ঢাকাThursday , 19 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেতন কমেছে, এবার চাকরিও যাবে ১০০০ কর্মকর্তার!

Link Copied!

dutch-bangla-bankনিজস্ব প্রতিবেদক: মূল বেতন কমানো, ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেয়া ও পদোন্নতি স্থগিত করার পর এবার ক্যাশ ডিপার্টমেন্টের সেই এক হাজার কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার পাঁয়তারা শুরু করেছে ডাচ বাংলা ব্যাংক। এই কর্মকর্তারা এখন আছেন চাকরি হারানোর ভয়ে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বেতন কমানো, ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করা ও পদোন্নতি স্থগিত করার বিষয়টি ঘোষণা পাওয়ার পর অনেক কর্মকর্তাই বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এর মধ্যে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা প্রধানদের চিঠি দিয়ে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে- কারা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলছে বা বলতে চায়। চিঠির বিষয়টি ছিল, ‘কোনো কর্মকর্তা যদি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তাহলে তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টে রিপোর্ট করতে হবে’। আর চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সকল বিভাগীয় প্রধান ও শাখা ম্যানেজারদের কঠিনভাবে খুঁজে বের করতে বলা হচ্ছে- যেসব কর্মকর্তা কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গ করে শৃঙ্খলা নষ্ট করছে এবং এর প্রতিকার করতে বলা হয়েছে।’ চিঠিটি ইস্যু করা হয়েছে চলতি মাসের ৭ তারিখে।
বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাশ ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। তারা কার সঙ্গে কথা বলছেন, কী করছেন এসব বিষয়ে। তাদেরকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেয়ার জন্য। যাতে করে ছাঁটাইয়ের দোষটা কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে না পড়ে।
বেতন কমানোর পর চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনার কারণ হিসেবে জানা যায়, এসব কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে ইতোমধ্যে লিখিত চিঠি দিয়েছেন, আর এটা জানতে পেরেছে ডাচ বাংলা কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই তারা এদের উপর ক্ষুব্ধ। যে কোনো উপায়ে তাদেরকে ছাঁটাইয়ের চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ। কারণ, এরা চাকরিতে বহাল থাকলে এ নিয়ে কথা বলতেই থাকবে। আর নতুন নিয়োগ দিলে হ্রাসকৃত বেতনের লোক নেয়া যাবে।
এভাবে চাকরিরত অবস্থায় একটি পদের লোকদের বেতন কমিয়ে দেয়া বিরল ঘটানা। ঘটনা শুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এটা কেউ করতে পারে বলে আমার জানা নেই। তবে এভাবে বেতন কমিয়ে দেয়ার কোনো নিয়ম নেই, আর এটি ঘটারও কোনো সুযোগ নেই।’
তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ফোনে ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএস তাবরেজের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ব্যাংকটির জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহজাদা বসুনিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেতন কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে ব্যাংকের নিয়ম অনুসারেই। আর তাদেরকে চাকরি থেকে বাদ দেয়ার ব্যাপারে যে সব বলছেন তা মোটেও সত্য নয়।’
উল্লেখ্য, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড ক্যাশ ডিপার্টমেন্টের এক হাজার কর্মীকে বেআইনিভাবে পদাবনতি করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি অফিস আদেশে (নম্বর ২৬, ২০১৫) পদমর্যাদা কেড়ে নিয়ে নিচের পদে পদায়ন করা হয়েছে এসব কর্মীর। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্ট। পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছে নির্দিষ্ট পদ পর্যন্ত। ডাচ বাংলা ব্যাংকের ক্যাশ ডিপার্টমেন্টের উচ্চপদস্থ অফিসার-এক্সিকিউটিভদের ক্যাশ অফিসার গ্রেড ১ এর সমতুল্য চিফ ক্যাশ অফিসার করা হয়েছে।
এছাড়াও রয়েছেন ক্যাশ অফিসার গ্রেড-২ ও ৩ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশ অফিসার, জুনিয়র ক্যাশ অফিসার ও ট্রেইনি ক্যাশ অফিসার। একইভাবে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে চিফ ক্যাশ অফিসারের বেতনও।
আগে একজন অফিসার বা এক্সিকিউটিভ ৬৪ হাজার ২০০ টাকা বেতন পেলেও এখন ক্যাশ অফিসার গ্রেড ১ এ তার বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৫০ টাকা।
একইভাবে ক্যাশ অফিসার গ্রেড ২ ও ৩ এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, ৩০ হাজার ২শ ও ২৬ হাজার ২৫০ টাকা। অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশ অফিসার ২২ হাজার ৩শ, জুনিয়র ক্যাশ অফিসার ১৯ হাজার ৮২৫ ও ট্রেইনি ক্যাশ অফিসারের বেতন ১৭ হাজার ৪৫০ টাকা করা হয়েছে।
ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে সব বিভাগের সঙ্গে ক্যাশ ডিপার্টমেন্টের সব অফিসার-এক্সিকিউটিভদের সর্বোচ্চ পদ পর্যন্ত পদোন্নতি পাওয়ার বিধান থাকলেও এই আদেশের মাধ্যমে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডাচ বাংলা ব্যাংকের দেশব্যাপী বর্তমানে ২ হাজার ৭৩০টি এটিএম বুথ রয়েছে। নতুন করে স্থাপন করা হবে আরও দুই হাজারটি। এসব বুথে গ্রাহক টাকা তোলার পাশাপাশি জমাও দিতে পারবেন। টাকা তোলা ও জমা দেয়ার সাযোগ সুবিধা এটিএম বুথে থাকলে ক্যাশ অফিসার বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাহিদা কমে যাবে। যে কারণে তাদের সরাসরি ছাঁটাই না করে বেতন কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কারণ তারা মনে করছেন, বেতন কমিয়ে দিলে এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিলে এমনিতেই অনেকে চলে যাবে।