ঢাকাSaturday , 30 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে সাবেক মন্ত্রী মির্জা আজমের ভাগ্নের প্রাইজ পোষ্টিং! 

Link Copied!

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীর ভাগ্নেকে লোভনীয় পদে পোষ্টিং দেওয়ায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তারা এই পদায়নের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসর সাবেক মন্ত্রী মীর্জা আযমের ভাগ্নে পরিচয়ে পরিচিত এই কর্মকর্তাকে অনতিবিলস্বে ওই পদ থেকে অপসারণ করার দাবী তোলা হয়েছে। অন্যথায় কর্মচারি ও কর্মকর্তারা কমর্ বিরতির কর্মসুচি দিতে বাধ্য হবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। সূত্র মতে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিসিএস লাইভস্টক একাডেমীর পরিচালক শাহাজামান খানকে (তুহিন) বদলী করা হলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সবচেয়ে লাভজনক পদ এবং ডিজির পরের ক্ষমতাধর পদ পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন ও ঘাস উৎপাদন) পদে। পরিচালক কৃত্রিম প্রজনন ও ঘাস উৎপাদনের অধীনে দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি উপপরিচালকের নেতৃত্বে ৬৪টি অফিস, ৭টি আঞ্চলিক বুল স্টেশনসহ দেশের সব কয়টি উপজেলায় এফএএআই/উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা(এআই) পদধারীরা কর্মরত। এছাড়া সারাদেশ ব্যাপী প্রায় ৪২শত সেবা কর্মীও কর্মরত আছে এ দপ্তরের অধীনে। ১৯তম বিসিএসএর মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে যোগদানকৃত শাহাজামান খান (তুহিন) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন বিষয়ে ডিগ্রীধারী। সম্মিলিত গ্রেডেশন অনুযায়ী তার গ্রেডেশন নং-৯৩৬। চাকুরী জীবনে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির কারণে পদোন্নতি প্রাপ্তিতে বিলম্ব ঘটলে শাহাজামান খান (তুহিন) জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, কুমিল্লায় উপ পরিচালক হিসাবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিমের কাছের এবং সাবেক মন্ত্রী মির্জা আজমের ভাগ্নে হওয়ায় তুহিন পরিচালক পদের পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। একাধিকবার মির্জা আজমের নিকট হতে আধা সরকারী পত্র (ডিও লেটার) নিয়ে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিলেন এই তুহিন। যার ফলে পরিচালক পদে পদোন্নতির পর বিসিএস লাইভস্টক একাডেমীর মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোষ্টিং নিয়ে নেন। সূত্র মতে সাভারে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে সুচতুর তুহিন প্রশিক্ষণের এবং আনুষাংগিক খাতের ৪০% অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সর্বশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিমকে ব্যবহার করে অধিদপ্তর হতে বিশেষ বরাদ্দ নেয় এবং প্রাপ্যতার বাইরে একটি পাজেরো জীপ বাগিয়ে নেন। তুহিন প্রতিদিন ঐ সরকারী গাড়ীতে করে ঢাকা হতে সাভারে যাতায়াত করতেন এবং গাড়ী সরকারের অনুমতি ছাড়াই তার বাসায় রেখে দিতেন। এতকিছুর পরেও শাহাজামান খান তুহিন খুশী হতে পারেননি। তিনি ৫ আগষ্ট পট পরিবর্তনের সাথে সাথে বিএনপির নেতাদের সাথে সাথে যোগাযোগ শুরু করে দেন। কিন্তু মির্জা আজমের ভাগ্নে ও আওয়ামীপন্থী হওয়ার কারণে তুহিনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বিএনপিপন্থী নেতা উপ-পরিচালক ও বর্তমানে প্রকল্প পরিচালক ডাঃ আব্দুর রহিম ও অন্য নেতাদের কারণে তুহিন প্রায় ২০-২৫ দিন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। কিন্তু সুচতুর তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখাকালীন পরিচিত/বন্ধুদের মাধ্যমে কৃষকদলের সভাপতি হাসান জরিফ তুহিন, বিএনপি নেতা কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, কৃষিবিদ তোফা, এ্যাবের সভাপতি কৃষিবিদ হারুন অর রশিদকে দিয়ে ডাঃ রহিম গংদের মাধ্যমে তদবীর করে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালনকারী এটিএম মোস্তফা কামালকে ম্যানেজ করে বিগত ২০/১১/২০২৪ ইং তারিখে মন্ত্রণালয়ের ৪৭৫ নং আদেশের মাধ্যমে গ্রেডেশনের ৯১৮ নং ক্রমিকের কর্মকর্তাকে সরিয়ে পরিচালক, কৃত্রিম প্রজনন দপ্তর, ঢাকার পদে পোস্টিং বাগিয়ে নেন। উল্লেখ্য যে, ২০/১১/২৪ ইং তারিখ রোজ বুধবারে অর্ডার হওয়ার পরপরই তিনি ২২ ও ২৩ তারিখ সরকারী ছুটি থাকায় এবং পরিচালক, কৃত্রিম প্রজনন ছুঁটিতে থাকার পরেও কোন প্রকার দায়িত্বভার গ্রহণ ব্যাতিরেকে রবিবারেই যোগদান করেন। শাহাজামাল খান তুহিনকে পরিচালক, কৃত্রিম প্রজনন হিসাবে বদলীর আদেশের পরপরই তার বিরুদ্ধে বিএনপিপন্থী প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা বদলীর আদেশ বাতিলের দাবীতে অধিদপ্তর চত্বরে তাৎক্ষনিক বিক্ষোভ মিছিল ও মিটিং করে। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দাবী করেন যে, শাহাজামাল খান তুহিন একজন সুচতুর আওয়ামী সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সার্বক্ষনিক আওয়ামী পেশাজীবি সংগঠনের সংগে যুক্ত ছিলেন এবং সর্বশেষ ৪ আগষ্ট কথিত শান্তি মিছিলে বিএনপি-জামাতের বিপক্ষে শ্লোগান দিয়ে সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জসিম উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি মন্ত্রণালয়ের আদেশ পালন করতে বাধ্য। এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি। অভিযুক্ত পরিচালক শাহাজামাল খান তুহিনকে বারবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।