংস অপরাধ বা সন্ত্রাসবাদকে নিরুৎসাহিত করতে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছে।’
২০১৪ সালে বিশ্বের ২২টি দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালেও একই সংখ্যক দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। গতবছর ইরানে ২৮৯ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকার করে নেয়া হলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে এই সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে ৪৫৪ জন। এছাড়া সৌদি আরবে ৯০ জন, ইরাকে ৬১ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
মিশরে প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যূত করার পর গত ২ বছরে গণআদালতে শত শত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে কট্টর ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকারের দমনের অংশ হিসেবেই এই মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে। গণআদালতের এই বিচার প্রক্রিয়া ত্রুটিমুক্ত নয় বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়ে থাক।
২০১৪ সালে নাইজেরিয়ায় ৬৫৯ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫ শতাধিক।

