ঢাকাWednesday , 9 April 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জুলাই গণহত্যাকারী শ্যামল সাহার পক্ষে ময়মনসিংহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব !

Link Copied!

পতিত শেখ হাসিনার রেজিমকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে জুলাই-আগষ্ট গণহত্যায় জামালপুরে অর্থ যোগানদাতা দূর্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক শ্যামল সাহার ব্যবসা রক্ষা করতে ময়মনিংহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবার আদা জল খেয়ে নেমেছেন। জনশ্রুতি রয়েছে ৫ আগষ্টের পর কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে ময়মনসিংহের সাবেক মেয়র একরামুল হক টিটু ও তার বড় ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শামীম এন্টারপ্রাইজের মালিককেও রক্ষা করেছেন বিএনপির ওই নেতৃত্ব। এ বিষয়ে বিএনপির উপর মহলকে অবহিত করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে । জানা গেছে, শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর জামালপুর দেওয়ানগঞ্জের বাসিন্দা দূর্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক শ্যামল সাহা ফুলেফেঁপে ওঠেছেন। এলজিইডি, সওজ, শিক্ষা প্রকৌশল, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জনস্বাস্থ্যসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একচেটিয়া ঠিকাদারীর নামে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। জামালপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, শেরপুর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলার ঠিকাদারী চলতো দূর্গা এন্টারপ্রাইজের আঙ্গুলের হেলনিতে। শুধু টাঙ্গাইল জেলাতেই এখনো ১৩৩ কোটি টাকার কাজ চলমান। টাঙ্গাইলে পিসি গার্ডার ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ে গেলেও শ্যামলকে স্পর্শ করতে পারেননি কেউ। টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় তার নামে রয়েছে ৫ শতাধিক কোটি টাকা। দূর্গা এন্টারপ্রাইজের নির্মাধীন টাঙ্গাইলে ভেঙ্গে পড়া পিসি গার্ডার ব্রিজের দৃশ্য ঢাকাতে সরকারী বিভিন্ন অফিসে জামালপুরের মির্জা আজমের পরিচিত বলে সবাই শ্যামল সাহাকে জানলেও জামালপুর জেলায় আওয়ামী লীগের সকল এমপির সঙ্গে তার ঘনিষ্টতা ছিল। জামালপুরের তৎকালীন এমপি আবুল কালাম আজাদকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ওই সময় শ্যামল সাহার ফেসবুক থেকে নেয়া শ্যামল সাহা গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার সাথে জাতিসংঘের সফরসঙ্গীও হয়েছিলেন। তৎকালীন ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদের সঙ্গে নিউ ইয়র্কে শ্যামল সাহা সেসময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী বিভিন্ন এমপির সঙ্গে ফটোসেশন করে নিজের লোকদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক ভাইল করে ব্যবসায়ীক ফায়দা লুটেছেন। জাতীয় নির্বাচনসহ জামালপুরের স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনসহ প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করেন। হাসিনার রেজিমকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে জুলাই-আগষ্ট গণহত্যায় জামালপুর এলাকায় অর্থ যোগান দিয়েছেন বলেও শ্যামল সাহার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে, যা খতিয়ে দেখার দাবি করেছে সূত্রটি। স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার পতন ও ভারতে পলায়ন করলেও জামালপুর ও ময়মনসিংহে বিএনপির নেতাদের ম্যানেজ করে শ্যামল সাহা ব্যবসার সাম্রাজ্য আরও প্রসার করতে চাচ্ছেন। সূত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক ২২ কোটি ২৬ লাখ ৬২ হাজার ১০৪ টাকার একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। যার প্যাকেজ নং- LGED/W-15A/Bridge-Culvert-16 । দূর্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক শ্যামল সাহা ফ্যাসিবাদের আরেক দোসর সড়ক ও জনপদের ঠিকাদার মইন উদ্দিন বাঁশী লিমিটেডের সঙ্গে জেবি করে উক্ত দরপত্রে অংশ গ্রহণ করে এবং ৫.০৬ কম দরে সর্বনিম্ন দরদাতা হলে নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (NOA) পান। তারপর ব্যাংকের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডি ময়মনসিংহ বরাবর সিকিউরিটি বা জামানতের টাকা জমা দিলেও স্বশরীরে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শেষ তারিখ গত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত স্ট্যাম্পে চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করেনি। কারণ ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার সড়ক ও জনপদের ভাগবাটোয়ারার ঠিকাদার মইন উদ্দিন বাঁশীর ছেলে সালাউদ্দিন সোহাগ ওই কাজের লিড পার্টনার হিসেবে ময়মনসিংহ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে স্বশরীরে যেতে রাজী নন। তাই জেবির ২য় পার্টনার দূর্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক শ্যামল সাহার পক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে চুক্তিনামার স্ট্যাম্প নিয়ে সালাউদ্দিন সোহাগের স্বাক্ষর করাতে ময়মনসিংহ বিএনপির কোনো কোনো শীর্ষ স্থানীয় নেতা আদা জল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। বিএনপির কাজ কী পতিত ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করা এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সাহায্য করা ? এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ শহরের ওই নেতাকে ফোন করলে সাংবাদিকের নাম্বার চিনতে পেরে কল রিসিভ করেননি। দূর্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক শ্যামল সাহাকে ফোন করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান। ময়মনসিংহ নিবার্হী প্রকৌশলীর দপ্তর বিএনপির ওই নেতার ভয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রকৌশলী এই প্রতিবেদককে জানান, নিয়মানুযায়ী অফিসে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করতে হয়। কিন্তু তারা অফিসে না এসে এক ধরণের জোরপূর্বক স্ট্যাম্প নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। এছাড়া গত ৩ এপ্রিল চুক্তি করার তারিখ শেষ হয়ে গেছে। ইজিপি সিস্টেমে কারও কিছুই করার থাকেনা। সুতরাং আমাদের পুনঃদরপত্রের অনুমোদন চেয়ে প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে।