গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে গোপালগঞ্জে ৪ মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সিপিবি খুলনা জেলা সভাপতি ডা. মনোজ দাস, গোপালগঞ্জ জেলা সিপিবি সভাপতি অ্যাডভোকেট ডা. নিহার রঞ্জন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু হোসেন, জেলা উদীচীর সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম, সিপিবি নেতা পংঙ্কজ মজুমদার, কমলেশ বেদজ্ঞের মেয়ে সুতপা বেদজ্ঞ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এর আগে সকালে নিহতদের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়া হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটি (সিপিবি) গোপালগঞ্জ জেলা কমিটি, জেলা উদীচী ও পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতদের সমাধী ও কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে মামলার স্থগিতাদেশ বাতিল ও বিচার কার্য পরিচালনা করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ কোটালীপাড়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনী কাজ শেষে ১০ মার্চ সকালে কোটালীপাড়া উপজেলার সিকিরবাজার থেকে নৌকাযোগে গোপালগঞ্জে রওনা দেন। নৌকাটি টুপুরিয়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত মুক্তিযুদ্ধা কমিউনিস্ট পার্টি-ন্যাপ ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী ওয়ালিউর রহমান লেবু, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিষ্ণুপদ ও মানিককে রামদা, কোদাল, লোহার রডসহ ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার একদিন পর ১১ মার্চ একমাত্র বেঁচে যাওয়া লুৎফর রহমান গঞ্জরের ডায়িং ডিক্লিয়ারেশন অনুযায়ী ও তৎকালিন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল কাদেরের কাছে দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী গোপালগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় ( নং ৫ তাং ১১.০৩.১৯৭৩ জি.আর নং ৯৬/৭৩)।
এ মামলায় হেমায়েত উদ্দিনসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে বর্তমানে ১৭ জন জীবিত রয়েছেন। ১০ আসামির মৃত্যু হয়েছে।

