কতিপয় অসৎ কর্মচারীদের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দেশব্যাপী রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরের সুনাম কোন ভাবেই রক্ষা করা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ অধিদপ্তরের কার্যকর কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করেই যেন সময় পার। অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কর্তৃপক্ষের উল্লেখযােগ্য ভূমিকা নেই বললেই চলে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন থেকে বিরাজমান থাকলেও এ নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। অনেকটা জোর যার মুল্লুক তার। দৈনিক পাঞ্জেরীর তথ্যানুসন্ধানে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের উত্তরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারীদের নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, খামখেয়ালীপনা ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে আজকের প্রতিবেদন। উত্তরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মচারীদের দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলছে। এখানে ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ কর্মচারিদের দৌরাত্ম দীর্ঘদিনের। তাদের লাগাম কােন ভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। তারা সাব রেজিস্ট্রারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করলেও থাকেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ কারণে দুর্নীতিবাজ কর্মচারিরা অনেকেই কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। উত্তরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্ট্রার সম্প্রতি বদলী হওয়ার কারণে নতুন সাব রেজিস্ট্রার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম যোগদান করেন। তাকেও এই দুর্নীতিবাজ চক্রটি ঘিরে ফেলেছে। যে কারণে কোন সাব রেজিস্ট্রারই এই সিন্ডিকেটের বাইরে কাজ করতে পারছে না বলে কয়েকজন নিষ্ঠাবান কর্মচারী দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান। সূত্র জানায়, সাব রেজিস্ট্রার, কেরানী এবং রাজস্ব খাতের দুই একজন কর্মচারি ছাড়া অন্যান্যদের নুন আনতে পানতা ফুরানোর মতই অবস্থা। অথচ কেউ কেউ কোটি কোটি টাকা অবৈধপথে উপার্জন করেও রয়েছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাদের দাপটে কমপ্লেক্স কাঁপে। বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার কারণে তাদের ক্ষমতার হাতও অনেক লম্বা। তারা দাম্ভিকতার স্বরে বলেন, ‘সাব রেজিস্ট্রার আসবে আর যাবে। কিন্ত আমাদের কোন বদলী নেই। যে কারণে আমাদের খুঁটি অনেক শক্ত’। অভিযোগ রয়েছে, তারা অনেক সময় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বালাম বইয়ের পাতা পাল্টিয়েও ফেলেন। শুধু তাই নয়, বালাম বইয়ের পাতা টেম্পারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তারা অনেকেই খালি পকেটে অফিসে আসেন। অথচ প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। সূত্র জানায়, সাব রেজিস্ট্রারের অজান্তে এ ধরনের আর্থিক অপরাধ চালিয়ে যান উক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা। এদের মধ্যে অন্যতম মঞ্জুরুল হক (মঞ্জু), ক্যাশিয়ার শাহেদ ও মহিউদ্দিন মানিক। এছাড়াও কয়েকজন কর্মচারী রয়েছেন তারা সব সময় ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থান করেন। যে কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলেন না। অভিযোগ রয়েছে, মঞ্জু, মানিক ও শাহিদ সিণ্ডিকেটের কাছে জিম্মী উত্তরা সাব রেজিস্ট্রি অফিস। সূত্র জানায়, ঝাড়ুদার মঞ্জু রেজিস্ট্রশন অধিদপ্তরের অনুমতি ব্যতিত প্রকাশ্যে দিবালোকে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। ঝাড়ুদার মঞ্জু মূল্যবান দলিলের নিরীক্ষার কাজ সম্পাদন করেন। তিনি এজলাসে দাঁড়িয়ে সাব রেজিস্ট্রারকে দলিল সম্পর্কে পরামর্শ দেন। রেজিস্ট্রশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা বড় ধরনের অপরাধ। যা রেজিস্ট্রেশন আইনে কোন ভাবেই পারমিট করে না। ঝাড়ুদার মঞ্জুরুল হকের (মঞ্জু) রাজধানীর উত্তরার কামারপাড়ায় কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খােঁজ পাওয়া গেছে। দায়িত্বশীলরা বলছেন, মঞ্জু, শাহেদ এবং মহি উদ্দিন মানিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আজীবনেও দাতা গ্রহীতাদের মুক্তি মিলবে না। এ থেকে পরিত্রানের কোন উপায়ও নেই। দুর্নীতিবাজ নকল নবীশ মহি উদ্দিন মানিক দীর্ঘ ৮ বছর উত্তরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশদের ত্রাণকর্তা হয়ে (সভাপতি) সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। নেতা হওয়ার কারণে সাব রেজিস্ট্রারদের জিম্মী করে রাখতেন। এ সুযোগে তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনকে তার অবৈধ আয়ের ব্যাপারে উত্তরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশগণ তদন্তের দাবী তুলেছেন। গত রাতে উত্তরা অফিসের সাব রেজিস্ট্রি মোঃ তৌহিদুল ইসলাম দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ‘আমি যোগদান করার পর এদের ব্যাপারে আমিও শুনেছি। আমি চেষ্টা করছি তাদের সংশোধনের জন্য। সংশোধন না হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র কার্পন্যতা দেখাবো না। উত্তরা অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অসৎ পথ অবলম্বন করলে সে দায় তার। অফিসের নয়’।

