ঢাকাSaturday , 1 February 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এখনও ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়নি

তালুকদার রুমী
February 1, 2025 10:53 pm
Link Copied!

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রকল্প পরিচালকদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। পুরাতন সিণ্ডিকেটের হাত থেকে কোনক্রমেই উদ্ধার করা যাচ্ছে না। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিরাজ করছে স্থবিরতা। কৃষি প্রধান বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়নের সঙ্গে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১৭টি সংস্থার মাধ্যমে কৃষককে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আর ১৭টি সংস্থার মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষি সম্প্রসারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। শুধুমাত্র কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরই রয়েছে মাঠ পর্যায়ে বিশাল কর্মীবাহিনী। যারা প্রশিক্ষণ, প্রদর্শণী, উদ্বুদ্ধকরণ, মাঠ দিবসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সরাসরি কৃষককে সহায়তা প্রদান করে। আর এ কাজে অর্থ সহায়তা করে বিভিন্ন প্রকল্প। বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে প্রায় ৩০টির অধিক প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের মাধ্যমে এই প্রকল্প গুলো বাস্তবায়িত হয়। সাধারণত দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তারাই প্রকল্প প্রস্তুতে সহায়তা করেন এবং তাকেই প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে এই নিয়ম উপেক্ষিত হয়েছে। প্রকল্প যেই প্রস্তুত করুক না কেন আওয়ামীপন্থী কৃষিবিদ নেতার বাইরে কাউকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি। মানসম্মত উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তুত করেন ড. মাহফুজ হোসেন মিরদাহ। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় তৎকালীন কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর আস্থাভাজন এস এম কামরুজ্জামানকে। একইভাবে আউয়ুবুর রহমানের প্রস্তুতকৃত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক করা হয় বেনজীর আহমেদকে। ড. সাইফুল ইসলামের তৈরীকৃত টিস্যু কালচার প্রজেক্ট তার মতামত উপেক্ষা করে এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তালহা জোবায়ের মাশরুরকে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত প্রকল্প পরিচালকের হর্টিকালচারে কাজের কোন অভিজ্ঞতাই নেই। একইভাবে বনি আমিন, জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী কৃষিবিদ নেতারা প্রকল্প পরিচালক পদ বাগিয়ে নেন। আর এই প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে প্রধান ভূমিকা পালন করেন সাবেক কৃষি মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের সহযোগী কৃষিবিদ হামিদুর রহমান। এই হামিদুর রহমানকে ৩৪ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে মহাপরিচালক পদে অধিষ্ঠিত করেন তৎকালীন কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। সূত্র জানায়, কৃষি সেক্টরের আতঙ্ক এবং বিভেদের মূল কারিগর এই হামিদুর রহমান বর্তমানে এসএসিপি প্রকল্পের কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে উপরেক্ত প্রভাবশালী প্রকল্প পরিচালকদের অর্থায়নে ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের উপর আস্থা জানিয়ে শান্তি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। ৫ আগষ্ট আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতনের পর হামিদুর রহমানসহ উপরোক্ত প্রকল্প পরিচালকগণ অপসারিত হবেন এটাই সবাই প্রত্যাশা করেছিলে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আওয়ামী সরকার পতনের ৬ মাস পরেও কােন প্রকল্প পরিচালকের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে বিরাজ করছে ব্যাপক ক্ষোভ। বর্তমানে হামিদুর রহমান নিজেকে জামায়াতে ইসলামের নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। তালহা জোবায়ের এখন বিএনপির বড় নেতা। বিএনপি জামায়াতের এক শ্রেণির সুবিধাভোগী নেতাদের বড় অংকের অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এ সমস্ত প্রকল্প পরিচালকগণ স্বপদে বহাল থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। আর এ কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা গত সরকারের আস্থাভাজন কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।আওয়ামী সরকারের তেলবাজ কিছু মিডিয়া নগ্নভাবে এদের সমর্থনে প্রচার প্রচারনাও চালাচ্ছে। গত সরকারের সময় যে সমস্ত আওয়ামী ব্যবসায়ীরা একচেটিয়া টেন্ডার বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা লুট করেছেন তাদের সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানই এখনও সকল কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং ঐ সকল ব্যবসায়িরা প্রকল্প পরিচালকদের স্বপদে বহাল রাখতে মোটা অংকের বিনিয়োগ করছেন। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বিগত সরকারের আমলে উপরোক্ত প্রকল্প পরিচালকগণ বিপুল পরিমাণ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হলে তাদের দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে-এমন আশঙ্কায় তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। যে কারণে তাদের ব্যাপারে এখনও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়। দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতনমহল।