বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেডের (ডেসেকা) গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। অভিযোগের পর অভিযোগ দায়েরের পরেও ভুক্তভোগীরা কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র শান্তনার বাণী শুনিয়ে ঘুম পড়িয়ে রাখেন ভুক্তভোগীদের। বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেভাবে মানুষের রক্ত চুষে নিয়েছেন এখনও তারা তাই করছেন। ফলশ্রুতিতে বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে। সূত্র জানায়, একজন ভুক্তভোগী ডেসকোর মিটার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, মিরপুর ১৩ নং সেকশনে অবস্থিত ডেসকোর কেন্দ্রীয় টেষ্টিং এন্ড রিপেয়ারিং বিভাগের কতিপয় অসাধু ও দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের খামখেয়ালীপনার কারণে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। সূত্র জানায়, তারা ভারতীয় ‘সিকোর মিটার’ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চড়া দামে গ্রাহকদের কিনতে করতে বাধ্য করছেন। তবুও এই দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচারী প্রকৌশলীরা বারবার থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের ক্ষমতার হাত নাকি অনেক লম্বা। তারা ডেসকোর প্রধান কার্যালয়ের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে চেয়ার পাকাপোক্ত করেছেন। এরা ফ্যাসিবাদের দােসর হিসেবে দীর্ঘদিন টেষ্টিং এন্ড রিপেয়ারিং বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। শত অভিযোগের পরও তাদের টিকিটি কেউ স্পর্শ করতে পারছেন না। কর্তৃপক্ষও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন ব্যবস্থাও নিচ্ছেন না। ঐ দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীরা যা বলেন, তাই তারা বিশ্বাস করেন। সূত্র জানায়, ডেসকোর প্রধান কার্যালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের এইসব দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের সঙ্গে গোপন আতাঁত রয়েছে। ভুক্তভোগীরা ভেবেছিল নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক যোগদান করলে হয়তো ফ্যাসিবাদের দোসরদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা/কর্মচারিদের শাস্তিমূলক বিচারের আওতায় আনা যাবে। কিন্তু তাও সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আশেপাশে যারা অবস্থান করছেন তারাও ঐ সিন্ডিকেটের কারো কারাে অফিসিয়াল বন্ধু। যে কারণে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ফাইল লাল ফিতার কবলে আটকে গেছে। সূত্র জানায়, ডেসকোর সদ্য অবসরে যাওয়া নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন ঐ সিন্ডিকেটের হোতা ছিলেন। তিনি ডেসকোর টেষ্টিং এন্ড রিপেয়ারিং বিভাগ (ল্যাব) থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কালাম আযাদ (আইডি ০০৮৪) এবং আশ্রাফ উল্ল্যাহ চৌধুরীর (আইডি ২১৩২) কাছ থেকে মােটা অঙ্কের উৎকোচ নিতেন। এখন ঐ চেয়ারে যিনি এসেছেন তিনিও অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের পথ অনুসরণ করছেন। ভারতীয় সিকোর মিটারের প্রতি তাদের এত দুর্বলতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। এ অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। সচেতন মহলের প্রশ্ন-ডেসকোর ল্যাবে কর্মরত এসডিই আবুল কালাম আযাদ এবং আশ্রাফ উল্ল্যাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এত অনীহা কেন। এ ক্ষেত্রে অনেকেই বলছেন, ‘চোরে চােরে মাসতুতু ভাই’। সূত্র জানায়, ডেসকোর ল্যাব সংলগ্ন মা ইলেকট্রিকের মালিক মনিরের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, স্বেচ্ছাচারি ও ফ্যাসিবাদের দোসর উক্ত এসডিই আবুল কালাম আযাদ এবং উপ সহকারি প্রকৌশলী আশ্রাফ উল্ল্যাহ চৌধুরী বাজারে মিটারের নানা সঙ্কট সৃষ্টি ভারতীয় ‘সিকোর মিটার’ চড়া দামে গ্রাহকদের কিনতে বাধ্য করেন। আর এখান থেকে হাতিয়ে নেন তাদের কাঙ্খিত মোটা অঙ্কের কমিশন। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযােগ করেও সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

