ঢাকাMonday , 23 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমাদের কারখানায় বছরে ৪০ হাজার টেম্পু তৈরি হবে

Link Copied!

nitol-niloyনিজস্ব প্রতিবেদক: স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ শুধু নিজ ব্যবসা নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে ভাবছেন। এই উন্নয়ন ভাবনায় তার সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি ব্যবসায়ী সমাজকে সঙ্গে নিয়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান। আর এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) ২০১৫ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে অংশ নেয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ সংরক্ষণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্বন্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপে তার মতামত তুলে ধরেন।সাংবাদিকদের সঙ্গে মহাখালীর নিটল টাওয়ারে নিজ প্রতিষ্ঠানে আলাপ হয়।
ব্যবসায়ী সমাজের উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?
আমার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন সুযোগ পেলে ব্যবসায়িক সমাজকে সাথে নিয়ে ব্যবসায়িদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। আমি এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সচেষ্ট হব। এছাড়া আমি দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। দেশের সার্বিক উন্নয়নই আমার লক্ষ্য। উন্নয়নই আমার অঙ্গীকার। তবে ভালো ভালো পরিকল্পনাও দায়িত্বে না থাকলে বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। এ জন্য দায়িত্বে যাওয়া প্রয়োজন মনে করছি। অবশ্যই একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়। ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থই আমার কাছে সবচেয়ে আগে, কারণ ব্যবসায়ী বন্ধুদের স্বার্থ রক্ষা হলে প্রকারান্তরে সাধারণ জনগণই স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারবে।
নারীর উন্নয়ন বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী? আর এফবিসিসিআই এ নারীর অংশগ্রহণের বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
নারীদের শিক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। নারীরা শিক্ষিত হলে তারা নিজের অবস্থান বুঝতে পারবে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি আমাদেরকেও তাদের সহায়তা দিতে হবে। পরিচালনাকারী হিসেবে নারীরা উত্তম, কারণ একজন মা তার সংসার যে কোনো পরিস্থিতিতেই চালিয়ে রাখেন। তাদের হাতে অপচয় কম হয়। এফবিসিসিআই’র পর্ষদে নারীদের আরও এগিয়ে আসতে হবে। আমি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র পরিচালনা পর্ষদে ন্যূনতম ১০ শতাংশ নারী দেখতে চাই। এ ব্যাপারে আমি ভূমিকা রাখবো।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রাইভেট সেক্টরের ভূমিকা সম্বন্ধে আপনার পর্যবেক্ষণ…
আর্থ সামাজিক উন্নয়নে প্রাইভেট সেক্টরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন একটি বহুমাত্রিক কার্যক্রম, আর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার দ্বারাই তা করতে হবে। শুধু মাত্র সরকারের একার পক্ষে কাঙ্ক্ষিত আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত অংশ গ্রহণ জরুরি। উন্নয়ন প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। সরকারের কাজ ব্যবসা না। সরকার ব্যবসায়িদের জন্য অবকাঠামো, জ্বালানি, সার্বিক নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় প্রনোদনা ও শুল্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনগত সুবিধা নিশ্চিত করবে, অপরদিকে ব্যবসায়িরা এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করবে।
শিল্পায়নে আপনার পরিকল্পনা কী?
৩০ বছরের গার্মেন্ট শিল্পে বর্তমান রপ্তানির পরিমাণ ২৩ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আজ পর্যন্ত গার্মেন্টের কোনো মেশিন বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে না। সরকারকে মেশিন এবং মেশিনের যন্ত্রাংশের ফ্যাক্টরি তৈরিতে সহযোগিতা করতে হবে। যুগোপযোগী ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পলিসি তৈরি করতে হবে, যে পলিসিতে ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রির নিশ্চয়তা থাকবে। শিল্পনীতি হলে ৬৪ জেলায় প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হবে। এর ভেতর ৩০ শতাংশ প্লট নারী উদ্যোক্তাদের দেয়া হবে। ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্কে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাজস্ট্রি গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের এসএমই লোন সহজে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
দেশীয় ইন্ডাস্ট্রিতে যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হবে। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও গর্বিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে যত দ্রুত সম্ভব শিল্পায়ন ঘটাতে হবে। সেই সঙ্গে যতদ্রুত সম্ভব বিদেশ থেকে আমদানিকৃত শিল্পের মেশিনারিজের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে হবে।
আমি দেশের সকল অঞ্চলে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে শিল্প কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে অনেকগুলো শিল্প কারখানা স্থাপন করেছি। সম্প্রতি রাজশাহীতে বিশ্বখ্যাত গাড়ী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টাটার সহায়তায় হিউম্যান হলার প্রস্তুতের কারখানা নিলয়-ওসমান মোটর ইন্ড্রাস্ট্রিজ উদ্বোধন করা হয়েছে। কারখানাটি তৈরিতে মোট ব্যয় ২০ কোটি টাকা। বছরে ৪০ হাজার টেম্পু তৈরি করতে সক্ষম হবে এই কারখানা। এতে প্রায় ২০০ লোকের কর্মসংস্থান হবে।
দেশের ব্যাংকগুলোর সুদের হার কি বিনিয়োগবান্ধব মনে হয়?
ব্যাংকের সুদের হার আগে ১৭ থেকে ১৯ শতাংশ ছিল এখন ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। তবে সুদের হার ৯ শতাংশ করতে হবে। ব্যবসায়িরা এ ব্যাপারে খুবই সোচ্চার। যেকেনো ভাবেই হোক ব্যাংক সুদের হার ৯ শতাংশ করতে হবে। এ ব্যাপারে আমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবো।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ব্যাপারে কোনো সুপারিশ আছে কি?
বাংলাদেশে অনেক পন্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ইনসেনটিভ প্রদান করা হয়। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য অনেক রপ্তানি পণ্যে ৫ থেকে ২০ শতাংশ ইনসেনটিভ দেয়া হয়। কিন্তু প্রবাসীরা প্রতি বছর ১৪ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছে, অথচ তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশে আসার পর টাকা হিসেবে কমে যাচ্ছে। তাদের যদি ৫ শতাংশ হারে ইনসেনটিভ দেয়া হতো তাহলে তারা কমপক্ষে আরো ২ থেকে ৪ টাকা বেশি পেতো, এতে হুন্ডি ব্যবসাও কমবে, দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্সও বেশি আসবে। ফলে যারা কষ্ট করে বিদেশে অর্থ উপার্জন করছেন তারাও সহায়তা পাবে।
হরতাল-অবরোধের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। আপনি এই্ পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
গত এক বছর ব্যবসার সকল সেক্টরে একটা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ছিল। বর্তমানে হরতাল-অবরোধের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই ক্ষতি ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
চলমান হরতাল-অবরোধের ক্ষতি সামলাতে সরকারের প্রণোদনার বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
হরতাল অবরোধের দ্বারা ব্যবসায়ী বন্ধুদের যে ব্যবসায়িক ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে সরকারকে অবশ্যই প্রণোদনা দিতে হবে। এই প্রণোদনা পাওয়ার ব্যাপারে আমি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো।
বাংলাদেশে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে নিটল-নিলয় গ্রুপ কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে?
বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে নিটল-নিলয় গ্রুপ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন আছে।
আসন্ন এফবিসিসিআই এর ২০১৫ নির্বাচনে সারা দেশের চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের মাঝে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসাবে আপনার নাম চাউড় আছে।
আমার ব্যবসায়ী বন্ধুরা চাইলে অবশ্যই আমি তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবো। আমার প্রতি তাদের আস্থার মর্যাদা অবশ্যই রক্ষা করবো।