আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ত্রিপোলি ও তব্রুক- এই দুটি কেন্দ্রে বিভক্ত হয়ে লিবিয়া-শাসন চলছে। এক বনে দুটি বাঘ থাকতে পারে না। তাই লড়াই চলছে ভীষণ। লিবিয়া তেলক্ষেত্রে ধনী। সুতরাং সে দেশে প্রভাব অর্জনে দখল করার প্রধান টার্গেট তেলক্ষেত্র। আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃত তব্রুকবাসী সরকার এতোদিন সরকারীভাবে ক্ষেত্রগুলোর মালিক ছিল, ফজরে লিবিয়া ছিনিয়ে নিচ্ছে একে একে।
এ-কে ঘিরেই জোর যুদ্ধ চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আল-বাহি ও আল-মাবরুক এলাকার তেলক্ষেত্র দখলে নিয়ে নিয়েছে ফজরে লিবিয়া। জানা যায়, সরকারী বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় অস্ত্র শেষ হয়ে গেলে সরকারী বাহিনী পিছু হটে। তখন বাকি কাজ সহজেই সমাধা করে ইসলামপন্থী বিপ্লবী দলটি। এবার তারা এগোচ্ছে আল দাহরা তেলক্ষেত্রের দিকে।
তব্রুক-বাসী প্রশাসনের অয়েল ইন্ডাস্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিস-এর মুখপাত্র কর্নেল আলি হাসান হাসি ফজরে লিবিয়ার অগ্রগতির কথা স্বীকার করেন। জানা যায়, লিবিয়ার তেলক্ষেত্রগুলোয় বিগত সপ্তাহখানেক ধরে কাজ স্থগিত রয়েছে। আভ্যন্তরীণ বিসংবাদের জন্যে তেল রপ্তানি উঠেছিল শিকেয়। যে কারণ ক্ষেত্রপরিচালনার ব্যয়বহুল সময়সাপেক্ষ কাজে হাত দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
এই সুযোগে সংগঠিত আক্রমণ করে ফজরে লিবিয়া। এ আক্রমণ মার্চের প্রথম সপ্তাহে তীব্রতা ধারণ করলেও মূলত শুরু হয় ফেব্রুয়ারি থেকেই। জানা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসে আল মাব্রুকের দখল নিতে গিয়ে এখনও পর্যন্ত ১১ জন প্রাণ হারিয়েছে। আলি হাসান হাসি আরও জানান, ত্রিপোলী-বাসী ফজরে লিবিয়া প্রশাসন আল সিদরা তেল-বন্দর লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালিয়েছে।
জবাবে তোব্রুক কেন্দ্রের ‘স্বীকৃত প্রশাসন’ ত্রিপোলির বিমানবন্দরে বিমানহামলা চালায় বলে জানা যায়। ত্রিপোলি বিমানবন্দরকে বিদ্রোহীরা প্রধান বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। দেশটির তেলক্ষেত্র ও বিমানবন্দরগুলোই একে অপরকে পরাস্ত করতে বিদ্রোহী ফজরে লিবিয়া (যারা সংঘবদ্ধ একাধিক ইসলামি বিপ্লবীদের দল) ও আব্দুল্লাহ আল তানির প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ।

