নিজস্ব প্রতিবেদক : অবরোধের পাশাপাশি হরতালে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পরায় বগুড়া অঞ্চলের আলু চাষীরা এলাকার বাইরে রপ্তানি করতে না পেরে আলুর দাম পাচ্ছে না।
অপরদিকে পরিবহন ভাড়া ৩ থেকে ৪ গুণ বেড়ে যাওয়ায় এবং বাইরের পাইকাররা আসতে না পারার কারণেও লোকসান গুণতে হচ্ছে চাষীদের।
বিগত কয়েক বছরের লোকসানের ধারাবাহিকতায় এবারো চরম দরপতনে আলুচাষীদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ স্পস্ট হয়ে উঠেছে। সারাদেশের আলু উৎপাদনের সিংহভাগ হয়ে থাকে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে।
বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ এবার এ অঞ্চলের আলু চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় আলুর ফলন অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে ভালো হয়েছে। কিন্তু ভালো ফলন পেলেও মূল্য না পেয়ে চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিক্রি দামের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় লোকসানের হিসাব কষতে হচ্ছে প্রত্যেক চাষীকে। চরম মূল্য পতনের কারণে অনেকেই জমি থেকে আলু তুলছে না।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় আলুর চাষ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল তোলার উপযোগী অনেক আলুর ক্ষেত পরে আছে। শ্রমিকের খরচের টাকাও উঠবে না জেনে চাষীরা আলু তুলতে জমিতে যাচ্ছে না।
কৃষক সাদিক হাসন বলেন, ‘৫ বিঘার আলু কয়েক দিন আগেই তুলেছি। বিক্রি করে যে মূল্য পেয়েছি তাতে খরচের অর্ধেক হবে না। এই অবস্থায় বাকি জমিগুলোর আলু তুলতে ভয় পাচ্ছি। উৎপাদন খরচ প্রতিকেজি ৬ টাকা হলেও বিক্রি করতে হচ্ছে ৪ টাকায়।’
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি চাষ হয়েছে এই মৌসুমে। কৃষকরা মূলত বিগত বছরের লোকসান পোষাতেই এবার আরো বেশি চাষে মনোনিবেশ করেছিল। কিন্তু তাদের সেই লক্ষ্য পূরণ না হয়ে উল্টো লোকসানের ধারাবাহিকতায় নিমজ্জিত হয়েছে। বগুড়া জেলায় কম বেশি সব উপজেলাতেই আলুর চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে বগুড়া জেলায় আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল ৫৭ হাজার ৫৬ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ৬১ হাজার ৮২০ হেক্টর, জয়পুরহাট চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল ৩৬ হাজার ৭৬৩ হেক্টর জমি, চাষ হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমি, পাবনা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল ৮৫৪ হেক্টর জমি, চাষ হয়েছে ৮১৫ হেক্টর, সিরাজগঞ্জ চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল ২ হাজার ৬৩৪ হেক্টর জমি, চাষ হয়েছে ২ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমি। বগুড়া কৃষি অঞ্চলে মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৭ হাজার ৩০৭ হেক্টর, চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমি। বগুড়া জেলায় উৎপাদন আকারে লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ ছিল ১২ লাখ মেট্রিক টন।
এখানে গ্রানুলা,পাকরি,স্টারিক, মানা, এ্যভেরি, দেশিপাকরী, সূর্যমূখি, হীরা, মুলটা, রোজেন্টা, ক্যারেজ, ফেনসিলা, লালপাকরী, সাদাপাকরী, মাড্ডাই, তেলপাকরী, লালশীল, শীলবতি, ফ্যান্টপাকরি, কার্ডিলাল, রজেটো, ডায়মন্ড, ফেনসিলারসহ প্রায় ২৫ জাতের আলুর চাষ করেছেন এখানকার চাষীরা।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফরের উপ-পরিচালক চণ্ডিদাস কুণ্ডু জানান, এবার শীতের মাত্রা আলুর জন্য সহনশীল হওয়ায় এবং কৃষদের আমরা সব সময় পরামর্শ দিয়েছিলাম আর কৃষকরা সেই অনুযায়ী কাজ করায় অধিক ফলন হয়েছে। এবার বগুড়ায় কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ করেছে। ইতোমধ্যেই ৯৫ ভাগ আলু তোলা সম্পন্ন হয়েছে।

