আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জার্মানউইংয়ের কো-পাইলট ২৮ বছরের আন্দ্রিয়াস লাবিটজ ছয় বছর আগে প্রচণ্ড হতাশাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। আর এ কারণে নিয়মিত মানসিক রোগ বিষয়ক চিকিৎসকের সহায়তা নিতেন। জার্মান দৈনিক বিল্ড শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার দেড়শ আরোহী নিয়ে স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা করে জার্মানির ডুসেলডর্ফ যাওয়ার পথে ফ্রান্সের আল্পস পর্বতমালায় বিধ্বস্ত হয় স্বস্তায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থা জার্মানউইংসের এয়ারবাস এ-৩২০। বৃহস্পতিবার বিমানটি ব্ল্যাকবক্সের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার দশ মিনিট আগে পাইলট ককপিট থেকে বেরিয়ে যান, সম্ভবত টয়লেটে যাওয়ার জন্য। কো-পাইলট আন্দ্রিয়াস লাবিটজ ককপিটে ছিলেন একা এবং ককপিটের দরোজা বন্ধ ছিল। লাবিটজ ইচ্ছা করেই বিমানটি নিচের দিকে নামাতে থাকেন। পাইলট টয়লেট থেকে ফিরে এসে ককপিটের দরজায় অনেকবার আঘাত করলেও তিনি দরজা খোলেননি।
জার্মান দৈনিক বিল্ড জার্মানউইংসের মূল প্রতিষ্ঠান লুফথানসা এয়ারলাইনসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০০৯ সালে প্রচন্ড হতাশাজনিত মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন আন্দ্রিয়াস লাবিটজ। সে সময় চিকিৎসকের সরনাপন্ন হলে তার অবস্থার উন্নতি হয়। কিন্তু তিনি কর্মরত অবস্থায়ও নিয়মিত মানসিক চিকিৎসকের কাছে যেতেন।
লুফথানসার সিইও কারস্টেন স্পোহর জানান, ২০০৮ সালে পাইলট ট্রেনিং শুরু হওয়ার পর লাবিটজ ‘একটি নির্দিষ্ট সময়’ পর্যন্ত সেটি বাতিল করেন। তবে এর বেশি কিছু তিনি জানাননি। পরবর্তীতে লাবিটজ পাইলটের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং এয়ারবাস এ-৩২০ এর কো-পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেন।
বিল্ড জানিয়েছে, যে সময়টিতে লাবিটজ তার ট্রেনিং বাতিল করেছিলেন ওই সময় তিনি ‘ হতাশা ও উদ্বেগজনিত’ সমস্যায় আক্রান্ত হন।

