ঢাকাSaturday , 12 July 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নব্য বিএনপি নেতার থাবায় লন্ডভন্ড গাইবান্ধা-৫ আসন

Link Copied!

সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়ন মিলে গঠিত গাইবান্ধা-০৫ আসন।২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর নতুন যোগদান করে বিএনপির এক নেতার থাবায় লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে দলের কার্যক্রম। তিনি যোগদান করার পরই এক পক্ষকে কাছে নিয়ে টাকার খেলায় মেতে উঠেছেন। পদপদবী বাগিয়ে নিতে নিজের বলয়ের লোকদেরকে কাছে নিয়ে প্রকাশ্য গ্রুপিং করছেন। নেতাকর্মীদের নিজের বলয়ে নিয়ে আনতে না পারলেই ত্যাগী নেতাদের বহিষ্কার, কারণ দর্শানোর নোটিশ, মামলা হামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পুনর্বাসন করতে ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিলে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে দাপট খাটিয়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের  নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত তার থাবায় কেউ রেহাই পাচ্ছে না। অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আসনটির সাবেক নমিনী হাসান আলী সরকার রাজনীতি থেকে অবসরে গেলে পর্যায়ক্রমে আসনটির হাল ধরে, সোনাতলা সরকারী নাজির আক্তার কলেজের সাবেক জিএস মাইনুল ইসলাম শামীম, জেলা বিএনপির সম্পাদক রাজী রাহী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা শিল্পপতি কামরুজ্জামান সোহাগ, ঢাকার ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট নাজমেুল ইসলাম নয়ন। ২০১৪ সালে এক তরফা নির্বাচনের পর হাজী রাহী নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে কামরুজ্জামান সোহাগ ও ময়নুল ইসলাম শামীম দলের হাল ধরে প্রত্যেকটি প্রোগ্রাম সচল রাখার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন ১৪৪ টি ওয়ার্ড বিএনপির মধ্য অন্তত ১০০ ওয়ার্ড বিএনপির নেতারা। ২০১৮ সালের ভোটের সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড মনোনয়ন দেন কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ১৭ বছরের সহ-সভাপতি ফারুক আলম সরকারকে। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তারই ভোট করতে নিজেদের কর্মীদের উৎসাহিত করেন সাবেক দুই ছাত্রনেতা ও তৎকালীন জেলা বিএনপির সদস্য শামীম ও সোহাগ। শুধু কর্মীদের নয় নিজে ভোট করতে গিয়ে সাঘাটা থানায় ২ টি মিথ্যা মামলার আসামী হয় কামরুজ্জামান সোহাগকে। যদিও ভোটের পরে ফারুক আলম সরকারের সাথে এক বছর গ্রুপিং করে রাজনীতি চাঙ্গা রাখেন কামরুজ্জামান সোহাগ। কিন্তু গ্রুপিং রাজনীতি নোংরামির দিকে গড়ালে কামরুজ্জামান সোহাগ ও ফারুক আলম সরকার এক মঞ্চে প্রোগ্রাম শুরু করেন ২০১৯ এর শেষ দিকে। তারপর থেকে সবাই মিলে এক সাথে দল গোছানো শুরু করেন তারা। সাঘাটা ও ফুলছড়ি দুই উপজেলার প্রত্যেকটি ওয়ার্ড কমিটি গঠন, ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল থেকে শুরু করে বিএনপির সকল অংগ সংগঠনের কমিটি গঠনে ছিলো না কোন বিভেদ। দলের দূর্দিনে একই মঞ্চে দাড়িয়েছিলেন সকল মনোনয়ন প্রত্যাশী। যার ফলে গাইবান্ধা-৫ আসনটি পরিণত হয়েছিল বিএনপির দুর্গে।  আগষ্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আসনটিতে আওয়ামী সমর্থিত ব্যবসায়ী বগুড়ার রোসার্স হোটেল ও বার এর মালিক নাহিদুজ্জামান নিশাদকে দলে যোগদান করায় একদল সুযোগ সন্ধানী অর্থলোভী নেতা। নাহিদুজ্জামান নিশাদ জেলা বিএনপিতে যোগদানের আবেদনে সদস্য পদের আবেদন করলেও টাকা খেয়ে কেন্দ্রীয় সহ-সাংগাঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ও আব্দুল খালেক। দলের কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অর্থের বিনিময়ে তাকে প্রদান করে সহ-সভাপতি পদ প্রদান করা হয়। তার সুপারিশপত্রে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশ ছিলো না। পট-পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় দফতর থেকে দলের ওয়ার্ড থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সব জায়গাতে যোগদান প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিষিদ্ধ থাকলেও দিনকাল অফিসের এক কর্মচারীর কুটচালে প্রথম যোগদান হয় গাইবান্ধায়। তাও আবার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে। যে কখনো কোনদিন বিএনপির সমর্থকও ছিলো না। তাকে জেলা বিএনপির সহ-সহ-সভাপতির পদ দেওয়াতে হতবাক যান জেলা বিএনপির সকল নেতাকর্মী। কথিত আছে এই পদ বাগিয়ে নিতে ৮ কোটি টাকা খরচ করেছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে বৈধতা দিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ী নাহিদুজ্জামান নিশাদ। ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষার্ধে দলে যোগদান করেই দলের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করার জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এই আওয়ামী পন্থী ব্যবসায়ী। তিনি যোগদান করার পর থেকেই দুই উপজেলায় গ্রুপিং প্রকাশ রূপ নিয়েছে। সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির মাঝে ধরেছে ফাটল। বিষয়টি আমলে নিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ত্যাগী দলীয় নেতাকর্মীরা।