ঢাকাSunday , 22 September 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বাঁধায় আটকে গেছে কাউন্দিয়াবাসীর স্বপ্ন!

তালুকদার রুমী
September 22, 2024 10:09 pm
Link Copied!

তিলোত্তমা রাজধানীর আশেপাশের গ্রামগুলোতে এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব। সরকারি সংস্থাগুলোর রশি টানাটানির কারণে নাগরিকরা রাস্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা থেকে আজও বঞ্চিত। রাজধানীর একদিকে তুরাগ নদী, অন্যদিকে বুড়িগঙ্গা। অদূরেই শীতলক্ষ্মা নদী। তবে রাজধানীর চতুর্দিকে রয়েছে তুরাগ এবং বুড়িগঙ্গা নদী। বাবু বাজার ব্রিজ এবং চীন মৈত্রী সেতু স্থাপনের ফলে দুই পাড়ে ব্যাপক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে মানুষের জীবনমানে রাতারাতি পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে আমিন বাজার ব্রিজ, কামারপাড়া ব্রিজ, টঙ্গী ব্রিজ, আশুলিয়া ব্রিজ এবং বিরুলিয়া সেতু নির্মাণের ফলে পাল্টে গেছে ঐসব এলাকার চিত্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছােট খাটো কল কারখানা, কুটির শিল্প স্থাপন এবং বড় বড় ইন্ড্রাস্ট্রি গড়ে উঠেছে ঐ পাড়ে। কিন্তু পিছিয়ে পড়েছে কাউন্দিয়াবাসী। এ যেন আলোর নিচে অন্ধকার। একটি ব্রিজের অভাবে কাউন্দিয়াবাসীর স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। তাদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সাভার উপজেলার ১১ নং কাউন্দিয়া ইউনিয়নে গ্রামের সংখ্যা ২২ টি ও মোট আয়তন ১০.৯৪ বর্গ কিলোমিটার এবং ভোটার সংখ্যা ২০,৪২২ জন। কিন্তু বেসরকারি হিসেবে জনসংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশী। তবে একটি আধুনিক ব্রিজের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তুরাগ নদী পার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নদী পারাপারে তাদের কর্মঘন্টার ব্যাপক অপচয় হচ্ছে। আবার মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটছে। সেতুর অভাবেই ঐ এলাকার মানুষের জীবনে এখনও আলোর ছোঁয়া লাগেনি। কাউন্দিয়াবাসীর সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, গত ৫ বছরে ১৫০টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মা ও শিশুসহ অন্তত ৮৬ জন মারা গেছে। এছাড়া ঐ ২২ গ্রামের মানুষকে তুরাগ নদী পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন যেতে হয় রাজধানীতে। হাট বাজার, অফিস আদালত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতেও নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয় সেতুর অভাবে। সূত্র জানায়, কয়েক লাখ মানুষের জীবনমান থমকে আছে এই সেতুর অভাবে। আবার কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয় না। যে কারণে সরকারের সদয় বিবেচনায় বেশ কিছুদিন পূর্বে কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ২২ গ্রামের শত বছরের স্বপ্ন কাউন্দিয়া ব্রিজ অনুমোদিত হয় একনেক সভায়। এ খবরে কাউন্দিয়াবাসী বেশ উচ্ছ্বাসিত এবং উদ্বেলিত হয়। এ খবরে তারা শুকরিয়াও আদায় করেন। কিন্তু বাধ সাধে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর ব্রিজের উচ্চতা জটিলতায় কাজ বন্ধ রাখতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে চিঠি দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বর্তমান ব্রিজটি ৭.৬২ নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স উচ্চতা বিবেচনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করে এলজিইডি। কিন্তু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে তুরাগ নদীকে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নিতকরণের প্রস্তাবনা হওয়ায় ব্রীজের উচ্চতা (নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স) বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৬২ এর স্থলে ১২.২ মিটার করা জন্য নির্দেশনা দিলে ব্রিজের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এ ব্রিজের প্রবেশমুখের অদূরে তুরাগ নদীর উপরে কিছুদিন পূর্বে গাবতলী-আমিনবাজারের ১২ লেন ব্রিজের নির্মাণ (নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স) ৭.৬২ মিটার, টঙ্গী-আশুলিয়া প্রত্যাশা ব্রিজ ৭.৬২ মিটার এবং বিআরটিএ টঙ্গী ব্রিজ ৭.৬২ মিটার ও কামারপাড়া ব্রিজ, টঙ্গী রেলওয়ে ব্রিজ ৫.৫ মিটার নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স নিয়েই নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান, ‌’উপরোক্ত ব্রিজগুলোর মাঝে এই কাউন্দিয়া ব্রিজটির উচ্চতা ১২.২ মিটার ধরে নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অবান্তর এবং অবাস্তব। যা কোন মতেই গ্রহণযোগ্য হবে না’। এই উচ্চতা বিবেচনায় ব্রিজ নির্মাণ করলে প্রকল্প ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ অকারণে ব্যয় হবে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অহেতুক অর্থ অপচয় অত্যন্ত দুঃখজনক। দুই সংস্থার রশি টানাটানিতে কাউন্দিয়াবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’। সুতরাং কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ২২ গ্রামের ৩ লাখ মানুষের প্রাণের ব্রিজটি নির্মাণে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এগিয়ে আসবে বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফিরোজ আলম তালুকদার রোববার দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ‘ব্রিজটির কাজ অবিলম্বে শুরু হওয়া দরকার। কাউন্দিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখন ব্রিজের উচ্চতা জটিলতায় আটকে গেছে। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি দিবেন’। রোববার রাতে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, ‘ এই ব্রিজটি ২০১৫ সালে ৭.৬২ মিটার উচ্চতা বিবেচনায় নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স প্রদান করা হয়। ব্রিজের কাজ দীর্ঘ দিনেও শুরু হয়নি। এরই মধ্যে এই নদীটি তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের প্রজ্ঞাপনও রয়েছে। যে প্রেক্ষিতে ব্রিজের উচ্চতায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সময়ে যে সব ব্রিজ নির্মিত হবে তা এই উচ্চতা বিবেচনায় (নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স) অনুমোদন নিতে হবে’।