ঢাকাSunday , 18 May 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বড় বাবু ও অনিমেষ পালের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ

Link Copied!

খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বর্তমান প্রধান সহকারী (বড় বাবু) শেখ জাবের উদ্দিন ও অধ্যক্ষ অনিমেষ পাল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সক্রিয় সদস্য এমনটিই জানায় ভুক্তভোগিরা । ১৯৮৯ সালে অফিস সহকারী পদে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন বড় বাবু শেখ জাবের উদ্দিন। চাকুরীর শুরুতে জাবের খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রধান স্টোরে কর্মরত ছিলেন। পরে দেন দরবার ও তদবিরের মাধ্যমে খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রধান সহকারী (বড় বাবু) বনে যান শেখ জাবের উদ্দিন। সেই থেকে শুরু হয় তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা। ৩৫ থেকে ৩৬ বছর একটানা বিভিন্নপদে একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছে এই স্বেচ্ছাচারি কর্মচারি জাবের। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, তাহলে শেখ জাবের উদ্দিনের খুটির জোর কোথায় ? সরকারী চাকুরিতে এই ধরনের নজির নেই বললেই চলে। বড় বাবু (প্রধান সহকারি) শেখ জাবের উদ্দিনের সাথে চাকরিতে যোগদানকৃত অনেক সরকারী কর্মচারী চাকুরী থেকে বহু আগেই অবসর নিয়েছেন। কিন্তু তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেশি একই প্রতিষ্ঠানে বীরদর্পে বহাল রয়েছেন। বিষয়টি সঠিক তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করেন সচেতনমহল। একজন সরকারী কর্মচারী তার জীবনে মোট কত বছর একটানা একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতে পারেন! তদন্তে জানা গেছে, শেখ জাবের উদ্দিন প্রতিষ্ঠানের সবার নিকট (বড় ভাই) হিসাবে পরিচিত। অধ্যক্ষ অনিমেষ পালও কলেজে প্রচার করেন খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একজনই বড় ভাই আছেন। আর তিনি হলেন জাবের। খুলনা দিঘলিয়া উপজেলার লাখোহাটি গ্রামে জাবেরের বাড়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন, খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সক্ষতা করে ভুয়া ভাউচারের মাষ্টার মাইন্ড হলন এই জাবের। অনেকেই বলছেন, টাকা যেখানে আছে বাটপার জাবেরও সেখানে আছে। অধ্যক্ষে অনিমেষ পালের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে রেজিষ্ট্রার খালিদকে সরিয়ে দিয়ে নিজেই রেজিষ্ট্রার বনে গেছেন। ভুয়া ভাউচার সৃজন করে অধ্যক্ষ অনিমেষ ও জাবের আওয়ামী আমলে দেদারছে লুটপাট করেছেন খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সরকারী বরাদ্দের টাকা কোটি কোটি টাকা। অতি অল্প সময়ে বনে গেছেন কোটিপতি। নদীর ওপারে নিজ গ্রামে জাবের গড়েছেন একাধিক মাছের ঘের ও বিঘা বিঘা জমি। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের খানাবাড়ী এলাকায়ও রয়েছে তার ৪টি বাড়ী। ঢালী নামে তার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত, সেই সুবাধে তার মাধ্যমে খুলনা ৩ নং আসনের তৎকালীন আওয়ামী লীগের এমপির সাথে জাবের ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন বলে জানা যায়। কেসিসি ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান খান খোকনের সাথে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন জাবের। কেসিসির সিডিসি প্রকল্পের ১ নং ওয়ার্ডের গ্রুপ লিডার ও ম্যানেজার ছিলেন তিনি। সরকারী চাকুরী করে কিভাবে সিডিসি প্রজেক্ট এ চাকুরী করে তা বোধগম্য নয়। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের অবৈধ নির্বাচনের ৩ নং আসনের এস এম কামালের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জাবের। তার বসত বাড়ীতে এস এম কামালের নির্বাচনী অফিস খোলা হয়। আওয়ামী লীগকে নিয়মিত অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতেন এই জাবের। অনুসন্ধানে জানা যায়, জাবেরের এখন পর্যন্ত জমিসহ খুলনায় ৪টি বাড়ী রয়েছে। একটি ৩ তলা বাড়ী, একটি ১তলা বাড়ী এবং দুইটি টিনসেড বাড়ী। একাধিক বিলাশবহুল গাড়ীরও মালিক তিনি। এ কারণে বোদ্দামহলের প্রশ্ন জাবেরের খুঁটির জোর আসলে কোথায় ? আওয়ামী লীগের খুলনা ৩নং আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সাথেও ছিলো তার ঘনিষ্টতা। এ ছাড়া কেসিসির ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান খান খোকন এবং সাবেক কাউন্সিলর মিনার সাথেও ছিলো তার ঘনিষ্ঠতা। শেখ জাবের উদ্দিন প্রতি বছর জুন মাসে ভুয়া ভাউচার সৃজন করে খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। অধ্যক্ষ অনিমেষ পালের একটি ভাগ পান বলেও একাধিক সূত্র জানায়। প্রাক্তন একজন সিনিয়র কর্মচারী জানান, ‘আমার শারীরিক সমস্যার কারণে এবং চাকুরী শেষে পিআরএল গমণের জন্য আমি খুলনা পলিটেকনিকে বদলীতে আসার জন্য বড় স্যারদের একান্ত অনুরোধ করার কারণে আমার অর্ডার হওয়ার কথা ছিল কিন্তু শেখ জাবের উদ্দিন আওয়ামী লীগের তৎকালীন এমপি বেগম মন্নুজান এবং আর অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের তদবিরের কারণে আমাকে বাদ দিয়ে নিজেই যশোর থেকে খুলনা পলিটেকনিকে পোষ্টিং নিয়ে নেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বহাল আছে দুর্নীতিবাজ কর্মচারি এই জাবের’। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক এমপি বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবং এস এম কামাল ও ১৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্নার একান্ত সহযোগিতায় খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কর্মচারী সমিতির সভাপতি পদ গোপাল চন্দ্রের নিকট থেকে কৌশলে ছিনিয়ে নেন জাবের। আর এই কাজে তাকে সহযোগিতা করেছিলেন অধ্যক্ষ অনিমেষ পাল, ক্যাশিয়ার নাজমুল, তৎকালীন স্টোর কিপার নাসির, আরিফ, তোহিন ও মিলন। এমনকি ১৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্নাকে সভাপতি বানিয়ে অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে অভিষেক অনুষ্ঠানও করেন কলেজ ক্যাম্পাসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ থাকলেও শেখ জাবের উদ্দিন তা বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করতেন না। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শেখ জাবের উদ্দিনকে বাঘের মতো ভয় পান। আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এস এম কামালের পিএস সোহেল বিশ্বাস শেখ জাবের উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শেখ জাবের উদ্দিন খুলনা পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ অনিমেষ পালকে নিয়ে একাধিকবার এসএম কামালের বাড়ীতে যান বিভিন্ন তদবিরের জন্য। খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ অনিমেষ পালও নানা রকম অপকর্ম, অর্থ আত্মসাৎ ও বদলী বাণিজ্যের তদবির করাতেন শেখ জাবের উদ্দিনকে দিয়ে। শেখ জাবের উদ্দিন বলে বেড়াতেন যে, এস এম কামাল তার ফোন সরাসরি রিসিভ করে এবং তাকে এসএম কামাল যে কোন বিষয়ে ফোন করেন। সাধারণ কর্মচারীরা সব সময় তার ভয়ে শঙ্কিত থাকতেন। সূত্র জানায়, সিডিসি প্রজেক্টের দায়িত্বে থাকাকালীন নগরীর মহেশ্বর পাশা, খানাবাড়ী এলাকায় নারীঘটিত কেলেংকারীতে ধরা পড়েন এই জাবের। সেই সময় এলাকাবাসী হাতে নাতে ধরে তাকে উত্তম মধ্যমও দিয়ে ছেড়ে দেয়। একাধিকবার গ্রাম্য শালিশও বসানো হয় সে সময়। যা তখন খুলনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি করে। স্টোরের দায়িত্বে না থাকলেও প্রধান স্টোরের স্টোর কিপার আক্তার ও নাছিরকে তার কথামতো চলতে হতো। তবে ভুয়া ভাউচার সৃজন ও অবৈধ কাজ শেখ জাবের নিজের হাতেই করতেন বলে একাধিক সূত্র জানায়। স্টোর কিপার আক্তার ও নাছির ছিলেন নামে মাত্র। বিশ্বস্থ একটি সূত্র জানায়, খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের (বড় বাবু) শেখ জাবের উদ্দিন ও অধ্যক্ষ অনিমেষ পাল ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী ‘র’ এর সক্রিয় সদস্য । বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন ৩১ মে ২০২৪ ঢাকায় অনুষ্ঠিত ভারত সম্প্রীতি উৎসব-২০২৪ এ শেখ মোঃ জাবের উদ্দিন ও অধ্যক্ষ অনিমেষ পালকে সংবর্ধনা দেয় ভারতীয় একটি সংস্থা। যা তখন খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছাত্রীদের মর্মাহত করেছে। অভিযোগের বিষয় একাধিকবার (বড় বাবু) শেখ জাবের উদ্দিন ও অধ্যক্ষ অনিমেষ পালকে ফোন দিলেও রিসিভ না করার ফলে তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।