নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাসব্যাপী ২৩তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (সিআইটিএফ)। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র আয়োজনে এ মেলা বিকেলে উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ। এবার মেলায় অংশ নিচ্ছে দেশি বিদেশি ৩৮টি প্যাভিলিয়ন ও ২৩৯টি স্টলসহ চারশতাধিক প্রতিষ্ঠান।
সোমবার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদে চেম্বার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলা কমিটির চেয়ারম্যান মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম এসব তথ্য জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চট্টগ্রাম চেম্বারের অনেক কার্যক্রমের মধ্যে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অন্যতম। ১৯৯৬ সাল থেকে এসএমই খাতের বিকাশে এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এই মেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অংশ গ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যসমূহের গুণগত মান, উৎপাদন খরচ ইত্যাদি তুলনামূলক বিচারের মাধ্যমে রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
মেলা কমিটির চেয়ারম্যান জানান, বিগত ২২ বছরের ধারাবাহিকতায় দেশীয় শিল্পের প্রসার ও মানোন্নয়নে চট্টগ্রাম চেম্বার এই আয়োজন করে আসছে। চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম থেকে যাত্রা শুরু করে পলোগ্রাউন্ডের সুবিশাল বিস্তৃত মাঠ আজ এই মেলার প্রাঙ্গন।
পাশাপাশি দেশীয় রপ্তানীমূখী কিছু বৃহৎ শিল্প, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এবং কিছু বিদেশি পণ্যের সমন্বয়ে এই মেলায় ক্রেতা সাধরণের সুবিধার্থে পণ্যের পসরা সাজানো হয়। গত বছর মেলায় প্রায় ৫০ লক্ষ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। তাই শীতের শেষে নগরবাসীর সার্বিক চাহিদা মনে রেখে এই সময়ে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কেননা চট্টগ্রাম বাণিজ্য মেলা বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর কেনা-কাটার পাশাপাশি বিনোদন ও আনন্দের এক উপলক্ষ এনে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চার লাখ বর্গফুটের সুবিশাল পরিসরে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে ১২টি প্রিমিয়াম গোল্ড প্যাভিলিয়ন, দু’টি মিনি মেগা প্যাভিলিয়ন, ৮টি প্রিমিয়ার এবং ১৬টি স্ট্যান্ডার্ড প্যাভিলিয়ন, ১২৭টি প্রিমিয়ার মেগা বুথ, ৫০টি মেগা বুথ, ১০টি প্রিমিয়ার গোল্ড বুথ, ৩৮টি প্রিমিয়ার বুথ, ১৪টি স্ট্যান্ডার্ড বুথ ও তিনটি রেস্টুরেন্ট থাকছে মেলায়। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১০ টাকা।
অন্যান্যবারের মতো এবারও মেলার কান্ট্রি পার্টনার হিসেবে সাড়ে ৪ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে মেলায় অংশ নিচ্ছে থাইল্যান্ড। পাশাপাশি নিজস্ব পণ্য নিয়ে ভারত, ইরান, তর্কিস্তান, পাকিস্তান মেলার প্রায় ২৩ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে অংশ নিচ্ছে।
মেলার সার্বিক নির্বাপত্তায় পুলিশ ও র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা হিসেবে সিসিটিভি ক্যামরার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবক্ষেণে রাখা হবে। এছাড়া মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য তথ্য কেন্দ্র, মেলা প্রাঙ্গণে ফ্রি ওয়াই ফাই সুবিধা, নিরাপদ আর্থিক লেনদেনের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের অস্থায়ী শাখা এবং বিকাশে এটিএম বুথ স্থাপন করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, সহ সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ প্রমুখ।

