প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের স্বৈরাচারী পতিত সরকারের দোসর ভারপ্রাপ্ত ডিজি আবু সুফিয়ান ও প্রাণিসম্পদ ঔষধাগারের পরিচালক ডাক্তার শাহিনুর আলম এখনও বহাল তরিয়তে দাবিয়ে বেড়াচ্ছেন। কেবল মাত্র কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরু শিষ্য মিলে গিলে খাচ্ছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। বিগত সময় তাদের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ থাকলেও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের ছত্রছায়ায় ঐ সকল অভিযোগ ধামাপাচা পড়ে যায়। তাদের অদৃশ্য শক্তির কাছে অনেকেই অসহায়। গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মিছিল করতে দেখা যায় ভারপ্রাপ্ত ডিজি আবু সুফিয়ান, পরিচালক ঔষধাগার শাহিনুর আলমসহ একাধিক কর্মকর্তাগণদের কে। ভারপ্রাপ্ত ডিজি আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে সরকারের উচ্চ পর্যায় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাকে পুরস্কার স্বরূপ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত ডিজির পদটি বাগিয়ে নেন। সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত ডিজি আবু সুফিয়ান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মকে নিয়ম বানানোই তার কাজ। শুধুমাত্র আর্থিক সুবিধার কারণে এই ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ ঔষধাগারে বিভিন্ন লটে দরপত্র আহ্বান করে প্রায় ২৯ কোটি টাকা ঔষধ, ভিটামিন, ক্রীমিনাশক সরবরাহ সংক্রান্ত দরপত্র আহ্বান করেন ৩১টি প্যাকেজে ৪ ডিসেম্বর ২০২৪। সেই দরপত্রের আলোকে মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদন প্রদান করে দরপত্র প্রাপ্ত ঠিকাদারদের অনুকূলে নোয়া প্রদান করেন কেন্দ্রীয় ঔষধাগার। ভারপ্রাপ্ত ডিজি আবু সুফিয়ানের মনোনীত ঠিকাদার উল্লেখিত দরপত্রের কোন কার্যাদেশ না পাওয়ায় তিনি ক্ষমতা অপব্যবহার করে গত ২০-০১-২০২৫ তারিখে স্মারক নং ৩৩.০১.০০০০.১০১.২৭.০১১(২).২৪-১৬৪ স্মারক মূলে দরপত্রগুলো প্রতিযোগিতা সীমিত করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে বাতিল করত, প্রাণিসম্পদ ঔষধাগারে মেডিসিন ক্রয় সংক্রান্ত ২৪টি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ প্রদান করেন পরিচালক প্রাণিসম্পদ ঔষধাগারকে। আহ্বানকৃত দরপত্র বাতিল করার ক্ষমতা শুধুমাত্র টেন্ডার আহ্বানকৃত কর্মকর্তা। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুণরায় টেন্ডার আহ্বানের নির্দেশ প্রদান করেন শুধুমাত্র মহাপরিচালকের আর্থিক সুবিধার কারণে। ২৪টি লটের যে সকল ক্রয় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত পুণরায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে তার বেশির ভাগই একমি কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজসে কোম্পানির ঔষধ বলে দরপত্র সূত্রে ও গোপন সূত্রে জানা যায়। সূত্রে আরো জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক টেন্ডার আহ্বানের দরপত্র বাতিলের বিষয়ে গত ২১-০১-২০২৫ তারিখে যার স্মারক নং ৩৩.০১.০০০০.১০৪.০৭.০০১.২৪-২৫/৮৩ স্মারকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এর নিকট মহাপরিচালকের স্মারকের সূত্র ধরে পত্র প্রেরণ করেন পরিচালক প্রাণিসম্পদ ঔষধাগার। পত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসার সরঞ্জমাদি (৩২৫২১০৫) কোটের বরাদ্দ হতে ভ্যাটেরিনারী ঔষধ কেমিক্যাল ক্রয়ের লক্ষ্যে ১৮-১২-২০২৪ তারিখের উন্মুক্তকরণ কমিটি কর্তৃক দরপত্র উন্মুক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক মূল্যায়ন শেষে online Evaluation Report অনুমোদন ক্রমে ১৯টি দরপত্রের Notification of Award (NOA) প্রদান করা হয়। যার বিপরীতে দরদাতা কর্তৃক পারফরমেন্স সিকিউরিটি দাখিল করার পরে দরপত্র বাতিল ও পারফরমেন্ট সিকিউরিটি অবমুক্ত করার প্রক্রিয়ার বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলেও (সিপিডিইউ) সেন্টার প্রকিউরমেন্ট এনটিটির মতামত উপেক্ষা করে পুণরায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে টেন্ডার আহ্বান করেছেন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও পরিচালক শাহিনুর আলম। অভিযােগ রয়েছে, দরপত্র সংক্রান্ত প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে টেন্ডার আহ্বান করেছেন তারা। অন্যদিকে মহামান্য হাইকোর্টের গত ৩০ জানুয়ারি দুর্বার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামক এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নাঈম বাদী হয়ে রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার রিটপিটিশন নং-১৯১৭, রিটপিটিশনে বিবাদী করা হয় সচিব মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, সিইও, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), মহাপরিচালক প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। পরিচালক প্রশাসন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পরিচালক প্রাণিসম্পদ ঔষধাগারকে। উক্ত রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে রিট আবেদনের শুনানি এবং প্রয়োজনীয় আদেশ তারিখ হতে দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে মর্মে উল্লেখ করেন। এছাড়াও মাননীয় হাইকোর্ট ডিভিশন ব্রাঞ্চ রিমোশন হিসেবে বিচারাধীন তাই এটি আইনগত প্রত্যাশায়ে উপরে উল্লেখিত রিট পিটিশনের বিষয়ে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক আদেশটি পাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক উত্তর দাতাদের দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে বলা হয়। মহাপরিচালক আবু সুফিয়ান পরিচালক প্রাণিসম্পদ ঔষধাগার শাহিনুর আলম উচ্চ আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দুই সপ্তাহ অপেক্ষা না করে তড়িঘড়ি করে পুণরায় দরপত্র আহ্বান করেছেন শুধুমাত্র তাদের মনোনীত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য। উক্ত অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আবু সুফিয়ানের মোবাইলে ফোন দিয়েও তার কোন মতামত পাওয়া যায়নি। পরিচালক ঔষধাগার শাহিনুর আলমের মোবাইলে ফোন দিয়ে পুনরায় ২৪টি লটের আহ্বানকৃত দরপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে জানান। সিপিটিইউ এর নিকট যে পত্র প্রেরণ করেছিলেন তার মতামত উপেক্ষা করে দরপত্র আহ্বান করেছেন বলে জানতে চাইলে এর কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি। মন্ত্রণালয়ের সচিব আহ্বানকৃত দরপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানেন বলে জানান। দুই সপ্তাহের মধ্যে রিট পিটিশনের বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট একটি সিদ্ধান্ত দিবেন। তড়িঘড়ি করে দুই সপ্তাহ পূর্ণ না হতে নতুন করে দরপত্রের আহ্বান করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি কোন জবাব না দিয়েই লাইনটি কেটে দেন। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকার পরেও লোভনীয় পদায়ন নিয়েই দরপত্র এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিচালক শাহিনুর আলম। শাহিনুর আলমের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ রয়েছে। তিনি কাউকে পাত্তা দেন না। তার ক্ষমতার হাত অনেক লম্বা। যে কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। উল্লেখ্য, বর্তমান পরিচালক শাহিনুর আলম মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত না হয়ে পরেও সন্তোষজনকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং কন্ট্রাক এয়ার্ড না করে কন্ট্রাক এয়ার্ড করা হয়েছে মর্মে ইজিবিতে এসএমএস দিয়ে সংশ্লিষ্টদের পিজি অবমুক্ত করেছেন। উক্ত বিষয়টির বিষয়ে ঠিকাদারগণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং সচিব ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরে।

