মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মহিলা অধিদফতরে চলমান কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের কাজে বর্তমানে মারাত্মক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি এবং অতিরিক্ত স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার দোসর সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং সিমিন হোসেন রিমির অত্যন্ত আস্থাভাজন দুর্নীতিবাজ প্রকল্প পরিচালক আলমগীর হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে দৈনিক পাঞ্জেরীর আজকের প্রতিবেদন। প্রকল্পের অধীনে সারা দেশে এরই মধ্যে ৪ হাজার ৮৮৩টি কিশোর কিশোরী ক্লাব গঠন করা হয়েছে। দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭০ জন কিশোর কিশোরীকে। আত্মরক্ষার্থে তাদের কারাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও তারা প্রশিক্ষণ পেয়েছে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, জেন্ডার ভায়োলেন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও আবৃত্তি এবং সংগীত বিষয়ে। এ প্রকল্পের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছিলো। তবে প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক মাস বাকী থাকলেও প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন হওয়ায় কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, উপ-প্রকল্প পরিচালকের (ডিপিডি) চেয়ে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) জুনিয়র হওয়ায় এই প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ এবং অস্থিরতা বিরাজ করছে। ফলে প্রকল্পের কাজও অনেকটা থমকে গেছে।সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, বছরের শুরুর দিকে এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ইকবাল হোসেন। তিনি প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি এই প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) লিয়াকত আলীকে প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। ডিপিডি প্রকল্পের প্রায় শুরু থেকেই এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন। ফলে প্রকল্পের সকল কার্যক্রম তার নখদর্পনে। তবে গত ৩ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আলমগীরকে কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক করা হয়। এর মধ্যে লিয়াকত আলী ২১তম বিসিএস কর্মকর্তা। অপরদিকে যুগ্ম সচিব আলমগীর ২২তম বিসিএস’র। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপিডি লিয়াকত আলীর চেয়ে পিডি মোঃ আলমগীর জুনিয়র। এর ফলে প্রকল্পে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ডিপিডি এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। প্রকল্পের ডিপিডি মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, আমি ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তা। অথচ পিডি ২২তম ব্যাচের। সিনিয়র ও জুনিয়রের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিষয়টি জানিয়েছি।
জানা গেছে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলা অধিদফতরের অধীনে চলমান এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সাল থেকে। প্রথম ধাপে ২০২১ সালে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সময় বৃদ্ধির পরেও চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন ও ৩৩০টি পৌর সভার ৪ হাজার ৮৮৩টি ক্লাব গঠনের লক্ষ্য ছিল। সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রান্তিক কিশোর কিশোরীদের জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স প্রতিরোধে সক্ষম করা এবং সেক্সুয়াল এন্ড রিপ্রডাক্টিভ হেলথ এন্ড রাইটস বিষয়েও সচেতনতা বৃদ্ধি মূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের অবস্থানকে দৃঢ় করা সম্ভব হয়েছে। কিশোর কিশোরী ক্লাবের মাধ্যমে বিভিন্ন সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনায়ন করাও এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। জানা গেছে, এরই মধ্যে সারা দেশে ৪ হাজার ৮৮৩টি কিশোর কিশোরী ক্লাব গঠন করা হয়েছে। এসব ক্লাবের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কিশোর কিশোরীদের যুক্ত করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, মাদকাশক্তি ও সমাজ বিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে ক্লাবের সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সমস্যা বিষয়ে সচেতনতাকরণ ও নৈতিক চর্চার মাধ্যমে কিশোর কিশোরীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সোস্যাল চেঞ্জ মেকার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সুতরাং প্রকল্পে গতি সঞ্চার করতে সিনিয়র ও জুনিয়রের মাঝে সৃষ্ট জটিলতার অবসান একান্ত জরুরী বলে সচেতনমহল মনে করেন।

