ঢাকাSaturday , 28 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কিছু করে দেখাতে চেয়েছিলেন জার্মান পাইলট

Link Copied!

garmaniআন্তর্জাতিক ডেস্ক : দেড়শ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত জার্মানউইংসের এ-৩২০ এয়ারবাসের কো পাইলট আন্দ্রিয়াস লাবিটজ তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন রেখেছিলেন। ব্ল্যাকবক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে বুধবারই কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন লাবিটাজ স্বেচ্ছায় বিমানটিকে আল্পসে আছড়ে ফেলেছিলেন।
এদিকে জার্মান গণমাধ্যমে খবর বেড়িয়েছে প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের পরই মানসিক সমস্যা দেখা দেয় লাবিটাজের। তিনি তার প্রেমিকাকে বলেছিলেন, একদিন তিনি এমন কিছু করে দেখাবেন যারা মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন আসবে এবং সবাই তার নাম জানবে।
মঙ্গলবার দেড়শ আরোহী নিয়ে স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা করে জার্মানির ডুসেলডর্ফ যাওয়ার পথে ফ্রান্সের আল্পস পর্বতমালায় বিধ্বস্ত হয় স্বস্তায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থা জার্মানউইংসের এয়ারবাস এ-৩২০।  বৃহস্পতিবার বিমানটি ব্ল্যাকবক্সের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,  বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার দশ মিনিট আগে পাইলট ককপিট থেকে বেরিয়ে যান, সম্ভবত টয়লেটে যাওয়ার জন্য। কো-পাইলট আন্দ্রিয়াস লাবিটজ ককপিটে ছিলেন একা এবং ককপিটের দরোজা বন্ধ ছিল। লাবিটজ  ইচ্ছা করেই বিমানটি নিচের দিকে নামাতে থাকেন। পাইলট টয়লেট থেকে ফিরে এসে ককপিটের দরজায় অনেকবার আঘাত করলেও তিনি দরজা খোলেননি।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, লাবিটাজ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তার এই অসুস্থতার কথা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন করেছিলেন।
শনিবার লাবিটাজের জার্মানির ডুসেলডের্ফের বাড়ি এবং ফ্রাংকফুর্টে তার মা-বাবার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে একটি কম্পিউটারসহ কিছু জিনিসপত্র জব্দ করেন তারা। এর মধ্যে কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে যেগুলি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। এগুলির তারিখ সাম্প্রতিক, এমনকি বিমান বিধ্বস্ত হবার দিনের তারিখও রয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, ডুসেলডর্ফে লাবিটাজের ফ্ল্যাটে পাওয়া এই ছেঁড়া ‘সিক নোটে’ দুর্ঘটনার দিন অসুস্থতার জন্য কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টির উল্লেখ ছিল। এতে ধারণা করা যায় , তিনি জার্মানউইংস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই অসুস্থতার কথা গোপন করেছিলেন।
তারা আরও জানান, লাবিটাজের বাড়ি থেকে তার আত্মহত্যার চিঠি পাওয়া যায়নি । এছাড়া তিনি যে স্বেচ্ছায় বিমানটিকে মাটিতে আছড়ে ফেলে ধ্বংস করেছেন, এর পেছনে কোন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্য থাকার প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
এদিকে শুক্রবার রাতে জার্মানির সংবাদমাধ্যম ব্লিডকে লাবিটাজের সাবেক প্রেমিকা বলেছেন, গত বছর লাবিটাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। এরপর প্রায় লাবিটাজ বলতেন একদিন তিনি কিছু করে দেখাবেন। এর মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন আসবে এবং তারপর সবাই আমার নাম জানবে ও আমাকে মনে রাখবে।
তিনি আরো বলেন, ‘যখন মঙ্গলবার বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পেলাম তখন লুবিৎজের ওই বক্তব্যটি আমার মনে পড়ে গেল। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি তিনি এই অর্থে কথাগুলো বলতেন। এখন সেটা বুঝতে পারছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘তার ব্যক্তিগত সমস্যা ও আচরণগত সমস্যা ছিল মারাত্মক। এ কারণেই তাকে ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিই। যখন বিমানটি বিধ্বস্তের কথা শুনলাম তখন আমার কানে তার ওই বক্তব্যগুলো বাজছিল।’
দীর্ঘ সাত বছর ডডুসেলডর্ফে উপকণ্ঠের একটি জাকজমক ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন তারা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর মতে, তাদের আংটি বদল হয়েছিল। আগামী বছর তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ।