ঢাকাWednesday , 25 December 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিআইডব্লিউটিএর সংরক্ষিত নৌপথের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
মনগড়া সংবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা; আতঙ্কিত কর্মকর্তারাও

এম আর সুমন
December 25, 2024 1:30 am
Link Copied!

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী দখলের কবলে পড়ে জলজ সম্পদের উপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার নদীর গতিপথ সচল রাখতে খননের জন্য নানা সময়ে উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে দেশের মৃতপ্রায় অনেক নদী খনন করে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অনেকটাই সফলতা পেয়েছে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কার্যকর এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক রেখে চলেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কিন্তু সেখানেও নানা রকম প্রতিবন্ধকতা থাকায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর অফিস অভ্যন্তরে বিরাজ করছে নানাবিধ অস্থিরতা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। এরই মাঝে যুক্ত হয়েছে বিআইডব্লিউটিএর কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার। ফলে এখানে অনেকটাই স্তবিরতা বিরাজ করছে।সংস্থাটির কর্মকর্তাও কর্মচারীরা মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। সূত্র জানায়, কিছু কিছু গণমাধ্যমে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করায় কর্মকর্তা /কর্মচারিরা বিব্রত বোধ করছেন। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নদী খননে দুর্নীতির অসত্য ও বানোয়াট অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। সাম্প্রতিককালে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি। ড্রেজিং প্রক্রিয়া, ড্রেজিংয়ের কারণে প্রাপ্ত মাটি/বালি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞ্যাত না হয়ে আলোচ্য প্রতিবেদন ৩টি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রচার করায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আবু ছালেহ মোহাম্মদ এহতেশামুল পারভেজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নদী খননে দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সরকারি এই সংস্থার অভ্যন্তরের সৎকর্মকর্তারা এখন অস্থিরতার ভিতরে রয়েছেন। ইদানিং সরকারি সংস্থায় কর্মরত অফিসারদের বিরুদ্ধে যে লাগামহীন দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হচ্ছে তাতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এদিকে অপর একটি সূত্র বলেছে, বিআইডব্লিউটিএ বিভিন্ন সেক্টরের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের মধ্যে অহেতুক ভীতি ছড়ানো হচ্ছে। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ শত্রুতা থেকে অনেক সৎ কর্মকর্তাকে কোনঠাসা করতে এভাবে মিথ্যা খবর প্রকাশ করে তাদেরকে ভীতির ভিতরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে অনেক সৎ কর্মকর্তার ভিতরে শঙ্কা বিরাজ করছে। মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পরেও কোন তদন্ত বা রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ না নেওয়ায় কার্যত তাদের কর্মস্পৃহাকে বাধাগ্রস্থ করছে। এসব ভিত্তিহীন সংবাদ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। যে কারণে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে দেশের যেসব নৌ রুট বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে সেই সব রুটগুলো সচল রাখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগ। ১৯৬২-৬৭ সালের জরিপে বাংলাদেশে নৌপথ ছিল ২৪ হাজার নটিক্যাল মাইল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই নদীপথের সংখ্যা কমলেও দেশের বর্তমান নৌপথ সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি। এদিক থেকে নৌ পরিবহন খাতে বড় অবদান রাখছে এই সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিএ। একই সাথে নদী তীর রক্ষায় অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি। অবৈধ নৌযান আটক ও জরিমানা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সংস্থাটি। নদীমাতৃক ও কৃষিপ্রধান এবং প্রাকৃতিক মৎস্য নির্ভর প্রিয় মাতৃভূমিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে আত্মনির্ভরশীল করতে অমূল্য জল সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার অনস্বীকার্য। সে জন্য নদ-নদী সচল রাখা, নৌ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও উন্মুক্ত জলসম্পদ রক্ষা ও সংরক্ষণ আবশ্যক। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনসহ নানা ঝুঁকি মোকাবেলায় শত প্রতিকূলতার মধ্যেও রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা নদীখননে মনোযোগী ছিলেন।অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কাজ করছে একটি মহল। যার ফলশ্রুতিতে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর ধারাবাহিক কাজে যারা নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, উল্টো তাদেরকেই সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। জানা গেছে, তুরাগ ও বুড়িগঙ্গাসহ বিভিন্ন নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং এই দুই বন্দরের নদীর তীরবর্তী জমি ইজারাসহ বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক কার্যকর ভূমিকা রেখেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। মূলত এই সেক্টরের ধারাবাহিক অভিযান একটি মহলকে খুশি করতে পারেনি। ফলে তারা নিষ্ঠাবান এইসব কর্মকর্তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের নদী খনন প্রকল্পে অর্থাৎ ড্রেজিং বিভাগের প্রকৌশলীগণ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে তাদের নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এই কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান প্রকৌশলীগণের নিরলস পরিশ্রমের ফলে দিনের পর দিন সরকারি সংস্থাটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। করোনাকালীন সময়েও তারা নিজের জীবনবাজি রেখে দেশের জন্য কাজ করেছেন। ড্রেজিং বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নদীমাতৃক আমাদের এই দেশ, সেই নদীর গতিপথ ঠিক রাখতে ও নদীকে চলাচলের উপযুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু উন্নয়নমূলক কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছে একটি কুচক্রী মহল। অনেক সময় ভিত্তিহীন সংবাদ সেবা প্রদানে অন্তরায় হয়ে পড়ে বলে তারা মন্তব্য করেন। গত ১৪ ডিসেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বাংলাদেশ শিপিং রিপোর্টার্স ফোরামের কর্মকর্তা ও সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নৌপথ খননের উপর জোর দেয়া হয়েছে। কাজের সুবিধার্থে ৩৫টি ড্রেজার তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তৈরি হচ্ছে বড় বড় ড্রেজারও। আগামী জুন মাসের মধ্যে এ সব ড্রেজার বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজার বহরে যোগ হবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি দায়িত্ব নিয়েই তারা ও আপনারা সাংবাদিকরা কাজ করছেন। এ বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি।