ঢাকাWednesday , 4 June 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুরাদনগরে ফ্যাসিবাদদের পুনর্বাসনের চেষ্টা
পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরাঃ আ’লীগ নেতাদের এনসিপিতে যুক্ত

Link Copied!

গণ আন্দোলনে গত ৫ আগস্টের পর আ’লীগের দোসর যারা পালাতে পারেননি তারা রয়েছেন আত্মগোপনে। এ চিত্র দেশের সর্বত্র। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে, একমাত্র ব্যতিক্রম শুধু কুমিল্লার মুরাদনগরে। সেখানে উল্টো মিথ্যা মামলার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলায় বরখাস্ত হওয়া এবং চাকুরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন মুরাদ নগরের অনেক শিক্ষক। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন নারী শিক্ষিকাকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে। পুরো মুরাদনগরে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, পরিবহণ সেক্টর নিয়ন্ত্রণ, বালু উত্তোলন, ড্রেজার ব্যবসাসহ সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ করছে একটি পরিবার। অপরদিকে মুরাদনগরে পুলিশের ভূমিকাও আওয়ামী লীগ আমলের মতোই। এখানে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। ভুক্তভোগীরা রাজধানীতে এসে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিকার চেয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, মুরাদনগরে এখন আ’লীগকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। আর এ কাজটা করা হচ্ছে, বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাবা বিল্লাল হোসেনের ছত্রছায়ায়। তবে শর্ত জুড়ে দেয়া হচ্ছে, যাদেরকেই পুনর্বাসন করা হবে, তাদের অবশ্যই জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিতে হবে। ইতিমধ্যে আ’লীগের চিহ্নিত দোসররা এনসিপির হয়ে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে। আর উপদেষ্টার বাবা ছেলেকে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে ইতোমধ্যে ভোট চাইতে শুরু করেছেন। এখানে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি থাকায় মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এর অন্তরালে থেকে সব কিছুর কলকাঠী নাড়ছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ নিজেই। এর ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মুরাদনগর এবং বাঙ্গোরা বাজার থানা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৩ আসন। হাসিনার বিনা ভোটের নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি ছিলেন ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। এই এমপির রাজনৈতিক সহযোগীদের অন্যতম একজন ছিলেন গোলাম কিবরিয়া। যিনি মুরাদনগর উপজেলা নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর পালিয়ে যান হারুন। আর দেখা মেলেনি পতিত সরকারের ওই আসনের কয়েকমাসের এমপি জাহাঙ্গীর আলম সরকারকেও। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন পালিয়ে থেকে এনসিপিতে যোগ দিয়ে প্রকাশ্যে এসেছেন সেই সমালোচিত গোলাম কিবরিয়া। আ’লীগের দোসর এই কিবারিয়ার নেতৃত্বে মুরাদনগর বাঙ্গোরার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরও এনসিপিতে যোগদান করানো হয়। আবার এসব চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে স্ব স্ব ইউনিয়নের আওয়ামলীগ পদধারীদের এনসিপিতে যোগদান করান গোলাম কিবরিয়া। যারা ছিলেন ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রেতাত্মা এবং ছাত্র আন্দোলন ঠেকাতে মরিয়া।
উপদেষ্টা আসিফের বাবা বিল্লাল নিজেও ছিলেন আওয়ামী সমর্থক। তার নামে স্কুলের দুর্নীতি-চাঁদাবাজিসহ অতীতে ডজন খানেক মামলা ছিল। এখনও নারী নির্যাতনের একটি মামলা চলমান। সম্প্রতি এনসিপিতে প্রকাশ্যে যোগ দিয়ে বাঙ্গোরা থানা এলাকার একটি মসজিদে ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। এ সময় তিনি আসিফকে ওই আসনের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে ভোট চান।
সরেজমিন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, মুরাদনগরে আসিফ যুগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সবচেয়ে জঘন্যতম ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ এপ্রিল। সেদিনের স্মৃতি হাতড়ে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কোম্পানীগঞ্জ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী ইদ্রিস গুঞ্জর মিয়া বলেন, কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকাটি ৪টি উপজেলার সংযোগস্থল। টার্মিনালসহ বিভিন্ন রুটের প্রধান সড়ক বিধায় সব সময়ই যানজট লেগে থাকতো। ৫ আগস্টের পরে যানজটের যন্ত্রণা লাঘবে সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের দিক নির্দেশনায় স্বেচ্ছাসেবী একটি ট্রাফিক টিম গঠন করা হয়। ঘটনার দিন সিরিয়াল মেনে চলতে বলায় স্বেচ্ছাশ্রম দেয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলা করেন একটি সিএনজিতে থাকা উপদেষ্টা আসিফের চাচাতো ভাই এবং উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের থানা সেক্রেটারি মামুন ও ফ্যাসিবাদ সরকারের দোসর সাজিদ। তারা লাইনম্যান এবং সাবেক ছাত্রদল সদস্য আবুল কালামকে মুরাদনগর থানায় তুলে নিয়ে যায়। এ সংবাদে থানায় জড়ো হন স্থানীয় লোকজন। থানায় আবুল কালামকে আটকে রাখা হয়। ওসির সামনেই মারধর করা হয় কালামের ছোট ভাই মেহেদি হাসানসহ তার বন্ধু-বান্ধবদের। তখন ওসির রুমের সামনে লাইভে মামুন ও সাজিদ বিএনপিকে নিয়ে কটাক্ষসহ অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে। বিএনপিকে থানা ঘেরাওয়ের অপবাদ দেয়া হয়। সেনাবাহিনীসহ পুলিশের উর্ধ্বতরাও থানায় আসেন। আবুল কালামকে ছেড়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হলেও উপদেষ্টা আসিফের নির্দেশে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এতে থানায় অবস্থানরত বিএনপির একাধিক নেতাসহ ৭ জনকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। বিএনপির স্থানীয় প্রায় সকল নেতার নামেই মামলা করানো হয়। একই ঘটনায় ফয়সাল নামে একজন এনসিপি নেতাকে বাদী করে আরও একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায়ও বিএনপি নেতাদের আসামি করা হয়। আর আসিফের নির্দেশ পালনে ফ্যাসিবাদি সরকারের পুলিশের মতোই আমলাতন্ত্রের অন্যায় নির্দেশ পালন করছে মুরাদ নগর থানার ওসি জাহিদুর রহামান। ইদ্রিস মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আ’লীগ শাসনামলে শতাধিক গায়েবি মামলার আসামি হয়েছিলাম। হাসিনার পতনের পরও স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করতে পারেনি মুরাদনগরবাসী। বরং আরও যেন বড় স্বৈরাচারের কবলে পড়েছি আমরা।
কোম্পানীগঞ্জ বাজারের ১২ লাখ ৩১ হাজার টাকার ইজারার বিপরীতে এ বছর ২৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দরপত্র দাখিল করা হলেও আসিফের নির্দেশে বরাদ্দকৃত বাজার স্থগিত এবং পরে বাতিল করা হয়। এর কারণ দরপত্র দাখিলকারিরা বিএনপির লোক।
পুলিশের দায়ের করা এ মামলার অপর আসামি মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তিনবারের ইউপি চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মো. মহিউদ্দিন অঞ্জন। তিনি বলেন, বাঙ্গোরা বাজার থানায় অবস্থানকালে ওসির মাধ্যমে মুরাদনগর থানায় গ্যাঞ্জামের খবর পেয়ে সেখানে যান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। গিয়ে জানতে পারি ওবায়দুল্লাহ সকল অপকর্মের নায়ক। বিএনপি নেতারা থানায় হামলা করার অভিযোগ মিথ্যা হলেও নেপথ্যে থাকা ওবায়দুল্লাহর পাশাপাশি মুরাদনগর থানার ওসির প্রত্যক্ষ ইঙ্গিতে মামলা হয়।
পরানতোলা গ্রামের মহসীন, রহিমপুর গ্রামের অটোচালক জসিম, মুরাদনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান জুয়েল, বিএনপির সদস্য কাঁচামাল ব্যবসায়ী ওহাব আলী, রহিমপুরের হোসেনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে পুলিশ। ভুক্তভোগিরা বলছেন, এনসিপির লোকজন এবং ওবায়দুল্লাহ যাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন পুলিশ তাদেরকেই গ্রেফতার করেছে। তদন্ত ছাড়াই মামলা গ্রহণ ও ধরপাকড় করে বিএনপি নেতাদের এলাকা ছাড়া করার অপতৎপরতা চালাচ্ছেন উপদেষ্টা আসিফ।
১৫নং পশ্চিম নবিপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বেল্লাল হোসেন বলেন, একজন অসহায় ব্যক্তিকে ঈদের বাজার করতে যাবার পথে থানায় হামলার মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
উপদেষ্টার আশ্রয়ে চাঁদাবাজদের উৎপাত প্রসঙ্গে বাঙ্গোরা বাজার থানাধীন বিচাপিতলা পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা এবং একটি মসজিদের ইমাম ফয়জুল্লাহ বলেন, পৈত্রিক জমিতে বাউন্ডারি করাকালীন সাবেক এমপি হারুনের অন্যতম সহযোগী খবির ভূঁইয়া ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দীর্ঘ ১৭ বছর এই খবিরের অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ ছিল অতিষ্ট। স্থানীয় মানুষের গাছ পর্যন্ত কেটে নিত এই চিহ্নিত সন্ত্রাসী। বারবার ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে ধরা পড়া সেই চিহিৃত আওয়ামী দোসর এখন এনসিপিতে যোগ দিয়ে পূর্বের রূপে ফিরে এসেছে। এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীদের এখন শেল্টারদাতা উপদেষ্টা আসিফের ভাই ওবায়দুল্লাহ। কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রী কলেজের ছাত্র এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয় নাহিদুল ইসলাম নাইম বলেন, ৪ মাস আগে ওবায়দুল্লাহ মুরাদনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে একান্তে বৈঠক করেন। এরপরই ইউএনও বৈষম্যবিরোধী প্লাটফর্ম ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে চলবে বলে ঘোষণা দেন। আর তখনই ওবায়দুল্লাহ স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ ফ্যাসিস্টদের নিয়ে মুরাদনগর উপজেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কমিটি করে। এর প্রতিবাদে মূল ধারার লোকজন একটি বিদ্রোহী কমিটি করে। তখন আসিফের ইশারায় বিদ্রোহী কমিটির নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি কমিটির ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে থানা ভাংচুরের মামলা করে। জুলাই আন্দোলনে কোম্পানীগঞ্জ এলাকার নেতৃত্বে থাকা মাদরাসা ছাত্র মেহেদি হাসান বলেন, এক সভায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম বলেন, আসিফ মাহমুদের হয়ে কাজ করতে হবে। এর প্রতিবাদে আমরা বলি, যে প্লাটফর্মে ছাত্রলীগ-যুবলীগ যাবে আমরা তাদের সাথে নেই। এই বক্তব্য দেয়ার পর উপজেলা হল রুম থেকে বের হওয়া মাত্রই ছাত্রলীগ-যুবলীগ হামলা চালায়। আমরা এ ঘটনায় মামলা করি। ২৮ মার্চ ওসির রুমেই তার ওপর হামলা চালানো হয় ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে।
আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা হবার পর মুরাদনগরে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন শিক্ষক সমাজ। বাঙ্গোরা বাজার থানা এলাকার রাজাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবদুল জলিল বলেন, আসিফের বাবার ইশারায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং চুলুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম শাহীন আমার বিরুদ্ধে একটি মারামারি মামলা করেন। আদালতে তা মিথ্যা প্রমাণিত হলেও আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই মামলার অপর অভিযুক্ত দড়িয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কামরুল ইসলাম। তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার করিয়ে বরখাস্ত করা হয় আফিসের বাবার ইশারায়। ওই দুই শিক্ষক পরিবার পরিজন নিয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। আসন্ন ঈদের প্রসঙ্গ উঠতেই তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, নোয়াগাঁও উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান এনসিপির ক্ষমতা ব্যবহার করে শিক্ষকদের হেনস্তাসহ পদায়ন ও বদলি বাণিজ্য করে চলেছেন। দিলালপুর সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবুল কালামের বিরুদ্ধে এনসিপির লোকজন ৮/১০টি মামলা দেয়। তার অপরাধ তার ছোট ভাই জসিম বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। মামলায় উল্লেখিত সময়ে তিনি একজন শিক্ষা অফিসারের সাথে ছিলেন। অথচ তাকে হত্যা প্রচেষ্টা মামলার আসামি করা হয়।এ সব মামলার বাদীরা আ’লীগ শাসনামলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলো। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই তারা আসিফ মাহমুদের দলে যোগ দিয়ে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক বলেন, এখানকার আ’লীগের নেতৃত্ব ঠিক আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছে। থানা সংলগ্ন মোহন মার্কেটে এনসিপির ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যেই বৈঠক করে আ’লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। আ’লীগ শাসনামলে বিএনপি নেতারা যেমন হামলা মামলার শিকার ছিলেন, এখনও বিএনপি নেতারা ঘরে থাকতে পারেন না। আ’লীগ রাতের অন্ধককারে আসিফের বাবা বিল্লাল মাস্টারের সাথে বৈঠক করেন। উপদেষ্টার পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্টরাই ব্যবসা, ঠিকাদারিসহ সকল কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন।
মুরাদনগর গুঞ্জরের বাসিন্দা আবদুল আলিম বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ মানেই এনসিপি আর এনসিপি মানেই আ’লীগ। পুলিশ আ’লীগের পক্ষ হয়ে কাজ করছে। এখানে সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। গুঞ্জর পশ্চিমপাড়ার টাইলস ব্যবসায়ী যুবক ইমন বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।
১৬ নং ধানগড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খোকন বলেন, ৫ আগস্টের পরেও মুরাদনগর স্বৈরাচার মুক্ত হয়নি। বিল্লাল মাস্টার স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিয়ে ছেলের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে আনছেন। প্রত্যেক থানা পর্যায়ের আ’লীগ নেতাদের নিয়ে ওসিদের সাথে বৈঠক করে করিয়েছেন। বিএনপির সম্মেলন উপলক্ষ্যে মাঠ বাছাই করতে গত ৯ এপ্রিল নেতারা রামগড়ে এলে মুরাদনগর থানার এসআই জালাল নেতৃবৃন্দকে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেন, ধামগড় ইউনিয়নে বিএনপি নেতারা জড়ো হলেই তাদের গ্রেফতার করা হবে। মুরাদনগর উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, আসিফের বাবার অনৈতিক কর্মকান্ড, মন্দির ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করতে ভুক্তভোগীদের নিয়ে গত ২৯ এপ্রিল ঢাকায় যাচ্ছিলাম। আসিফের বাবা প্রথমে লোক পাঠিয়ে হুমকি দেন। বাধা সত্বেও ২টি বাস নিয়ে ঢাকা যাবার পথে গোমতি টোল প্লাজায় পুলিশ গাড়ি অবরুদ্ধ করায় ভিন্ন বাসে যেতে হয়। আ’লীগ আমলে আমাদের জায়গা-জমি দখল করা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের চেয়ারম্যান বনজ কুমার শিবের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। এখন এনসিপি মুরাদনগর ফের অশান্ত করে রেখেছে। বাখরনগরের মন্দিরে চুরি, দাররা মন্দিরের ওয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়। আকাবপুর স্কুলের একজন শিক্ষিকাকে আসিফের বাবার নেতৃত্বে মারধর করে বিতাড়িত এবং বেতন বন্ধ করায় তিনি মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে দুলাল দেবনাথ দাবি করেন, উপদেষ্টার ভাই আবদুল্লাহ এলাকায় আ’লীগকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় জড়িত। উপদেষ্টার বাবাও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের অত্যাচারে মুরাদনগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এদিকে নিরাপত্তাহীনতায় থাকা সাধারণ মানুষ এবং মুরাদনগরে আ’লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির ব্যানারে উপদেষ্টা আসিফের পদত্যাগ দাবিতে গত ২২ মে মুরাদনগরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। এ মিছিলেও বাধা দেয় পুলিশ। সমাবেশে অভিযোগ করা হয়, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবার সাথে সমঝোতা করে আওয়ামী দোসররা এখন মুরাদনগরে বিচরণ করেছে। সারা বাংলাদেশে স্বৈরাচারের দোসররা গ্রেফতার হলেও মুরাদনগরে গ্রেফতার হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি থানার সামনে রেড চিলি রেস্টুরেন্টে মাসুদ চেয়ারম্যান, শামীম আক্তার ও আশরাফ মেম্বারসহ বৈঠক আ’নেতারা বৈঠক করেন। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা এ চক্র মুরাদনগরে নাশকতা করার পরিকল্পনা করে। স্থানীয় প্রশাসন এনসিপির হয়ে কাজ করছে কিংবা বিএনপির কর্মীদের মামলা হামলায় গ্রেফতার ও মত প্রকাশে বাধা দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে কুমিল্লার (মুরাদনগর সার্কেল) এডিশনাল এসপি কামরুজ্জামান বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আসা অভিযোগ সত্যি নয়। অতি সম্প্রতি বিএনপি নেতা কায়কোবাদ সমাবেশ করে গেছেন। কারো সমাবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে না। জানতে চাইলে মুরাদ নগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, থানায় হামলা হয়েছে বলেই মামলা হয়েছে। আর মামলা হলে গ্রেফতার হবে এটাই স্বাভাবিক। এখানে আসামিকে কোন দলের এটা বিবেচ্য নয়। বিএনপিকে তাদের সমাবেশ কিংবা মুক্ত মত প্রকাশে কোনো ধরনের বাধা দেয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে মিছিল হয়েছে। আমরা বলেছি, তাদের শুধু ভিন্ন সড়ক ব্যবহার করতে।
এসব বিষয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাবা বিল্লাল হোসেনের মোবাইল ফোনে বহুবার কল দেয়ার পরও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি।