উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ডক্টর এবিএম ওবায়দুল ইসলামকে আগামী ৪ জানুয়ারি এক নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে তার নিজ এলাকায়।এ উপলক্ষ্যে বাগেরহাট জেলার মােড়েলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ এবং সুশীল সমাজের নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির উদ্যােগে মোড়েলগঞ্জ উপজেলাসহ ১৬টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা এখন গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা মেয়র তালুকদার দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান, ‘দক্ষিণ বাংলার কৃতি সন্তান ডক্টর এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে এলাকায় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে। আশা করি ৪ জানুয়ারি জনতার ঢল নামবে’। ডক্টর এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার শৈশব ও কৈশোর কাল কিছুটা সময় নিজ গ্রামেই কাটে। তিনি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন। এরপর বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতক ও ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি জাপানের তোয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৯ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবন সম্পাদনা ডক্টর এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় উক্ত বিভাগের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন।পরবর্তীতে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।দেশের একাধিক সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপনা করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) সভাপতিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক তারেক রহমান কর্তৃক পরিচালিত জিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক, জুলাই আগষ্ট গণ অভ্যূত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে সাহস জুগিয়েছেন। ৫ আগষ্ট তার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে বেগবান করা হয়।এতে করে দেশ নতুন ভাবে স্বাধীনতার পূর্ণতা পেয়েছে। ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন এবং ১৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্যের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ৩ ডজনের বেশি গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি একটি বইয়ের অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন। ৪ জানুয়ারি ডক্টর এবিএম ওবায়দুল ইসলামের ‘নাগরিক সংবর্ধনা’ উপলক্ষ্যে অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদকে আহ্বায়ক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রুহুল আমিন ফকিরকে সদস্য সচিব করে একটি ‘সংবর্ধনা আয়োজক কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। তার নাগরিক সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে দৈনিক পাঞ্জেরী এবং সাপ্তাহিক আমার জন্মভূমির পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে।

