ঢাকাTuesday , 3 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেড়েই চলছে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের দৌরাত্ম

Link Copied!

Ambulenceনিজস্ব প্রতিবেদক : লাগাতার হরতাল অবরোধে যানবাহন সঙ্কটের সুযোগে বাড়তি ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে দেশের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসগুলো। মানবিক দিক বিবেচনা না করে রোগীর স্বজনদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন জানান, ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা আসতে তাদেরকে প্রায় দ্বিগুন ভাড়া গুনতে হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের চাহিদামতো ভাড়া দিতে না পারলে রোগীকে ঢাকা নিয়ে আসা সম্ভব হতো না। রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখেও এ্যাম্বুলেন্সওয়ালা স্বজনদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করেছে।
রোগীদের জিম্মি করে অ্যাম্বুলেন্স মালিকেরা ব্যবসা করছে দাবি করে আল মামুন নামের এই ব্যক্তি বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় রোগী নিয়ে আসতে আমাদের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা বাড়তি ভাড়া নিয়েছে। অথচ অ্যাম্বুলেন্সে না ছিলো এসি, না ছিলো অক্সিজেনের ব্যবস্থা।’
এ সময় কথা হয় নাজিম উদ্দিন নামের আরেকজনের সঙ্গে। চিকিৎসার জন্য বগুড়া থেকে বড় ভাইকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছেন তিনি।
কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে আমার বড় ভাইকে রিলিজ করে দিয়েছে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় বাড়ি নিয়ে যেতে পারছি না। মেডিকেল গেটের বাইরে অ্যাম্বুলেন্সের অভাব নাই। কিন্তু তারা ভাড়া হাঁকছে দ্বিগুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের অজুহাতে অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বেশি ভাড়া দাবি করছে। প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে রোগী নিয়ে ছিলাম। ওষুধ এবং চিকিৎসা খরচও কম না। তার উপর আবার অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অন্যায্য ভাড়ার কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে মধ্যবিত্তরা।’
মোতালেব হোসেন নামের এক অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে শুধু সাধারণ জনগণ বা রোগীরাই যাতায়াত করছে তা নয়। এখন অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীও অ্যাম্বুলেন্সে যাতায়াত করছেন।’
শুধু ঢাকা মেডিকেলই নয়, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, বিএসএমএমইউ, মিটফোর্ড, মিরপুরের হার্ট ফাউন্ডেশনসহ বেশ কিছু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। একই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তবে বৃত্ত ও সেবা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসসহ বেশ কিছু বেসরকারি ক্লিনিকের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র জানিয়েছে, টানা হরতাল-অবরোধের কারণে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অনেকেই অ্যাম্বুলেন্সকে নিরাপদ যানবাহন হিসেবে ব্যবহার করছে। রোগী আনা-নেয়ার বাইরেও অন্যান্য প্রয়োজনে মানুষ এখন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে চলাফেরা করছে। এতে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসগুলোর উপর চাপ বেড়েছে। আর এ সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে কিছু কিছু অ্যাম্বুলেন্স মালিক।
সুত্র জানায়, সরকারি খাতে অ্যাম্বুলেন্সের পরিমাণ অপ্রতুল হওয়ায় রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোর দারস্থ হতে হয়। ‍তাছাড়া দেশে চলমান সহিংসতায় আহত রোগীর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। এই চাপ সামলাতে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অতিরিক্ত ট্রিপ মারতে হচ্ছে। মালিকদেরও অতিরিক্ত বেতন দিতে হচ্ছে চালকদের। ফলে মালিকরা অতিরিক্ত টাকা তুলে নিচ্ছে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকেই।