আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মঙ্গলবার আল্পস পর্বতের গায়ে জার্মানির যাত্রীবাহী বিমানটি আছড়ে পড়ার আগে ককপিট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন এক পাইলট। পরে তিনি ফের ককপিটে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। এক তদন্তকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা।
বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য থেকে উড়োজাহাজটি কেন বিধ্বস্ত হয়েছে তা জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার ওই উড়োজাহাজের দ্বিতীয় ব্ল্যাকবক্সের অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এদিকে অজ্ঞাতনামা এক তদন্ত কর্মকর্তা ওই পত্রিকাকে জানিয়েছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে দুই এক পাইলটের একজন ককপিট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনি আর ককপিটে ফিরতে পারেননি।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেছেন,‘ওই পাইলট বাইরে থেকে হালকাভাবে দরজায় ধাক্কা দেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ আসছিল না। পরে তিনি জোরে ধাক্কা দেন। এরপরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’
তবে ওই পাইলট ক্যাপ্টন, না ফার্স্ট অফিসার ছিলেন তদন্তকারীরা সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।
সংবাদ সংস্থা এএফপি একই কথা উল্লেখ করেছে।
তবে বিমানের ওই দুই পাইলটই দক্ষ এবং তাদের দীর্ঘ সময় ধরে উড়ার অভিজ্ঞতা ছিল বলে জার্মানউইংস জানিয়েছে।
মঙ্গলবার এয়ারবাস এ-৩২০ বার্সিলোনা থেকে ডাসেলডরফ যাওয়ার পথে পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে দেড়শ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের স্বজনরা বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রওয়ানা হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার জার্মানউইংস’য়ের দুটি বিশেষ বিমানে করে তারা সেখানে যাবেন। বার্সেলোনা এবং ডুয়েসসেলডরফ থেকে শোকার্তদের বহনকারী বিমানটি ফ্রান্সের মার্সেলের দিকে যাচ্ছে।
এদিকে জার্মানউইংস কোম্পনির প্রধান টমাস উইনকেলমেন জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত বিমানের ৭২ জন জার্মান এবং ৫১ জন ফরাসি নাগরিক। বাকিরা অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রিটেন, ইরান, ভেনেজুয়েলা, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ড, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, জাপান, ডেনমার্ক এবং ইসরায়েলের নাগরিক।

