ঢাকাThursday , 26 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেলায় ‘গলা কাটছে’ খাবার দোকানিরা

Link Copied!

ctgচট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে বাণিজ্য মেলায় আসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুক আহমেদ শামীম। ঘোরাফেরার এক ফাঁকে ক্ষুধা মেটাতে ঢুকে পড়েন ঢাকাইয়্যা কাবাব ও চটপটি হাউজে। খেয়ে ফেলেন চার প্লেট ফুচকা ও দুই লিটার পানি। খাওয়া শেষে হোটেল বয় ধরিয়ে দেয় গলাকাটা দাম এক হাজার টাকার বিল। পরে অনেক তর্কাতর্কির পর ৬শ টাকা বিল দিয়ে আসেন শামীম ও তার বন্ধুরা।
মাসুক আহমেদ শামীম বলেন, ‘মেলার বাইরে এক প্লেট ফুচকা দাম ৩০টাকা। মেলার ভেতরে এক প্লেট (৮টি) ফুচকার দাম রাখা হচ্ছে একশ টাকার বেশী। এ বিষয়ে অভিযোগ দেব এবং এ অনুযায়ী কেউ ব্যবস্থা নেবে এরকম কেউ নেই।’
এ বিষয়ে ঢাকাইয়্যা কাবাব ও চটপটি হাউজের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজের পরিচয় না দিয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছুই বলার নেই।’ মেলার অপর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রমনা কাবাব ও চটপটি হাউজে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দুই স্টলের মালিক একজন। মালিক ওইখানে আছে। ওনার সাথে কথা বলুন।’
রমনা কাবাব ও চটপটি হাউজে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
বুধবার সরেজমিন নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ঘুরে খাবার দোকানের অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিষয়ে বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ অবহিত করার জন্য মেলা প্রাঙ্গণে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি।
মহসিন কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাক আহমেদ  বলেন, ‘রাজধানীর চটপটি নামের একটি দোকানে এক প্লেটের মধ্যে ৭টি ফুচকা দিয়েছিল। দাম রাখা হয়েছে একশ টাকা। গলাকাটা এই দাম শুনে অবাক হলেও কিছুই করার নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ দেয়ার জন্যও কাউকে পাচ্ছি না।’
অভিযোগ রয়েছে, মেলার আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ অপকর্ম করে আসছে হোটেল মালিকরা। এ জন্য তদারকিও করা হচ্ছে না। উচ্চ দামে বিক্রির কারণে খাবারের স্টলগুলোতে লোক সমাগম কম। খাবারের দাম ও মান সম্পর্কে না জেনে যারা যাচ্ছেন, তারাই প্রতারিত হচ্ছেন।
মেলায় আসা পটিয়া কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল আউয়াল রাজা বলেন, ‘মেলায় এসে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকি খাবারের স্টলগুলো থেকে। পকেট না কেটে গলা কেটে দেয় খাবারের দোকানিরা।’
ফারজানা ইয়াসমিন নামের এক গৃহবধু  বলেন, ‘বাণিজ্য মেলায় কখনও দাম জিজ্ঞেস না করে খাবার খাই না। মেলার খাবার দোকানিরা কেমন তা আমি জানি… আর চটপটি, ফুচকা ভাল করে যে তৈরী করে না, তা মশলার বাটি দেখলে বুঝা যায়।’
তরিকুল ইসলাম হাছান নামের একজন ব্যাংকার ক্ষুব্ধ হয়ে  বলেন, ‘বাণিজ্য মেলার খাবারের দোকানগুলো আর ফুটপাতের দোকানগুলোর মান একই। খাবার বিক্রির নামে ইচ্ছামত ডাকাতি করছে, দেখার কেউ নেই। মেলায় এত নিম্নমানের দোকান আছে, সত্যি অবাক হতে হয়।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী বলেন, ‘বাণিজ্য মেলায় অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগটি প্রতিবছরই পাওয়া যায়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে মেলার আয়োজকসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হবে।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক যোবায়ের আহমদ বলেন, ‘গত বছর বাণিজ্য মেলায় আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। নানা অভিযোগে অনেককে জরিমানাও করা হয়েছিল। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে বর্তমানে আমরা অভিযান পরিচালনা করতে পারছি না। ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ পেলেও মেলা মনিটরিং করা যাচ্ছে না।’
এদিকে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাণিজ্য মেলা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ সেলিম এর গ্রামীণ নাম্বারে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বাণিজ্য মেলায় নিম্নমানের পণ্যের ছড়াছড়ি!
    অরক্ষিত বাণিজ্য মেলায় চাঁদাবাজি!