আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত হয়েছেন এক ইরাকি অভিবাসী। তিনি জীবনে প্রথমবারে মত তুষারপাত দেখার সময় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন বলে দা ইনডিপেন্ডেন্ট পত্রিকা জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরে নিজ বাড়ির বাইরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন ৩৬ বছরের আহমেদ আল জুমাইলি। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এ খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়।
বৃহস্পতিবার গভীররাতে তুষারপাত দেখার জন্য দৌঁড়ে অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে যান আহমেদ আল জুমাইলি এবং তার ভাই। কেননা এর আগে তারা কখনো তুষারপাত দেখেননি। এ সময় তার স্ত্রী জাহারা ব্যস্ত ছিলেন বরফ পড়ার মনোরম দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার কাজে। বাইরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর গুলিবিদ্ধ হন জুমাইলি। এ সময় তিনি ‘আমি আঘাত পেয়েছি বলে’ চিৎকার করতে করতে ঘরে ফিরে আসেন । হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান জুমাইলি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ হত্যার ঘটনাকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ ( হেট ক্রাইম) বলে উল্লেখ করেছে আমেরিকার মুসিলিম সম্প্রদায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, জুমাইলি গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে খালি পায়ে প্রবেশ করেছিলেন দুই থেকে চার জন পুরুষ।
এদিকে ডালাসের ওই হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জুমাইলির প্রতিবেশীরা। মিশর থেকে আগত আসাদ ওবাইদ এবং ওমর খাত্তাব নামের দুই ব্যক্তি ডালাস থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনার মাত্র এক মাস আগে নর্থ ক্যারোলিনার চ্যাপেল হিলে বন্দুক হামলায় নিহত হয়েছিলেন একই পরিবারের তিন মুসলিম তরুণ-তরুণী। ‘মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষ ’ থেকে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছিল নিহতদের পরিবার। তবে মার্কিন পুলিশ বলছে, গাড়ি পার্কি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

