ঢাকাWednesday , 25 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বাধীনতাপদক হন্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী : আমরা ধ্বংস নয়, শান্তি চাই

Link Copied!

PMনিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে জঙ্গি কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত করতে ও চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, মানুষ ধ্বংস চায় না, শান্তি চায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধ্বংস ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড নয়, আমরা শান্তি ও উন্নয়ন চাই। আমরা চাই বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠবে এবং এদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে। আমরা চাই বাংলাদেশ ও এর জনগণ বিশ্বমঞ্চে মর্যাদাশীল আসনে আসীন হবে।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু কিছু মানুষ বা কিছু মহল ও দলের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে এবং অন্যদের করুনায় এগিয়ে যাবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’
শেখ হাসিনা আজ সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত স্ব-স্ব ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও অনন্য অবদানের জন্য ৭ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় খেতাব স্বাধীনতা পদক-২০১৫ প্রদানকালে একথা বলেন।
বৃহত্তর সিলেটে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকার জন্য কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী (মরণোত্তর), ১৯৭১ সালে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তার জন্য পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর হাতে নিহত মামুন মাহমুদ (মরণোত্তর), ১৯৭১ সালে ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মকালে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে জনমত সংগঠনকারী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া (মরণোত্তর), সাহিত্যে অবদানের জন্য বিশিষ্ট সাহিত্যিক প্রফেসর আনিসুজ্জামান, শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশিষ্ট অভিনেতা আবদুর রাজ্জাক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বিশিষ্ট কৃষি বিষয়ক গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ হোসেইন মন্ডল এবং সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য প্রখ্যাত সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত (মরণোত্তর) এ পদক লাভ করেন।
পদকপ্রাপ্তদের পক্ষে প্রফেসর আনিসুজ্জামান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেইন ভূইঞা পদকপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ সম্মাননা পাঠ করেন।
প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনীতিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর অনেক দেশ দ্রুত ব্যাপক উন্নয়ন করেছে, কিন্তু বাংলাদেশ বার বার পিছিয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, প্রত্যেকে জানেন কেন বাংলাদেশ পিছিয়েছে। কিন্তু আমরা আর পিছাতে চাই না। এ জন্য দেশে যে অগ্রগতি শুরু হয়েছে আমি তা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করি।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে পরিণত করতে তাঁর দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে পরিণত করতে পারবো।’
একই সঙ্গে তিনি এ আশাবাদও ব্যক্ত করেন যে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে-মধ্য আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে। আমি বিশ্বাস করে যে, বাঙালিরা এ কাজ করতে পারবে। কারণ তারা যে কোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতি উত্তরণে তাঁর প্রত্যয়ের কথা ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনছে।
দেশ যখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে তখন বিএনপি-জামায়াত দেশের চলমান অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে ৫ জানুয়ারি থেকে নাশকতা, ধ্বংস, জ্বালাও-পোড়াও চালিয়ে যাচ্ছে এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই চক্রের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির শিকার অগ্নিদগ্ধ মানুষদের পোড়া গন্ধে দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
তিনি প্রশ্ন করেন যে, কেনো এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এবং কার স্বার্থে বিএনপি-জামায়াত জোট মানুষ পুড়িয়ে মারছে এবং জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশ ও জনগণের উন্নয়ন ব্যাহত করতে নাশকতা ও জঙ্গি কর্মকা- চালাচ্ছে। তাদের এ ধ্বংসযজ্ঞ প্রায় তিন মাস ধরে চলছে এবং আমরা ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি।
তিনি বলেন, আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবো। কারণ আমরা জানি মানুষ এই জঙ্গি কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। তারা আমাদের সঙ্গে রয়েছে। কিন্তু আমরা এটা চাই না যে, মানুষ এমন নৃশংসভাবে মারা যাবে এবং একটি পরিবার ধ্বংস হবে।
বিএনপি-জামায়াতের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বয়কটের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যে কোন নেতা বা দলের ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্যই তাদেরই মাশুল দিতে হবে। কিন্তু এ জন্য কেনো দেশের জনগণ নৃশংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হবে।
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শেখ হাসিনা বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু বাঙালির অবিসংবাদিত নেতার আসনে অধিষ্ঠিত হন।
১৯৭৫ সালের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং এ দেশের বীর সন্তানদের আত্মোৎসর্গের ইতিহাস বিকৃত করার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে অভিযুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক একনায়ক জেনারেল জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা বানিয়ে রাজনীতিতে তাদের পুনর্বাসন করেছেন।
শেখ হাসিনা দুঃখ করে বলেন, অতীতে এমন সব ব্যক্তিকে স্বাধীনতার পদক দেয়া হয়েছে, যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি ও সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে করেছে।
দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ব্যাপক অবদান ও আত্মোৎসর্গের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্য আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগের জন্য নয় বরং দেশের জনগণের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত ও দেশকে মর্যাদাশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই হচ্ছে তাঁর সরকারের লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের স্বাধীনতা অর্থবহ করতে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বছর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত বিশিষ্টজনদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী প্রজন্ম পদকপ্রাপ্তদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের উন্নয়নে আরো অবদান রাখবে।