নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ২৬টি পাটকলের প্রায় ৮৫ হাজার শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সংগঠন রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদ মোড়ক আইন কার্যকরসহ কয়েকটি দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রায়াত্ত জুটমিল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বলেন, ‘পাট দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকারী ফসল। অতি সম্প্রতি পাটের জীন আবিষ্কার হওয়ায় এর সম্ভাবনা আরো বহুগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু এই অপার সম্ভাবনাময় পাটকে অপরের হাতে তুলে দিতে একটি চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলে কর্মরত প্রায় ৮৫ হাজার শ্রমজীবী মানুষ এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তিন কোটি মানুষ আজ উৎকণ্ঠিত।’
মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন অভিযোগ করেন, ‘এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে পথে বসানোর লক্ষ্যে গত পাট মৌসুমে মিলগুরোকে পাটক্রয়ের অর্থ যোগান দেয়া হয়নি। ফলে দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৬৫০ মেট্রিকটনের স্থলে মাত্র ২০০ থেকে ২২০ টনে নেমে এসেছে। পাট ক্রয় না করায় মিলগুলো বন্ধ এবং শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়- পলিথিনের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধকরণের আইন ‘মোড়ক আইন’ কার্যকর করা, পাটকলে শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের জন্য ঘোষিত মহার্ঘ ভাতা বাস্তবায়ন করা, চাকরিচ্যুত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পিএফ গ্রাচুয়্যাটির অর্থ প্রদান করা।
সোহরাব হোসেন বলেন, ‘পাটকল শ্রমিকদের মাসব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সব রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল গেটে আগামী ৫ এপ্রিল সভা, ৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ৮ এপ্রিল শিফটে শিফটে বিক্ষোভ মিছিল, ১০ এপ্রিল পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়, ১২ এপ্রিল মিলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, ১৫ এপ্রিল রাজপথে মানববন্ধন, ১৭ এপ্রিল শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক জনসভা, ১৯ এপ্রিল বুকে লাল ব্যাজ ধারণ করে বিক্ষোভ মিছিল, ২১ এপ্রিল শিফটে শিফটে মিছিল, ২৪ এপ্রিল শিল্প অঞ্চলে জনসভা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব এসএম জাকির হোসেন, কওছার আলী মৃধা, বিল্লাল মল্লিক, আবদুল মান্নান, সেলিম শিকদার প্রমুখ।

