আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানে গত সপ্তাহে কোরআন পোড়ানোর দায়ে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। কিন্তু কোরআন পোড়ানোর ওই অভিযোগ সত্যি নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির উর্ধ্বতন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
গত বৃহস্পতিবার কাবুলের পুলিশসহ একদল জনতা প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হত্যা করে ২৭ বছরের ফাখুন্দাকে। তাকে মসজিদের ছাদ থেকে নিচে ছুঁড়ে ফেলা হয় এবং ইট দিয়ে মাথা থেতলে দেয়া হয়। হত্যা করার পরও শেষ হয়নি তাদের নির্যাতন। ঘাতকরা তার মৃতদেহে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সবশেষে লাশ নদীতে ফেলে দেয় ।
তবে আফগানিস্তানের বেশিরভাগ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত ওই নারীর বিরুদ্ধে কোরআন পোড়ানোর যে অভিযোগটি আনা হয়েছে, সেটি সত্য নয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেনারেল মোহাম্মদ জহির রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,‘গত রাতে আমি সমস্ত তথ্য প্রমাণ ঘেটে দেখেছি। কিন্তু ওই অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ খুঁজে পাইনি।’
নিহত ওই আফগান নারীর ভাই নাজিবুল্লাহ বলেছেন, ফাখুন্দার বিরুদ্ধে কোরআন শরীফে আগুন দেয়ার যে অভিযোগ ওঠেছে তা সত্য। এছাড়া স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ফারখুন্দাকে মানসিক রোগী হিসেবে উল্লেখ করে যে খবর বেরিয়েছে সেটিও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ফারখুন্দা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং তিনি ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করতেন।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর দেশ জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পাশাপাশি দায়ীদের বিচারে দাবি করেছেন বিভিন্ন মানবাধিকার এবং নারী সংগঠনগুলো।এ ঘটনায় দেশটির প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি করা হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট গনি। তিনি হত্যাকারীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৩ জনের সবাইকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের আট জনই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে রোববার কাবুলে ফারখুন্দা’র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় শত শত মানুষ অংশ নেয়। তার বাবার অনুমতিক্রমে নিহতের কফিন অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামাজে জানাজার জন্য বয়ে নিয়ে যান বোরখা পরিহিত নারীরা। পরে কবরস্থানেও তারাই কফিন নিয়ে যান। ইসলামিক রীতি অনুযায়ী পুরুষরাই মুর্দাকে বহন করার কাজটি করে থাকে।

