ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: একাত্তরের ২৩ মার্চ পিলখানায় বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উড়িয়েছিলেন যে সাতজন তার মধ্যে অন্যতম মো. রেজাউল হক।
তৎকালীন ইপিআর (বর্তমান বিজিবি) গোয়েন্দা শাখায় সরকারি চাকরি করতেন তিনি। পাকিস্তানি অফিসারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ৭ মার্চ তিনি হাজির হয়েছিলেন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে।
পিলখানায় পতাকা উত্তোলনের পর ২৫ মার্চ কালরাতে সেখানে হামলা চালায় পাকিস্তানিরা। এসময় কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলে আসেন রেজাউল হক। এরপর সোজা চলে যান ভারতে আগরতলায়। ইপিআরে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় ২নং সাব সেক্টরের গোয়েন্দা শাখার প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয় তার হাতে। তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব নিরাপত্তা শাখা। আর নিরাপত্তা শাখার তথ্যের বিনিময়ে চলে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ।
সরেজমিনে জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সেনানী সুবেদার মেজর (অব.) রেজাউল হক। জন্ম ১৯৪০ সালের ১৫ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটিয়ারা গ্রামে। বর্তমানে থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টিএনটি পাড়ায়। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক রেজাউল হক। ১৯৬৩ সালের ১০ আগস্ট যোদ দেন ইস্ট পাকিস্তান রেজিমেন্ট (ইপিআর) এ।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ পাকিস্তানি অফিসারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে যার রেসকোর্স ময়দানে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার পর দেশ স্বাধীন করার জন্য প্রবল মনোবল সৃষ্টি হয়। এরপর ২৩ মার্চ পিলখানায় প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর সময় তিনিও ছিলেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানিরা পিলখানায় হামলা চালায়। সেখান থেকে প্রাণরক্ষা করে তিনি চলে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এর মধ্যে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এসময়ই তার সঙ্গে দেখা হয় তৎকালীন ক্যাপ্টেন বর্তমানে মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আইন উদ্দিনের সঙ্গে। তার পরামর্শেই জীবন বাজি রেখে ভারতের আগারতলার চারিপাড়া এলাকায় ২নং সাব সেক্টরের গোয়েন্দা শাখায় যোগদান করেন। আর ২নং সাব সেক্টরের প্রধান ছিলেন ক্যাপ্টেন (অব.) মোহাম্মদ আইন উদ্দিন। তার নির্দেশে চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়েই গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসাবে কাজ শুরু করেন তিনি।
রেজাউল হকের এলাকা ছিল ভারতের সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থেকে বিজয়নগরের সিঙ্গারবিল পর্যন্ত। আর এ গোয়েন্দা শাখায় তিনি পাকিস্তানিদের মোকাবেলা করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছিলেন। প্রথমে শুরু করেন ৩ জন বয়স্ক আর ৭জন শিশু মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে। পরে আরও অনেকেই যোগ দিয়েছিল তাদের সাথে। তাদের দেয়া তথ্য অনুসারে মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনিং করে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করত। এছাড়া পাকিস্তানিদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের ওপর হামলা চালানো হত। তাদের তথ্যের কারণে প্রতিটি সম্মুখ যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল মুক্তিবাহিনী।
মুক্তিযুদ্ধকালীন ২নং সাব সেক্টরের গোয়েন্দা শাখার প্রধান, সুবেদার মেজর (অব.) মো. রেজাউল হক জানান, দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই তিনি সুবেদার মেজর হতে পেরেছেন বলে জানান। অন্যদিকে আজকে যারা দেশের সবচেয়ে বড় আসনটিতে বসে আছেন তারা দেশে স্বাধীন হয়েছে বলেই পেরেছেন। তাই তাদের উচিৎ দেশের সার্বিক মঙ্গল নিয়ে চিন্তা করা।
রেজাউল বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর আমার কোন চাওয়া পাওয়া নেই। স্বাধীন দেশের নাগরিক এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। তবে তিনি দাবি করেন তার সাথে যারা যুদ্ধ করেছেন এমন অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পান নি। তাই তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখে যেতে চান তিনি।

