ঢাকাSaturday , 12 July 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আওয়ামী দোসর পাউবোর তাহমিদুল ডিজি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাচ্ছেন!

Link Copied!

আপাদমস্তক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হয়েও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এ দাপটের সাথে মহাপচিালকের দায়িত্ব পালন করছেন একেএম তাহমিদুল ইসলাম। আগামী ১৪ জুলাই তার শেষ কর্মদিবস। তবে পাউবোতে জোর আলোচনা চলছে, তিনি এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে নানান দরজায় ধর্না দিচ্ছেন।
এদিকে তার মহাপরিচালক পদে দায়িত্বপালনকালীন পাউবোর মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। চাকুরী জীবনের অধিকাংশ সময়ই ফিল্ডের বাইরে থেকেছেন। এতে করে মাঠ প্রশ্সানে কোন পদ্ধতিতে গতি আনা যায়, তার সেরকম কোন অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। অত্যন্ত খিটখিটে মেজাজে হওয়ার কারণে তাকে কেউ পরামর্শ দিতো না। এতে করে তিনি তার খেয়ালখুশিমতো অতি গুরুত্বপূর্ন ফাইলও আটকিয়ে রাখতেন। নির্দিষ্ট সময়ে ফাইল ছাড় না দেওয়ায় এবং ধারাবাহিকভাবে বোর্ডের কোন গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণে বর্তমানে পাউবো একটি গতিহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, একেএম তাহমিদুল ইসলাম ১৯৯১ থেকে ২০১২ পর্যন্ত অধিকাংশ সময় ইনিষ্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ে (আইডব্লিউএম) লিয়েনে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন লিয়েনে চাকুরি করাটা প্রজ্ঞাপন জারি করে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যার কারণে তিনি বাধ্য হয়ে পাউবোতে ফিরে আসেন। অনেকেই মনে করেন, চাকুরি জীবনের দীর্ঘসময় লিয়েনে থাকায় বোর্ডের প্রতি তার কমিটমেন্টের জায়গাটা কখনোই সেভাবে গড়ে উঠেনি।
পাউবোতে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে যে, তাহমিদুল ইসলাম পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব নাজমুল আহসানের আশীর্বাদপুষ্ট একজন। এই পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব নাজমূল আহসানকে নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। তিনি আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সুবিধাভোগী আমলা। শেখ হাসিনার সরকারের সময় যে কয়জন আমলা বেশি সুবিধা ভোগ করেছে তার মধ্যে নাজমুল আহসান অন্যতম। শেখ হাসিনার আর্শীবাদপুষ্ট নাজমুল আহসান সাতক্ষীরা এবং খুলনা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। অনেক গুম, খুন ও হত্যাকান্ডের সাথে তিনি জড়িত থাকায় তার বিচারের দাবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে জড়িত ছাত্ররা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনও করেছেন। খুলনা ও সাতক্ষীরাতেও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিবের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।
পদোন্নতি ও ভালো পোষ্টিংয়ের জন্য তাহমিদুল ইসলাম সবসময় পতিত সরকারের আমলে শেখ হাসিনার শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রেখে চলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালে মাঝেমধ্যেই রাতে যেয়ে সালমান এফ রহমানের বাসভবণে বৈঠক করতেন। ফ্যাসিস্ট সালমান এফ রহমানকে কাজে লাগিয়েই তিনি ঢাকা ডিভিশনের প্রধান প্রকৌশলী এবং পরবর্তিতে এডিজি হয়েছেন। শুধু তাই নয়, এডিজি হয়ে তিনি ভালো যায়গার দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন। যা তার পাওয়ার কথা নয়। এছাড়াও তিনি প্রধান প্রকৌশলী থাকালে একাধিকবার ছুটে গেছেন টুঙ্গীপাড়া শেখ মুজিবের কবরস্থানে। সেখানে যেয়ে তিনি শেখ মুজিবের কবরে ফুল দিয়েছেন। এসব করাটা তার জন্য বাধ্যবাধকতার মধ্যে না পরলেও এটি ছিল স্রেফ তেলবাজি এবং পতিত সরকারের সুদৃষ্টিতে পড়া।
শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি বগুড়ার প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের ভাগিনা এবং আওয়ামী লীগ নেতা পাউবোর ঠিকাদার রাজ্জাকের সাথেও ঘনিষ্ট সম্পর্ক রেখে চলতেন।
একেএম তাহমিদুল ইসলাম অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বপালকালে ইরিগেশন ম্যানেজমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টে (ইমিপ) মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি ও অসফল হওয়া একজন পিডিকে (প্রকল্প পরিচালক) ক্লিন সিট (নির্দোষ হিসাবে রিপোর্ট) প্রদান করেছিলেন। উক্ত প্রকল্পটি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) একটি পাইলট প্রকল্প ছিল। এই প্রকল্পটির সফলতার উপর আরও দুটি প্রকল্পে বিনিয়োগ করার কথা ছিল এডিবির। দুর্নীতির অভিযোগের কারণে এডিবি তিস্তা ও মেঘনা-ধনগোদা সেচ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এই দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হলে প্রথম দফায় উক্ত পিডি’র পদোন্নতি আটকে যায়। তবে দ্বিতীয় দফা তদন্তে তাহমিদুল ইসলাম ক্লিন সিট প্রদান করলে উক্ত পিডি পদোন্নতি পান।
এছাড়াও তাহমিদুল ইসলাম মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে পানি ভবনে বোর্ডের অনেক সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারি নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে লাঞ্চিত ও অপিমানিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যা অতিতে কখনো ঘটেনি। এ নিয়ে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বদমেজামী ও একরোখা হিসাবে পরিচিত এই মহাপরিচালক পাউবোকে ফ্যাসিস্ট কায়দায় পরিচালনা করেন।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে পাউবো মহাপরিচালক একেএম তাহমিদুল ইসলাম বলেন, এখন ট্রানজিশন পিরিয়ড চলছে। এই সময়টাতে কাজের গতি স্বাভাবিকভাবেই মন্থর হবে। এখন আমার চেয়েও যার মহাপরিচালক পদে আসার সম্ভাবনা রয়েছে তাকেই কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বেশি গুরুত্ব দেবে। এগুলো হবেই। সালমান এফ রহমান প্রসঙ্গে বলেন, তার সাথে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। বছরের পর বছর একই জায়গায় কর্মরত রয়েছেন তাদের বদলির ব্যপারে কোন পদক্ষেপ কেন নেননি জানতে চাইলে বলেন, আমি পারিনি। আমার পূর্বে যিনি মহাপরিচালক ছিলেন তিনিওতো পদক্ষেপ নেননি। তবে আগামীতে যিনি এ পদে আসবেন আসা করি তিনি এসব সমস্যার সমাধান করবেন।