দেশে অধিকাংশ গণপরিবহনে ধূমপানের প্রবণতা কমে এসেছে। একইসঙ্গে ধূমপানের অভিযোগ পেলে ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিবহনকর্মীরা পদক্ষেপ নেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ডেভলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস) এবং বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অবস্থাবিষয়ক কমপ্লায়েন্স মনিটরিং সার্ভের ফলাফল প্রকাশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
ডাস পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী গণপরিবহন, বাস টার্মিনাল ও নদীবন্দর ধূমপানমুক্ত ঘোষিত হলেও বাস্তবায়নে এখনও ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে টার্মিনাল এলাকায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, বেসলাইন জরিপে যাত্রীদের মধ্যে ধূমপায়ীর হার ছিল ৪৩.৯৭ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে ৩৭.৯৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ৮০ শতাংশের বেশি যাত্রী মনে করেন, গত এক বছরে যানবাহনের ভেতরে ধূমপান কমেছে এবং ৯৭ শতাংশ যাত্রী ধূমপানমুক্ত গণপরিবহনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ৭১ শতাংশ যাত্রী জানিয়েছেন, টার্মিনাল এলাকায় ধূমপানের পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
৫৪ শতাংশ যাত্রী ধূমপায়ীদের মুখোমুখি হতে সংকোচ ও সম্ভাব্য বিরোধের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তবে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ জানালে ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিবহনকর্মীরা ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে যাত্রীরা উল্লেখ করেছেন।
গবেষণায় আইন বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দুর্বল আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, অস্পষ্ট প্রয়োগ নির্দেশনা, জনসমাগমস্থলে ধূমপানকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক মনে করা, পর্যাপ্ত জনবল সংকট ও জরিমানার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়।
এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও যৌথ অভিযান জোরদার, দৃষ্টান্তমূলক জরিমানার ধারাবাহিক প্রয়োগ, চালক ও কন্ডাক্টরের দায়িত্ব নির্দিষ্টকরণ, যানবাহন লাইসেন্সিং ও পরিদর্শনে তামাক নিয়ন্ত্রণ শর্ত যুক্ত করা, যানবাহন ও টার্মিনালে স্থায়ী সাইনেজ স্থাপন, টার্মিনাল এলাকায় তামাক বিক্রয় ও ট্যাপস নিষিদ্ধকরণ, পরিবহনকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
ডাসের প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী মোয়াজ্জেম হোসেন টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিনিয়র সচিব ও ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের সিনিয়র কারিগরি পরামর্শক হামিদুর রহমান খান। তিনি বলেন, বাসের ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা গেলেও নৌপথে বাস্তবায়নের চিত্র স্পষ্ট করতে পৃথক গবেষণা প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাসের টিমলিড আমিনুল ইসলাম বকুল। বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সাবেক সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার। গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন ডাসের কনসালটেন্ট আসরার হাবিব নিপু।
এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম তাহিন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

