নিবন্ধন অধিদপ্তর আইন মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। যে মন্ত্রণালয় দেশের আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। অথচ বিগত স্বৈরশাসকের স্বেচ্ছাচারিতা ও খামখেয়ালিপনার কারণে আইন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সুনাম শুধু প্রশ্নবিদ্ধই হয়নি, এর যাতাকলে অনেকেই নিস্পেষিত হয়েছেন। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ইচ্ছা ও অনিচ্ছাই ছিল আইন। এছাড়া তার মৌখিক নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন অধিদপ্তরের (আইজিআর) কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। স্বৈরশাসকের অন্যতম দোসর গ্রেফতারকৃত সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকেই অবৈধ উপায়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তার নাম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন আদালত এবং রেজিস্ট্রশন পরিবারে প্রায় ৪শতাধিক কর্মচারি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর অন্তরালে প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখানে জেলা কোটা অনুসরণ করা হয়নি। শুধুমাত্র ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার সকল কর্মচারিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। যা নিয়ে ঐ সময় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। অথচ লুটেরা আনিসুল হক কারাগারে থাকলেও তার অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা এখনও বহাল তবিয়তে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্বৈরশাসকের আমলে আইন মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাচারিতা চরমে পৌঁছায়। আদালতে বিচারকরা ফ্যাসিবাদী স্টাইলে বিচার ব্যবস্থা কায়েম করেন। এর ফলে আইনের শাসন মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। শুধুমাত্র আনিসুল হকের দোহাই দিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার ক্ষেত্রে তারা রাম রাজত্ব কায়েম করেন। বিশেষ করে রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরের আওতাধীন কতিপয় জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব রেজিস্ট্রার আনিসুল হকের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। সে সময় অনেকেই সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেন। আনিসুল হককে সামনে রেখে দুই হাতে কামিয়েছেন কােটি কোটি টাকা। গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। আজ তারাও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এখন তারা অনেকেই আনিসুল হকের পরিবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বোল পাল্টিয়ে তারা ইতোমধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের উপর ভর করেছেন। কেউ কেউ খোলস পাল্টিয়ে নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, অসংখ্য জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব রেজিস্ট্রার আনিসুল হকে বেড রুমে যাতায়াত করতেন। যে কারণে তাদের ক্ষমতার হাতও ছিল অনেক লম্বা। চলনে বলনেও দাম্ভিকতা লক্ষ্য করা গেছে। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাসার কাজের লোকও নিয়োগের তালিকায় রয়েছে। এ নিয়ে স্বৈরশাসকের আমলে বেশ কয়েকবার দৈনিক পাঞ্জেরীতে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হলেও সাবেক আইনমন্ত্রী তা আমলে নেননি। যারা আনিসুল হকের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন পরিবারে বদলী বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন তারা এখনও বহাল তবিয়তে থাকায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। সচেতনমহল বলছেন, রাষ্ট্রীয় মদদে রাজনৈতিক পরিচয়ে রেজিস্ট্রেশন পরিবারে যারা বিগত সময়ে ব্যাপক লুটপাট করেছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে সুশাসন ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্দেশে রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়াল উপেক্ষা করে আইজিআরের দপ্তরে অসংখ্য কর্মচারি নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই সময় সারাদেশে কর্মচারি নিয়োগের হিড়িক পড়ে যায়। শত বছরের আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে নতুন পদ সৃস্টি করে কর্মচারি নিয়োগও দেওয়া হয়। এ সময় নিয়ােগ বঞ্চিতরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা আন্দোলনও যান। কিন্তু পরবর্তীতে ক্ষমতাচ্যুত আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্দেশে তৎকালিন ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার আন্দোলনকারীদের ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেন।

