নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বাস্তবায়নাধীন সব প্রকল্পের গুণগতমান বজায় রেখে তা সময় মতো শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সব মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও পরিকল্পনা অনুবিভাগের প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে সব ধরনের অপচয় রোধে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘সময় মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হলে প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি হবে না। আর সময় বৃদ্ধি না হলে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যায়। এতে করে অপচয় এমনিতেই কমে আসে।’
আগামী অর্থবছর থেকে কী ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়া হবে সভায় তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন মুস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকে সরকার সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই সঙ্গে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তথ্য প্রযুক্তি খাতভিত্তিক প্রকল্পেও আমরা বিনিয়োগ করবো। এ তিনটি খাতে বিনিয়োগকে আমরা আগামীর জন্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছি। এছাড়াও দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে আরো বেশি প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ একদিকে যেমন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশে পরিণত হবে, তেমনি গড়ে উঠবে জ্ঞান নির্ভর অর্থনীতি ও প্রযুক্তিভিত্তিক তথ্য ভাণ্ডার। ফলে বাস্তবায়িত হবে ২০২১, ২০৩০ এবং ২০৪১ সালের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন।’
প্রকল্প গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরো মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রকল্প হাতে নিতে হবে। আমরা এমন প্রকল্প হাতে নেবো যেখানে বিনিয়োগ করলে স্বল্প সময়ে সুফল পাওয়া যাবে এবং অর্থনীতিতে বহুমুখি ধনাত্মক প্রভাব ফেলবে। তাহলেই অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে।’
সভায় সারাদেশে প্রকল্প বণ্টন যেন সুষম হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে প্রকল্প বাস্তবায়নের যে চিত্র রয়েছে তা থেকে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসের বাস্তবায়ন হার থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসের বাস্তবায়ন হার বেশি। কাজেই কিভাবে বলবো যে বর্তমান সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

