উপজেলা প্রকৌশলীর বদলীর আদেশ বাতিল করতে বাধ্য হলেন প্রধান প্রকৌশলী। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উক্ত উপজেলা প্রকৌশলী বিগত ২০২১ সাল থেকে একই স্থানে দায়িত্ব পালন করে কােটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য করেছেন। এ কারণে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিতও হয়েছেন উক্ত উপজেলা প্রকৌশলী। তার ক্ষমতার হাত এতই লম্বা যে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকার কারণে তার ক্ষমতার দৌরাত্মের কাছে অনেকেই অসহায় হয়ে পড়েছেন। যে কারণে তাকে গত ১৯ ডিসেম্বর বদলী করা হয় নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে। মূলত তিনি উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী। কিন্তু ফ্যাসিবাদের দোসর আব্দুস সোবহান গোলাপের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে তাকে মাদারিপুর জেলার কালকিনি উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ কারণে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। উন্নয়ন কাজের কমিশন বাণিজ্যে তিনি আজ কোটিপতি। ফ্যাসিবাদের বিশ্বস্ত বন্ধু হওয়ার পরও তিনি এখনও বহাল তবিয়তে। স্বৈরশাসক পালালেও তার টিকিটি স্পর্শ করার ক্ষমতা কারো নেই বলে তিনি দম্ভোক্তি করেন। অবশ্য তার প্রমাণও তিনি দেখিয়েছেন। এই আলোচিত সমালোচিত এবং দুর্নীতিবাজ উপজেলা প্রকৌশলীর নাম রেজাউল করিম। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চরঘোস্তা গ্রামের বাসিন্দা। উক্ত দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে মাদারিপুর জেলার কালকিনি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে গত ২০২১ সালে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয় আব্দুস সোবহান গোলাপের নির্দেশে। সূত্র জানায়, আব্দুস সোবহান গোলাপের একান্ত আস্থাভাজন প্রকৌশলী রেজাউল করিম ছিলেন আওয়ামী আমলে বেশ ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তিনি কাউকে পাত্তা দিতেন না। এলাকাবাসী বলছেন, এখনও তার আচরণের পরির্তন হয়নি। গোপালপুর, কাজীবাকাই, বালিগ্রাম, ডাসার, নবগ্রাম, আলিনগর, এনায়েত নগর, শিকারমঙ্গল, সাহেবরামপুর, রমজানপুর, কয়ারিয়া, বাঁশগাড়ী, লক্ষ্মীপুর এবং চরদৌলতখান ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কালকিনি উপজেলা। আয়তনের দিক থেকে বেশ বড় উপজেলা হওয়ার কারণে রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সরকারের বাজেট ছিল উল্লেখযোগ্য। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা অবৈধ পথে উপার্জন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুন বেশ কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, নির্ধারিত হারে বিপুল পরিমাণ কমিশন বাণিজ্য করেন প্রকৌশলী রেজাউল করিম। বিল পাশের ক্ষেত্রে তাকে নির্ধারিত হারে ঘুষ না দিলে বিলে স্বাক্ষর করতেন না প্রকৌশলী রেজাউল করিম। একদিকে বিপুল অর্থ আর অন্যদিকে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি গত ৩১ ডিসেম্বর তার বদলীর আদেশ স্তগিত করাতে বাধ্য করেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথকে। গতকাল এসব অভিযোগের ব্যাপারে তাকে মােবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি দম্ভোক্তি করে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

