স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের আমলে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগপত্রে চাকুরী নিয়ে বিআইডব্লিউটিসিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারছে। স্বৈরাচারী লীগ সরকারের অনেক কর্মকর্তাদের পতন হলেও এখনও বহাল তরিয়তে আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। সূত্রে জানা যায়, গত ২৬-০৬-২০২৩ উপ সচিব নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে যার স্মারক নং ১৮.০০.০০০০.০২০.১১.০০১.১৭-৭৬ পত্রের মাধ্যমে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে বিআইডব্লিউটিসির চাকুরী হতে অপসারণের লক্ষ্যে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন তৎকালীন চেয়ারম্যানকে। অবৈধ পন্থায় চাকুরীতে বহাল থাকার বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিআইডব্লিউটিসিকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করলে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল, উপ-প্রকৌশল অধীক্ষক (চ:দ:) মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট পিটিশন করেন। এতে তার চাকুরী বহালের বিষয়ে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ প্রদান করেন আদালত। বিআইডব্লিউটিসির আইন বিভাগ ও চীফ আর্সোনেল ম্যানেজারের সহযোগিতায় চাকুরীতে এখনও বহাল আছেন তিনি। শুধুমাত্র বিআইডব্লিউটিসির আইন বিভাগ ও প্রশাসন, স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল কর্তৃক আর্থিক লেনদেনের কারণে অবৈধ চাকুরী নিয়মিতভাবে করেই যাচ্ছেন। অথচ কর্তৃপক্ষ মহামহান্য হাইকোর্টে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের দায়েরকৃত রিটের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে পদক্ষেপ নিলেই রিট পিটিশন মামলাটি খারিজ হওয়ার কথা বলে আইনজ্ঞরা মনে করেন। অথচ তাদের যোগসাজসে রিট পিটিশনের মেয়াদ একের পর এক বৃদ্ধি করে চাকুরীতে বহাল তরিয়তে আছেন তিনি। শুধু তাই নয় সাবেক বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার বর্ণিকের ছত্র ছায়ায় থেকে বদলী বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ১২-১১-২০২৪ স্বারক নং ১৮.১২.০০০০.০৭.০৯.২০২৪/ ৪০৯ স্মারকে ১৩ জন কর্মচারীকে একপত্রের মাধ্যমে বদলীর আদেশ প্রদান করেন। অভিযোগ রয়েছে প্রতিজন থেকে ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য করেন। অন্যদিকে গত ২৬-১১-২০২৪ তারিখে স্মারক নং ১৮.১২.০০০০.০৭(০৩).২০২০-২০২৪/৪২৩ স্মারকে ক্রীড়াবান পদে ২জনকে বদলি প্রদান করেন। এছাড়া ০২-১২-২০২৪ তারিখে স্মারক নং ১৮.১২.০০০০.০৭.০৯.২০২০-২০২৪/৪৩১ অদক্ষ ফিটার পদে বদলি করেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। এভাবে বদলি বাণিজ্যর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার বর্ণিকের আর্শীবাদপুষ্ট হওয়ার কারণে। বিআইডব্লিউটিসিতে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ভুয়া নিয়োগপ্রাপ্ত স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। মন্ত্রণালয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তর কর্তৃক তদন্তে সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে সরকারের ছাড়পত্র গ্রহণসহ বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং বিধিবদ্ধ বাছাই কমিটির সুপারিশ ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ ব্যতিত স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে বিআইডব্লিউটিসির চাকুরীতে নিয়োগ বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিকট বিধি বর্হিভুত মর্মে প্রকাশ পায় এবং চাকুরী শুরু হইতে উক্ত পত্রের তারিখ পর্যন্ত তার গ্রহণকৃত বেতন, ভাতা সমূহ অর্থ আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অদৃশ্য শক্তি ও লীগ সরকারের মন্ত্রীদের ছত্রছায়ায় সেই সকল কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। অসহায়ের মত হয়ে যান বিআইডব্লিউটিসি’র তৎকালীন চেয়ারম্যান সহ অনেক কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের নিকট। লীগ সরকারের আমলে দাপিয়ে বেড়ানো দুর্নীতিগ্রস্থ স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল রয়ে গেছেন এখনও সকল ধরা ছোয়ার বাইরে। বিগত সময় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত করেন তৎকালীন জিএম একাউন্টস চলতি দায়িত্ব মোঃ ফজলুল হক কর্তৃক তদন্তে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। তৎকালীন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে তদন্তের রিপোর্ট দৈনিক পাঞ্জেরীর হাতে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তার মতামতে উপস্থাপন করেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল নিয়োগ সংক্রান্ত এডহক কমিটি ভিত্তিক নিযুক্ত কর্মচারী নিয়মিতকরণ বিধিমালা ১৯৯৪ এর ৪(ক) বিধি অনুযায়ী উক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে নির্ধারিত বয়স সীমা লঙ্গন করে সরকারের কোটা পদ্ধতি অনুসরণ না করে ছাড়পত্র বিহীন পদে নিয়োগ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ না করে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে প্রচলিত নিয়োগ বিধি বা পদ্ধতি লঙ্গনের মাধ্যমে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল। শুধুমাত্র তৎকালীন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এডহক ভিত্তিক নিয়োগ ও নিয়মিতকরণ বিধি বর্হিভূত অস্বচ্ছ ও ক্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রদান করেছিলেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে। এছাড়াও তদন্ত রিপোর্টে ডক-২ এ কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন অসৎ উপায়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগযুক্ত প্রমাণিত হয়েছিল। অবৈধভাবে অসৎ পন্থায় নিয়োগপ্রাপ্ত স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১৪-০৭-২০২২ দুদক প্রধান কার্যালয়ের স্মারক নং ০০.০১.২৬০০.৬০০.০১.২১০.২২.২৫.৯২৬ স্মারক মূলে তদন্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম সহকারী পরিচালক (অনুসন্ধ্যান ও তদন্ত -১ দুদক কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি প্রমাণ মেলে লীগ সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই সকল অভিযোগ তার অবৈধ টাকার প্রভাবে ধামাচাপা পড়ে যায়। যা আজো আলোর মুখ দেখেনি। রাজধানীর গ্রীণ রোডে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ২ হাজার স্কয়ার ফিটের বিলাস বহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করে সেখানে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। তার দেশের বাড়ী যশোর জেলা অভয়নগর উপজেলায় মাটিয়াহাটি এলাকায়। সূত্র জানায়, ভারতেও কোটি কোটি টাকা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি। অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারচ্ছে। সূত্রে জানা যায়, গত ০৫-০৭-২০২২ তারিখে চীফ পার্সোনেল ম্যানেজার মানসুরা আহমেদের এক পত্রে যার স্মারক নং- ১৮.১২.০২৭.০৩.০৩.২২৫.২০২২-৯৬৬ স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো পত্র প্রেরণ করেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে। সূত্রে আরও জানায়, স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিসি থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক যার স্মারক নং- ০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.২৮২.২১-২৮৫৪ তারিখ ১৯-০১-২০২২ পত্রের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানকে তার আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয় অবহিত করেন দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের উপ-পরিচালক ইমরুল কায়েস। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি থেকে একটি উচ্চ সম্পন্ন তদন্ত টীম গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ১৩-০৬-২০২২ তারিখে তদন্তে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতির প্রমাণ পায় এবং তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে দোষি সাবাস্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমাও দেওয়া হয় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান কার্যালয়। তৎকালীন এডহক কমিটির কর্মকর্তাদেরকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়ম বর্হিভূতভাবে অবৈধ পন্থায় চাকুরী নিয়মিত করেন। চাকুরি নিয়মিত হওয়ার পরে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে পড়েন। তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তিকে ম্যানেজ করে ডক-২ এ আরিচা ঘাটে বদলি হন। আরিচা ঘাটে যোগদানের পরেই বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অতিরিক্ত মালামালের চাহিদা
দেখিয়ে ও রিপেয়ারিং কাজ না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। সেই সময় তৎকালিন চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তির কাছে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তার অবৈধ টাকার প্রভাবে সেই সকল অভিযোগ আমলে নেননি কর্তৃপক্ষ। যে কারণে কর্মকর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিআইডব্লিউটিসিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেখিয়ে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। গুরুতর অভিযোগ থাকার পরেও বহাল তবিয়তে আছেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। তার অবৈধ পন্থায় উপার্জিত টাকা দিয়ে সকলকে ম্যানেজ করে ফেলেছেন বলে বিআইডব্লিউটিসির একাধিক কর্মকর্তাদের কাছে বলে বেড়াচ্ছেন। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

