স্ত্রী, সন্তান থাকার পরেও পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে সহকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী। বিষয়টি জানাজানি হলে এলজিইডি সদর দপ্তরে চলছে কানাঘুষা। অন্যদিক উক্ত প্রকৌশলী তার দায় এড়াতে নানা মহলে দৌঁড়ঝাপ শুৃরু করেছেন। অভিযোগের সূত্র ধরে জানা গেছে, এলজিইডিতে চাকরি করার সুবাধে একজন নারী কর্মচারীর সঙ্গে উক্ত প্রকৌশলীর পরিচয় ঘটে ২০১৯ সালে। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে মন দেওয়া-নেওয়াও হয়। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে গড়ে ওঠে সুসম্পর্ক। বিশ্বস্ততার কারণেই তারা একে অপরের কাছাকাছি চলে আসেন। সম্পর্ক গড়ায় বাসাবাড়ি পর্যন্ত। তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে প্রেম। প্রেম থেকে প্রেমিক প্রেমিকায় জড়িয়ে যান তারা। অতঃপর শারীরিক সম্পর্ক। দীর্ঘ দিন এভাবে চলার পর তাদের সম্পর্কে আবার ফাটলও ধরে। যে কারণে সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শুরু হয় তোলপাড়। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী। উক্ত প্রকৌশলীর নাম হাসানুজ্জামান। তিনি এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের নীচ তলায় মেকানিক্যাল শাখায় কর্মরত। এখানে বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকায় তিনি বিভিন্ন সুন্দরী নারী কর্মচারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেন। তাদের পিছে ব্যয় করেন লাখ লাখ টাকা। কিন্তু এবারে হাসানুজ্জামানের আর শেষ রক্ষা হচ্ছে না বলে এলজিইডি সূত্র জানায়। যে কারণে সহকারি প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান বিষয়টিকে ফাঁদে ফেলার অপ্রচার বলে চালিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এ যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো। হাসানুজ্জামান বলছেন, তাকে ঐ নারী ভালোবাসার নামে ব্ল্যাক মেইল করেছেন। তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও হাতিয়ে নিয়েছেন ঐ নারী। ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরও জানা গেছে, হাসানুজ্জামান তাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য বার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। অভিযোগে আরও জানা গেছে, সহকারি প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন ঐ নারীর ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে। এলজিইডি ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পিইডিপি-৪ এর সহকারী মনিটরিং এক্সপার্ট হিসেবে কর্মরত ঐ নারীর অভিযোগে আরও জানা গেছে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে উক্ত সহকারি প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান ভুক্তভোগীর নিজ বাসা ও তার বন্ধুদের (হাসানুজ্জামানের) বাসায় নিয়ে শারীরিক সম্পর্কের নামে ব্যাভিচারি করেছেন। তিনি উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগে বলেন, হাসানুজ্জামান তার সহকর্মী হওয়ার সুবাধে তাকে খুবই বিশ্বাস করতেন। যে কারণে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীর বাসায় ও বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দৈহিক মিলনে বাধ্য করেন অসংখ্য বার। এ বিষয় তার কাছে একাধিক প্রমাণ পত্র রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। গোপন বিষয়টি ভুক্তভোগী তার সহকর্মীদের জানালে হাসানুজ্জামান মিমাংসার জন্য দেনদরবার শুরু করেন। ভুক্তভোগী তার কথায় রাজি না হওয়ায় হাসানুজ্জামান তাকে হত্যার হুমকি প্রদান করেন। অভিযোেগে তিনি বলেন, হাসানুজ্জামান তাকে বিয়ের আশ্বাস দিলে ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীকে ডিভোর্স দেন। কিন্তু এরপর হাসানুজ্জামান তাকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তিনি বিষয়টি জনসম্মুখে নিয়ে আসেন। এছাড়া হাসানুজ্জামান তার ছেলেকে কানাডা পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন সময় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তার কাছ থেকে। ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগী নারী তার পাওনা অর্থ ফেরত দিতে বলায় হাসানুজ্জামান তাকে হত্যার হুমকি দেন। এ কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছেন বলে ভুক্তভোগী নারী গণমাধ্যমকে জানান। এদিকে গত ২৬ জানুয়ারী স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টা বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হলে এলজিইডি প্রশাসন এ ব্যাপারে এখনও কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান দৈনিক পাঞ্জেরীকে।

