আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানাকেন্দ্রিক বিসংবাদে সৎ-মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যোগ দিতে চায় ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান জোকো উইদোদো জাপানের এ সংবাদপত্রে এ মত ব্যক্ত করেছেন। তবে বিসংবাদের বিষয়বস্তুকে ঘিরে তিনি একটি সংবেদনশীল মন্তব্য করেছেন, চীন যার বিপক্ষে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জোকোর ভাষ্য: জোকো উইদোদো বলেছেন- চীনের অন্যতম দাবি হচ্ছে দক্ষিণ চীন সাগরের বৃহত্তর অংশ। তাদের এ দাবির পেছনে আন্তর্জাতিক নীতিআশ্রয়ী কোনো ভিত্তি নেই। এক রাষ্ট্রীয় ভ্রমণে জাপানে আসার পর দেশটির গণমাধ্যম ইয়োমিউরিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি সোমবার প্রকাশিত হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রশান্ত-এশীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান তিনি এবং এটা সবার সার্বভৌম কল্যাণের জন্যেই জরুরী; বাণিজ্যিক কল্যাণের জন্যে তো বটেই। তবে মধ্যস্থতায় তিনি অবশ্যই আঞ্চলিক আচরণবিধি মেনে চলার দিকে জোর দেবেন। জোর দেবেন চীন-জাপান, চীন-আসিয়ান বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকেও।
কেন এ বিসংবাদ: এ মুহূর্তে দক্ষিণ চীন সাগর আঞ্চলিক বিসংবাদের অন্যতম উত্তপ্তবিন্দু। চীন এ সাগরের ৯০ শতাংশের মালিকানা দাবি করছে। তেল এবং গ্যাসে সবচেয়ে সমৃদ্ধ সমুদ্র-অঞ্চলগুলো ঐ ৯০ শতাংশে পড়েছে। চীনের মতো বিপুল পরিসরে মালিকানা দাবি না করলেও পিছিয়ে নেই আরও অনেকগুলো দেশ। জানা যায়, দক্ষিণ চীন সাগরের সমুদ্রপথে প্রতি বছর গড়ে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩৮৬ লক্ষ কোটি টাকার পসরা আসা যাওয়া করে। সুতরাং এ পথে মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হলে তা বিপুল মুনাফার উৎস হয়ে উঠবে, যার ওপর আঞ্চলিক আধিপত্য নির্ভর করছে অনেকটাই।
মালিকানার দাবিতে আর যারা: ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনস, ভিয়েতনাম এবং তাইওয়ান এ সাগরের নির্দিষ্ট অংশ দাবি করছে। চীনের সঙ্গে দেশগুলোর সম্পর্ক দিনের পর দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। এছাড়া চীনেআঞ্চলিক বিসংবাদে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছে জাপানের সঙ্গেও।

