এটা কেবল একটা ভূখণ্ড নয়, এটা কোটি কোটি মুসলমানের আত্মার স্পন্দন। ফিলিস্তিন, বিশেষ করে বাইতুল মুকাদ্দাস (আল-আকসা মসজিদ)—একটি পবিত্র নাম, যা হৃদয়ের গভীর থেকে উচ্চারিত হয়। এই ভূমির জন্য হাজারো যুবক নির্ভীক চিত্তে জীবন বিলিয়ে দিচ্ছেন, তাদের মায়েরা চোখের জল লুকিয়ে সন্তান হারানোর শোককে রূপ দিচ্ছেন গর্বে। যেখানে মৃত্যু নয়, শহীদ হওয়াই লক্ষ্য। ফিলিস্তিনের মায়েরা আজ বিশ্বকে এক নতুন সংজ্ঞা শিখিয়েছেন—মাতৃত্ব মানে শুধু সন্তান জন্ম দেওয়া নয়, সন্তানকে ঈমানের পথে উৎসর্গ করাও। তারা তাদের সন্তানকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানান, কাঁদেন না, বরং বলেন— “তুমি শহীদ হও, বাইতুল মুকাদ্দাস যেন বেঁচে থাকে।” তাদের চোখে জল থাকে না, থাকে অগাধ বিশ্বাস আর গর্ব। শহীদ সন্তানের কফিনে চুমু নয়, চুমু রাখেন তার জীবন্ত পায়ে—কারণ জানেন, সন্তান আবার রণক্ষেত্রে ফিরবে, বাইতুল মুকাদ্দাসের সম্মানের রক্ষক হয়ে। বাইতুল মুকাদ্দাস কোটি মুসলমানের হৃদয়ের মিনার। এই শহর শুধু ফিলিস্তিনের নয়, এ শহর সমগ্র মুসলিম উম্মাহর আত্মার প্রতিচ্ছবি। এখানেই প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) মেরাজের রাতে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেছিলেন। এখান থেকেই ইসলামি ইতিহাসে শুরু হয় এক মহাবিপ্লব। এখানেই দাঁড়িয়ে আছে ইসলামি ঐতিহ্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। এই শহরের সম্মান বাঁচাতে, এই শহরের আযান যেন থেমে না যায়—সেই লক্ষ্যে প্রাণ উৎসর্গ করছেন অগণিত যুবক। তাদের এই আত্মবলিদানই বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়। এখানে এক শহীদ চলে গেলে আরেকজন প্রস্তুত হয়ে থাকে। এ যেন এমন এক জনপদ, যেখানে শহীদ হওয়া বীরত্বের চূড়ান্ত সম্মান। সন্তান মারা গেলে এখানকার মা বলেন:”আমার আরও ছেলে আছে। ওদেরও পাঠাব বাইতুল মুকাদ্দাসের রক্ষায়।” এই কথার পর প্রতিটি মা তার শহীদ সন্তানের কপালে চুমু খেয়ে তাকে জান্নাতের জন্য বিদায় জানান। চোখের জল জমে মনে, মুখে নয়। ফিলিস্তিন এখন শুধু একটা ভূখণ্ড নয়, এটা হচ্ছে ঈমানের এক জীবন্ত পরীক্ষা। বাইতুল মুকাদ্দাস কেবল ইট, পাথর, মিনার নয়—এটা মুসলমানদের হৃদয়ের স্পন্দন। যেখানে প্রতি ধ্বংসের মাঝে জন্ম নেয় নতুন প্রতিরোধ, নতুন শহীদ, নতুন ইতিহাস।

