নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ব্যবসায়ীদের জন্য এক স্তরের ভ্যাট আইন হবে। আবার এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ ব্যবসায়ীদের জন্য বহু স্তরের ভ্যাট প্রথার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দুই জনের দুই রকম বক্তব্যে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
বুধবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত মূল্য ‘সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২, করদাতা উদ্বুদ্ধকরণ’ বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘সবার সুবিধার জন্যই মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের ক্ষেত্রে একটি স্তর চালু থাকবে। এটি কার্যকর করতে ব্যবসায়ীসহ করদাতাদের পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে সব পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট চালু আছে। সব দেশে ভ্যাটের পরিমাণ এক রকম না হলেও একটি স্তরই চালু আছে। তাই ভ্যাটের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পণ্যে আলাদা কিংবা ব্যবসার উপর নির্ভর করে, আলাদা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করার ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে ভ্যাট এক স্তরেই রাখা হবে। তবে এটি কার্যকর করতে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ নেয়া হবে।’
মুহিত বলেন, ‘বর্তমানে রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় খাত হলো আয়কর। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে শুল্ক বা আমদানি রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক। ভবিষ্যতে শুল্কের পরিবর্তে ভ্যাটকেই দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে আসা হবে। জনগণকে ভ্যাটের বিষয়ে সঠিক ধারণা ও সচেতন করতে পারলে তা দ্রুতই সম্ভব হবে।’
টার্নওভার কর সম্পর্কে অর্থমস্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে টার্নওভার ২৪ লাখের নিচে হলে কোনো কর দিতে হয় না। এটা বাড়িয়ে ৩০ লাখের বেশি করা হবে। যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি ৩৬ লাখ টাকা।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কর দেয়ার প্রবণতা কম। বর্তমানে মোট জাতীয় আয়ের ১১ থেকে ১২ শতাংশ আসে আয়কর থেকে। অথচ ভারতে আয়কর আদায়ের হার জাতীয় আয়ের ১৫ শতাংশের উপরে।’
বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারে বাজেট ছিল ৯০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা আড়াই লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা পাঁচ লাখ কোটি টাকা হবে।
তবে ব্যবসায়ীদের জন্য এক স্তরের ভ্যাট আইন হওয়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন এফবিসিসিআিই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন। তার মতে, ব্যবসায়ীদের জন্য বহু স্তরের ভ্যাট প্রথা চালু করা দরকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী আকরাম বলেন, ‘সব ব্যবসায়ীর পক্ষে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। আমাদের মত যারা তাদের ক্ষেত্রে হয়তো এ ভ্যাট কোনো ব্যাপার না কিন্ত যারা গ্রামের মুদি বা গুড়ের ব্যবসায়ী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের পক্ষে নিয়মিত হিসাব রাখা ও ভ্যাট পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া সবাই শিক্ষিতও নয়। তাই ভ্যাটের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ভেদে বিভিন্ন স্তর চালু করা উচিত।’
ব্যবসায়ীদের ভ্যাট পরিশোধ সহজতর করতে আগামী ২ বা ৩ বাজেটে এ সংক্রান্ত আইনকে সমন্বয়ের দাবিও জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।
সূত্র জানা গেছে, একই সভায় অর্থমন্ত্রী ও এফবিসিসিআই সভাপতির বক্তব্য দুই রকম হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। একজন সরকারের অর্থমন্ত্রী আরেকজন দেশের ব্যবসায়ীদের বড় সংগঠনের নেতা। তাদের বক্তব্যে দুই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করায় ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এনবিআরের সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, ভ্যাট অনলাইন প্রজেক্ট ম্যানেজার রেজাউল হাসানসহ এনবিআর ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

