ঢাকাWednesday , 4 June 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১২০০০ সেনার মৃতদেহ বিনিময়ে সম্মত রাশিয়া-ইউক্রেন

Link Copied!

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি শান্তি আলোচনা কোনও বড় অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। কেবল আরও যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের চুক্তি হয়েছে। ইউক্রেনীয় আলোচকরা বলেছেন, রাশিয়া আবারও ‘নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি’ প্রত্যাখ্যান করেছে। কিয়েভ এবং তার ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের তরফে এটি ছিল প্রধান দাবি। কিন্তু উভয়পক্ষ ১২,০০০ সৈন্যের মৃতদেহ বিনিময় করার প্রতিশ্রুতিতে সম্মত হয়েছে। রাশিয়ান প্রতিনিধি দলটি জানিয়েছে যে, তারা বিশাল ফ্রন্ট লাইনের ‘কিছু নির্দিষ্ট এলাকায়’ দুই বা তিন দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আরও বিস্তারিত কিছু জানাতে চায়নি তারা। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অনুষ্ঠিত এবং এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনায় উভয় পক্ষ সমস্ত অসুস্থ এবং গুরুতর আহত যুদ্ধবন্দীদের, পাশাপাশি ২৫ বছরের কম বয়সীদের বিনিময় করতে সম্মত হয়েছে। আলোচনা শুরু হওয়ার আগেও প্রত্যাশা কম ছিল। আসলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে চলমান যুদ্ধের অবসান কীভাবে করা যায় তা নিয়ে উভয় পক্ষই গভীরভাবে দ্বিধা বিভক্ত ছিল। মস্কো বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০% ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে সংযুক্ত দক্ষিণ ক্রিমিয়া উপদ্বীপও অন্তর্ভুক্ত। বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ, যিনি কিয়েভের আলোচক দলের নেতৃত্ব দেন বলেন যে, ‘ইউক্রেন এখনই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য স্থল, সমুদ্র এবং আকাশে কমপক্ষে ৩০ দিনের জন্য পূর্ণ এবং নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির উপর জোর দিচ্ছে।’তিনি বলেন, ইউক্রেন কয়েকদিন আগে রাশিয়ার কাছে তাদের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব জানিয়েছে। কিন্তু মস্কো তা মানতে ব্যর্থ হয়েছে, কেবল ইস্তাম্বুলের আলোচনায় নিজেদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মৃতদেহ সংগ্রহের জন্য রাশিয়ার একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছেন। তবে, আলোচনা শেষ হওয়ার পর রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম মস্কোর অবস্থানের মূল বিষয়গুলো প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বের চারটি আংশিকভাবে দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার। রাশিয়া ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের পাশাপাশি সংযুক্ত ক্রিমিয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করে। ইউক্রেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্হি কিসলিটসিয়া বলেছেন যে রাশিয়া নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে। কিয়েভের দাবি অনুযায়ী শত শত শিশুর একটি তালিকাও হস্তান্তর করা হয়েছে যাদের জোরপূর্বক রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের আলোচকরা বলেছেন যে, তারা জুনের শেষের দিকে তাদের প্রস্তাবের প্রতি রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া আশা করছেন, জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। পৃথক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রাশিয়ান প্রতিনিধিদলের প্রধান ভ্লাদিমির মেডিনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত অসুস্থ এবং গুরুতর আহত যুদ্ধবন্দী, সেইসাথে ২৫ বছরের কম বয়সীদের বিনিময় করা হবে। এটি কখন হবে সে সম্পর্কে কোনও সময়সীমা দেওয়া হয়নি। মেডিনস্কি আরও বলেন যে, রাশিয়া আগামী সপ্তাহে ৬,০০০ ইউক্রেনীয় সৈন্যের মৃতদেহ কিয়েভের কাছে হস্তান্তর করবে। জেলেনস্কি পরে বলেন, ইউক্রেনও ৬,০০০ রুশ সৈন্যের মৃতদেহ ফেরত দেবে। জেলেনস্কি এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা বারবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের আরও ভূখণ্ড দখলের জন্য যেকোনো অর্থবহ আলোচনা ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার অভিযোগ তুলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি এই সংঘাতের দ্রুত সমাধানের জন্য চাপ দিচ্ছেন, তিনি এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বিলম্ব করেছেন। তবে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিটের মতে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি জেলেনস্কি এবং পুতিনের সাথে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে আগ্রহী। গত মাসে ইউক্রেনে বিশাল ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পুতিনকে ‘পাগল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প।