ঢাকাWednesday , 11 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্দেশনা না মেনে ইচ্ছে মতো চার্জ কাটা হচ্ছে এটিএম বুথগুলোতে

Link Copied!

atmনিজস্ব প্রতিবেদক : এটিএম বুথ পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকগুলো ঢালাওভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে যাচ্ছে। প্রতিটি বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারের চার্জ তালিকা টানানোর কথা থাকলেও সে ব্যাপারে কারো কোনো তোয়াক্কা নেই। আর এরই আড়ালে চার্জ কাটছে ইচ্ছেমতো।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে। এতে বলা হয়েছে- ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশে (এনপিএসবি) অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের সব এটিএম বুথের দৃশ্যমান স্থানে ভিন্ন কোনো ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন, স্থিতি অনুসন্ধান এবং ক্ষুদে বিবরণী সংগ্রহের ক্ষেত্রে গ্রাহকের নিকট থেকে ধার্যযোগ্য সার্ভিস চার্জের হার সুস্পষ্টভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।
যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- এনপিএসবি এ অংশগ্রহনকারী ব্যাংকসমূহের আন্তঃব্যাংক এটিএম সেবাগ্রহনের ক্ষেত্রে অন্যের বুথ ব্যবহারে প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ সম্পর্কে অবহিত না থাকায় গ্রাহকগণ অনেক ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন।
কিন্তু সার্কুলার জারির প্রায় এক মাস পার হলেও সে অনুযায়ী কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি ব্যাংকগুলোকে। ঢাকার মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, ধানমণ্ডি, পল্টন, গুলশান, সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন ব্যাংকের বুথগুলো ঘুরে দেখা গেছে একটিতেও টানানো হয়নি এ চার্জ তালিকা। ফলে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। কেটে নেয়া হচ্ছে ইচ্ছেমতো চার্জ।
সম্প্রতি এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বেশ কিছু অভিযোগও জমা হয়েছে। অভিযোগগুলোর তথ্যানুযায়ী, একজন গ্রাহক ডাচ-বাংলার বুথ থেকে থেকে ওয়ান ব্যাংকের টাকা তুলতে গেলে তার কাছ থেকে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা ফি কেটে নেয়া হয়। যেখানে ফি নেয়ার কথা ১৫ টাকা। এ ধরনের বেশি চার্জ কাটার অভিযোগ উঠেছে ব্র্যাক ব্যাংকের বিরুদ্ধেও।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে এটিএমে অর্থ উত্তোলনে গ্রাহকের সর্বোচ্চ চার্জ ১৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ওয়ান, ব্র্যাকসহ কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে সেবা মাশুলের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ করেন গ্রাহকরা।
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি অপর একটি সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভিন্ন এটিএম ব্যবহারে নতুন করে চার্জ নির্ধারণ করে দেয়। এ অনুযায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে ১৫ টাকা করে কাটার কথা; যা আগে ছিল ১০ টাকা। সার্কুলারটি ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করার কথা থাকলেও তা মানছে না ব্যাংকগুলো।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে মানে এটা সবগুলো ব্যাংককে মানতে হবে। এটার ব্যতিক্রম ঘটার কোনো উপায় নেই। যদি ঘটে তাহলে আমরা বরাবরের মতোই ব্যবস্থা নেবো। কোনোপ্রকার ছাড় দেয়া হবে না। এখানে গ্রাহকের স্বার্থকেই আমরা প্রাধান্য দেই।’
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিগগিরি বুথগুলো পরিদর্শনে যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল। সার্কুলার দুটির নির্দেশনা মানায় কোনো প্রকার ঘাটতি থাকলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ৪০টি ব্যাংক এনপিএসবির আওতায় রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের ৬ হাজার ২০২টি এটিএম বুথ আছে। এছাড়া পয়েন্ট অব সার্ভিস মেশিন আছে ২২ হাজার ১২৩টি। ডেবিট কার্ড আছে ৭২ লাখ ৮৫ হাজার ও ক্রেডিট কার্ড ৭ লাখ ৭০ হাজার।