ঢাকাThursday , 19 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শর্ত বাস্তবায়ন করেছি, ন্যায্য মূল্য দেন

Link Copied!

তোফায়েল আহমেদ-ফাইল ছবি

তোফায়েল আহমেদ-ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রানা প্লাজার ঘটনার পর আন্তর্জাতিকভাবে তৈরি পোশাকের ওপর অনেক শর্ত দেয়া হয়েছিল। আমরা সেসব শর্তের অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করেছি। শর্ত বাস্তবায়নে কারখানা ও উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাড়েনি উৎপাদিত পণ্যের দাম।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার দ্বিতীয় বছরপূর্তিকে সামনে রেখে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফ্রেমিং দ্যা ফিউচার’ শীর্ষক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফোয়েল আহমেদ।
শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে উল্লেখ করে তৈরি পোশাকের ন্যায্য দাম দেয়ার জন্য ক্রেতাদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশে ডেনমার্ক দূতাবাস এবং ড্যানিশ বাণিজ্য ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উচ্চ পর্যায়ের এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ড্যানিশ ও বাংলাদেশের বাণিজ্যক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতাসহ ২০০ জনের বেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘কারখানা চালানোর জন্য টাকা হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রানা প্লাজার পরে আমাদের কারখানাগুলোতে অগ্রগতি হয়েছে, তা ধরে রাখতে পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের প্রয়োজন। বিনিয়োগ থাকলে অবশ্যই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও গুণগত পন্য তৈরি করতে পারবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা থাকায় ইইউকে ধন্যবাদও জানান তোফায়েল।
বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমিকদের কোনো অসন্তোষ নেই- এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের জন্য ২১৯ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়িয়েছেন। বর্তমানে শ্রমিকরা নিম্নতম মজুরি পাচ্ছেন ৯৭ ডলার করে। সরকারের উদ্যোগ ও কর্মপরিবেশের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ নেই। প্রতিটি কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়নে ভোটের মাধ্যমে শ্রমিক নেতা নির্বাচন হচ্ছে। এটা আমাদের কথা না। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থা ‘ওয়ার্কার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউডব্লিউএ) কথা। তারা বলেছে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের মধ্যে কোনো ধরনের অসন্তোষ নেই। শ্রমিকরা সুন্দর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশে কাজ করছে।’
ড্যানিশ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী মগেন্স জেন্সেন সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এতে বিশেষ অতিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চন্নু।
জেন্সেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশ রানা প্লাজার দুর্ঘটনাকে পেছনে ফেলে অনেকদূর এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আরএমজি সেক্টরের সমন্বয়ে নতুন মান নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা প্রণয়ন হয়ে এবং পারস্পরিক সমঝোতার এক নতুন দ্বারা উন্মেচিত হয়েছে। যা বিশ্বের কোথাও আগে দেখা যায়নি। এই অবস্থায় বলা যায়, বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থই ভবিষ্যতের রূপরেখা বাস্তবায়ন করেছে।’
সম্মেলনে মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সহযোগিতার ভিত্তিতে তৈরি পোশাক শিল্পের বিগত দুই বছরের প্রাপ্তি ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা এবং এ দুই বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে আগামীতে রপ্তানি বাজার সমৃদ্ধ করা যায় পাশাপাশি শিল্পের সুনাম আরো বাড়িয়ে নেয়া যায়- এ বিষয় দুটির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কীভাবে বাংলাদেশের অন্যান্য শিল্পের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) আরো জোরদার করা যায়- সে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয় সম্মেলনে।
ড্যানিশ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী ৩ দিনের সফরে গত ১৭ মার্চ বাংলাদেশে পৌঁছান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে আরো এসেছেন ড্যানিশ কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্ট সেক্রেটারি এবং ড্যানিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের এপ্রিলে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ওই বছরের এপ্রিলে তৈরি পোশাকশিল্প খাতের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেনেভায় ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট’ গৃহীত হয়। সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্টে শ্রম আইন সংশোধন, শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ, ইপিজেড আইন সংশোধন, সাধারণের প্রবেশযোগ্য ডাটাবেজ স্থাপন, রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানা যাচাই-বাছাই, ২৩৬টি ট্রেড ইউনিয়নকে রেজিস্ট্রেশন প্রদান, ফায়ার সেফটি ডোর ও শিল্প-কারখানা নির্মাণের সামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ বিনির্মাণে ও শ্রমিকদের কল্যাণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৩৪ জন।