গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখতে এবং এতে সম্মতি প্রদানকারী গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী রেজিমে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের কার কী ভূমিকা ছিল, সেটা খুঁজে দেখতে হবে। এটা নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। তার আগে সবাইকে ঢালাওভাবে ফ্যাসিবাদ বা ফ্যাসিবাদের দোসর বলা ঠিক হবে না। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘জুলাই গণহত্যায় গণমাধ্যমের ভূমিকা: জবাবদিহিতা ও সংস্কার প্রস্তাব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় শফিকুল আলম এসব কথা বলেন। ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম চাই’ এর আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, গত ১৬ বছরে অনেক সাংবাদিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে তাদের পরিবার ও কমিউনিটিকে বিপদে ফেলেছেন। তারপরও সত্য প্রকাশে পিছ পা হননি। কিন্তু এই ১৬ বছরে বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক এই ফ্যাসিবাদের প্রতি সম্মতি উৎপাদন করেছেন। তিনি বলেছেন, গত ১৬ বছরে কীভাবে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ রেজিম কায়েম হয়েছে, সেটা সাংবাদিকদের তুলে ধরতে হবে। এগুলো যেন আমরা ভুলে না যাই। প্রতিটি ঘটনা লিপিবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। এটা আমাদের ইতিহাসের দায়। এই দায়টা পরিশোধ করতে হবে। আইসিটি আইনকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান শফিকুল আলম। একইসাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচার, খালেদা জিয়ার বিচার প্রক্রিয়া, গুম খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনগুলোতে সাংবাদিকদের অবস্থান বিষয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রেস সচিব বলেন, প্রতিটি ঘটনা ধরে ধরে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি বিষয়ে সিরিয়াস গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেখাতে পারবো কীভাবে ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমের একটা শ্রেণি ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। গণহত্যা যারা করেছে, তাদের বিচার করতে হবে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ ও ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম গড়ে তুলতে ফ্যাসিবাদকে চিরতরে বিতাড়িত করতে হবে। সংগঠনের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্লাবন তারিকের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও শিক্ষক মাহবুব আলম। এছাড়া জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা সভায় বক্তব্য রাখেন।

