ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: আজ বিশেষ দিন। তাই বিশেষভাবেই পরিচ্ছন্নতার কাজ চলানো হয়। আর এতে জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতনরা শুধুমাত্র নির্দেশের জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকেন নি। যোগ দিয়েছেন পরিচ্ছন্নতার কাজে। ঝাড়ু-কোদাল হাতে নিয়ে পরিষ্কার করেছেন ময়লা-আবর্জনা।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে এ চিত্র দেখা মেলে। এতে জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্বাবধায়ক, ডাক্তারের হাতে ঝাড়ু ও কোদাল হতে পরিষ্কার করেন হাসপাতাল চত্বর আর ড্রেন। তাদের সঙ্গে নেন নার্স ও আইএইসটির শিক্ষার্থীদেরও।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বিশ্বের উন্নত দেশের ন্যায় পালিত হয় বিগ ক্লিন ডে। মঙ্গলবার সকাল থেকে হাসপাতালের সুইপার, আয়া, প্রহরী, সেবিকা ডাক্তার তত্ত্বাবধায়ক শুরু করেন হাসপাতাল পরিষ্কারের কাজ। টয়লেট, ড্রেন, ডাস্টবিন কোনো কিছুই বাদ থাকেনি। আর এই কার্যক্রমে অংশ নেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম, পৌর মেয়র আলহাজ সাইদুল করিম মিন্টু, সিভিল সার্জণ ডা. আব্দুস সালাম।
এ কার্যক্রম থেকে ঘোষণা করা হয় প্রতি ৩ মাস পর পর ১৭ তারিখ বিগ ক্লিন ডে। সারা বাংলাদেশের হাসপাতাল পরিষ্কার রাখার জন্য ব্যতিক্রমী উদ্দোগ।
এ ব্যাপারে আয়োজক সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম জানান, উন্নত দেশের ন্যায় বাংলাদেশ তথা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালকে একটি মডেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের এই আয়োজন। আমরা এ কাজে সকলের অংশগ্রহণ আশা করেছি। সেইসঙ্গে দিনটিকে বিগ ক্লিন ডে হিসেবে ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।
পৌর মেয়র আলহাজ সাইদুল করিম মিন্টু জানান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। পরিষ্কার থাকলে মনও সুস্থ থাকে। ঝিনাইদহ পৌর সভা শহরটিকে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করে। সেই সাথে হাসপাতাল চত্বরটি যেন আরও সুন্দর থাকে তাই আমাদের অংশগ্রহণ।
জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিজের কর্মস্থলকে বাড়ি ভাবতে হবে। আর নিজের বাড়িকে সব সময় সুন্দর পরিপাটি রাখতে হবে। তাহলেই কাজের সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। কোনো রোগি যদি হাসপাতালে এসে সুন্দর পরিবেশ পায় তবে সে অনেকটা সুস্থ হয়ে যায়। তাই আমাদের দেশকে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই পরিচ্ছন্ন উদ্যোগ।

